ক্যান্সার ও হৃদরোগ প্রতিরোধ কলার মোচা, রয়েছে আরো গুণ

 চিকিৎসা ডেস্ক :

স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী একটি ফল হচ্ছে কলা। যা সকালের নাস্তায় অনেকেই খেয়ে থাকেন। খেতেও দারুণ সুস্বাদু। তবে শুধু কলাই নয়, পুষ্টিগুণে ভরা কলার মোচাও। যা খেতেও ভীষণ সুস্বাদু।

জানলে অবাক হবেন যে, কলায় যেসব পুষ্টিগুণ থাকে সেসব পুষ্টিগুণ কলার মোচায়ও থাকে। এছাড়াও এতে আরো থাকে মেন্থলের নির্যাস। যা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এতে আরো থাকে উপকারী ফেনলিক অ্যাসিড।

সবজি হিসেবে রান্না করে কলার মোচা খাওয়া যায়। এছাড়াও মোচা দিয়ে তৈরি করা যায় চপ, ঘণ্ট, কালিয়া, বড়া ইত্যাদি। গরম ভাতের সঙ্গে মোচার যেকোনো পদ খেতে বেশ সুস্বাদু। এর গুণের তালিকাও কিন্তু কম দীর্ঘ নয়।

মোচার পুষ্টিগুণ

প্রতি ১০০ গ্রাম মোচায় থাকে – ভিটামিন ‌এ, ভিটামিন বি সিক্স, ভিটামিন সি ৪২০ মিলিগ্রাম; ভিটামিন ই, প্রোটিন ১.৭ গ্রাম; ক্যালসিয়াম ৩২ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৪২ মিলিগ্রাম, লৌহ ১.৬ মিলিগ্রাম, ফ্যাট ০.৭ গ্রাম, পটাশিয়াম ১৮৫ মিলিগ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৫.১ গ্রাম, রিবোফ্লেবিন .০২ মিলিগ্রাম, আঁশ ১.৩ গ্রাম, থায়ামিন .০৫ মিলিগ্রাম।

মোচা উপকারী এবং এটি বেশ সহজলভ্যও। বাজারে সবজির প্রায় সব দোকানেই মোচার দেখা পাবেন। এতে থাকা প্রচুর আয়রন হাড়ের গঠনে কাজ করে। এটি নারীদের জন্য বিশেষ করে গর্ভবতীদের জন্য অনেক বেশি উপকারী। শুধু আমাদের দেশে নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই কলার মোচা জনপ্রিয়। জেনে নিন কলার মোচার উপকারিতা সম্পর্কে-

মন ভালো রাখে

যারা বিষণ্নতা বা হতাশায় ভুগছেন তারা পাতে রাখতে পারেন কলার মোচা। কলার মোচায় আছে ম্যাগনেশিয়াম। এটি হতাশা, উদ্বেগ ইত্যাদি কমাতে সাহায্য করে। এটি মন ভালো রাখে। বিষণ্নতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে।

ডায়াবেটিসে উপকারী

যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন তাদের জন্য উপকারী সবজি হতে পারে কলার মোচা। এতে থাকা ফেনলিক অ্যাসিড এবং অন্যান্য বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদান রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয় ডায়াবেটিসও।

ক্যান্সার ও হৃদরোগ প্রতিরোধ করে

কলার মোচা মারাত্মক সব অসুখ প্রতিরোধ করতে পারে। এতে থাকে ফেনোলিক অ্যাসিড, ট্যানিন, ফ্লেভানয়েড ও নানা ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। যা শরীরের ফ্রি-র‍্যাডিকেল ধ্বংস করে। এর ফলে ক্যান্সার প্রতিরোধ সহজ হয়। সেইসঙ্গে ভালো থাকে হৃৎপিণ্ডও।

পিরিয়ড স্বাভাবিক রাখে

অনেক নারী অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যায় ভোগেন। এই চক্র ঠিক রাখার জন্য নিয়মিত খেতে পারেন কলার মোচা। কলার মোচায় থাকা বিভিন্ন উপকারী উপাদান পিরিয়ড চলাকালীন ব্যথা কমায়। সেইসঙ্গে এটি প্রোজেস্টেরন উত্‍পাদন বৃদ্ধি করে রক্তস্বল্পতা কমায়।

ওভারিয়ান সিন্ড্রোম সমস্যায় কার্যকরী

বর্তমানে অনেক নারীর পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম বা পিসিওএস দেখা দেয়। এ ধরনের সমস্যায় সন্তানধারণসহ স্বাভাবিক অনেক কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিয়মিত কলার মোচা খেলে তা পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম সারাতে কাজ করে। সেইসঙ্গে এটি কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটে ফোলাভাব ইত্যাদিও দূর করে।

Please follow and like us:
Tweet 20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)