বাংলাদেশ ৩ রোগের ঝুঁকিতে

চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের মানুষ প্রধানত তিন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে। এ তিন ঝুঁকি হলো ইনফ্লুয়েঞ্জা, জীবজন্তুতে থাকা ওষুধ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া এবং নিপাহ ভাইরাস।

বুধবার রাজধানীতে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি), ইউনিসেফসহ বেশ কয়েকটি দেশি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক স্বাস্থ্য সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন।

‘ওয়ান হেলথ’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে জনস্বাস্থ্য ও পশুস্বাস্থ্য নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে বিশেষজ্ঞরা জানান, জীবজন্তু ও পশুপাখি থেকে মানুষের মধ্যে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আগের চেয়ে বেড়েছে। বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১ হাজার ২০০ মানুষ এবং ৪০০ জীবজন্তু বসবাস করে। জীবজন্তু ও মানুষের অসুখকে তাই আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সরাসরি জীবজন্তু ও পশুপাখির কিছু রোগে এখন মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। এর মধ্যে আছে অ্যানথ্রাক্স, জিকা, নিপাহ, ওয়েস্ট নিল ভাইরাস, সোয়াইন ফ্লু, বার্ড ফ্লু, মার্স করোনারি ভাইরাস।

এ প্রসঙ্গে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান ব্যাখ্যা করে বলেন, বিশ্বে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মহামারি হয়েছে ইনফ্লুয়েঞ্জার জন্য দায়ী ভাইরাসের কারণে। ইনফ্লুয়েঞ্জার ভাইরাস অতি দ্রুত চরিত্র পরিবর্তন করে। আবার একাধিক ভাইরাস একীভূত হয়ে (মিউটেশন) নতুন ভাইরাসের আবির্ভাব ঘটাতে পারে।

তিনি জানান, কিছু অ্যান্টিবায়োটিক আছে, যেগুলো জীবজন্তু ও মানুষের জন্য ব্যবহার করা হয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে মানুষ ও জীবজন্তু উভয়ের ক্ষেত্রেই অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পরছে।।

পশু-পাখি থেকে মানব দেহে অ্যান্টিবায়োটিক সঞ্চারিত হওয়া এবং অ্যান্টিবায়োটিক রেজিষ্টান্স এর ভয়াবহতা প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ডাক্তার ফায়েজুল হাকিম রেডিও তেহরানকে বলেন, এ ব্যাপারে চিকিৎসক ও রোগীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

তিনি জানান, রোগ প্রতিরোধের উপায় খুঁজে বের করার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবেই গবেষণায় বরাদ্ধ বৃদ্ধি ও গবেষকদের উৎসাহিত করতে হবে।

গতকালের ‘ওয়ান হেলথ’ স্বাস্থ্য সম্মেলনে অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান জানান, বাদুড়ের মাধ্যমে নিপাহ ভাইরাস ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। মানুষ থেকে মানুষেও এই ভাইরাস ছড়ায়। নিপাহতে মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি, প্রায় ৭২ শতাংশ। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিপাহতে বিশেষ কোনো ভয় নেই। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিপাহ ভাইরাসের পরিবর্তন হওয়ার আশঙ্কা করছে।

অনুষ্ঠানে পশুসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. আইনুল হক বলেন, খাদ্য ও দৈনন্দিন অন্যান্য চাহিদা পূরণের জন্য অনেক বন ও জলাশয় ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি মানুষের যাতায়াত ও জীবজন্তুর স্থানান্তর বেড়েছে। এতে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ইশতিয়াক উদ্দীন আহমেদ মন্তব্য করেন, উন্নয়নের কথা বলে কখনোই প্রতিবেশ ও পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি তিনি বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে অতিথি পাখির সংস্পর্শে আসছে স্থানীয় হাঁস বা দেশি পাখি। এতে দুই দিকেই ঝুঁকি বাড়ছে। এ দেশের হাঁসের কোনো রোগ অতিথি পাখির মাধ্যমে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়াতে পারে। আবার অতিথি পাখির রোগে আক্রান্ত হতে পারে এ দেশের পাখি।

এদিকে, বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসনের উদ্যোগে গতকাল রাজধানীতে আয়োজিত ভিন্ন একটি সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা অভিমত দিয়েছেন, মানবদেহে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিষ্ট্যান্স বা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী অবস্থা এ মুহূর্তে মানবজাতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। ক্রমেই ব্যবটেরিয়ার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকরিতা কমে যাচ্ছে। এ অবস্থা রোধ করতে না পারলে আগামীতে হাতের নাগালে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ থাকার পরেও চিকিৎসকের চোখের সামনেই ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত রোগে যন্ত্রণায় মানুষের মৃত্যু ঘটবে। কারো কিছু করার থাকবে না।

সূএ : জুম বাংলা

Please follow and like us:
Tweet 20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)