বুড়িগোয়ালিনীতে প্রকৃত মৎস্য চাষীদের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

শ্যামনগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তুষার মজুমদার ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন লীফ ফার্মার বিশ্বজিৎ মন্ডল ও তাদের সহযোগী দালালদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব তহবিল থেকে উপকূলীয় প্রান্তিক মৎস্য চাষীদের প্রণোদনা তালিকা প্রণয়নে অর্থের বিনিময়ে, স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি ও প্রকৃত মৎস্য চাষীদের বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) বিকাল ৫ টায় প্রকৃত প্রান্তিক মৎস্য ও ঘের ব্যবসায়ীদের আয়োজনে অত্র ইউনিয়নের কলবাড়ী বাজারে কয়েক শতাধিক ঘের ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিতব্য উক্ত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য জি.এম গোলাম মোস্তফা।

৭নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. কামরুজ্জামান মোড়ল এর সঞ্চালনায় উক্ত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ৪নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য জি.এম আব্দুর রউফ, ঘের ব্যবসায়ী আব্দুল সাত্তার মোড়ল, আব্দুল আলিম, মোমিনুর রহমান প্রমুখ।

স্থানীয় ঘের ব্যবসায়ী সাত্তার মোড়ল বলেন, আম্পান এবং বুলবুলে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু আমাদের ওয়ার্ডের মাত্র ৭জন ঘের ব্যবসায়ী কে বিকাশের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছে। আমি একজন প্রকৃত ঘের ব্যবসায়ী। আমার নামীয় নামে উক্ত তালিকায় একজন ঘের ব্যবসায়ীর নাম থাকলেও সেখানে আমার বা আমার পরিবারের কোন বিকাশ নম্বর নেওয়া হয়নি।

মোমিনুুর রহমান বলেন, ইউনিয়ন লীফ ফার্মার বিশ্বজিৎ মন্ডল বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এর ভাই। এই বিশ্বজিৎ মৎস্য চাষী ও ঘের ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক স্বজনপ্রীতি করেছে। তার আত্মীয়-স্বজন কেউই এই তালিকা থেকে বাদ পড়েননি। যাদের অধিকাংশই কোন ঘেরের মালিক নয়।

ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান জি.এম আব্দুর রউফ বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে আমাদের এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন পরিলক্ষিত হলেও কিছু কিছু দালাল ও চাটুকারদের কারনে আমাদের মতো জনপ্রতিনিধিরা বদনামের স্বীকার হন। আমার ৪নং ওয়ার্ডে হিন্দু-মুসলমান সকলের বসবাস। কিন্তু এই তালিকা প্রণয়নে ইউনিয়ন লীফ ফার্মার বিশ্বজিৎ মন্ডল মোট ১০৬ জনের মধ্যে ৯৫ জন হিন্দু পরিবার এবং মাত্র ৯ জন মুসলিম পরিবারকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হয়েছে। আর যে টাকাগুলো পাঠানো হয়েছে তার অধিকাংশই ধনাঢ্য পরিবারের এবং ঘের ব্যবসায়ী নয়। আবার অনেকে যারা মৎস্য দপ্তর বা তাদের দালাল শ্রেণি- তাদেরকে উৎকোচ বা ভাগবন্টনের মাধ্যমে তালিকা প্রণয়ন করেছে। আমরা বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

Please follow and like us:
fb-share-icon
Tweet 20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)