বেনাপোল ও শার্শা সীমান্তে মাদক চোরাচালান বৃদ্ধি পেয়েছে

সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে চলমান মাদক বিরোধী অভিযান অনেকে আটক অনেকে বন্ধুক যুদ্ধে নিহত হলে ও থামেনি মাদক ব্যবসা। প্রতিদিন মাদক সীমান্তের কোন না কোন পয়েন্ট দিয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখে ধুলা দিয়ে প্রবেশ করছে এলাকার সচেতন মহল, আইনশৃঙ্খলা বহিনীর লোকের সাথে আলাপ করে জানা গেছে।

বিভিন্ন সূত্র মতে শার্শা ও বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে আসে ভারত থেকে মাদকদ্রব্য। এর মধ্যে শার্শা উপজেলায় রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় স্থল বন্দর বেনাপোল । সবচেয়ে বেশী মাদক ঢুকছে বেনাপোল বন্দর সংলগ্ন পুটখালী, সাদিপুর ও রঘুনাথপুর সীমান্ত দিয়ে। শার্শার রুদ্রপুর. গোগা, পাচভুলোট সীমান্ত দিয়ে প্রবেশও করে ফেনসিডিলের মত বড় বড় চালান। সীমান্তের গ্রাম গুলোর যুবকদের একটা বড় অংশ মাদকদ্রব্য বহনের কাজটি করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বেনাপোলের পুটখালী সীমান্ত দিয়ে আনা মাদক অনেক সময় ঘুর পথে পুটখালী গোগা বাগআঁচড়া হয়ে ঝিকরগাছার বাকড়াবাজার দিয়ে মনিরামপুরের ঝাঁপা বাজারে পৌছায়। পরে সেখান থেকে সেগুলো যশোর এর পুলেরহাটে নেওয়া হয়।

অপরদিকে শার্শার ধান্যখোলা শিকারপুর সীমান্তের মাদকদ্রব্য শার্শার গোড়পাড়া বাজার হয়ে ঝিরগাছার বেনেয়ালী থেকে যশোর – বেনাপোল সড়ক ধরে যশোর শহরে পৌছায়।

শার্শা ও বেনাপোলে রয়েছে মাদক ব্যবসায়িদের শক্ত সিন্ডিকেট। এদের বিরুদ্ধে কথা বললে কারো নিস্তার নাই। এরা বড় বড় রাজনীতি বিদদের নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় দাপাটের সাথে চলাফেরা করে। অথচ এসব লোকের পরিবার সহ ভাই বোন ও  স্বজন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। বেনাপোলের রেল ষ্টেশন এলাকায় চলে দিনে দুপুরে মাদকের ব্যবসা। এখানে মাঝে মধ্যে সরকারী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর এর কর্মকর্তা সহ বিজিবি ও পুলিশ কিছু লোককে মাদক সহ আটক করলেও তারা আইনের ফাকফোকর দিয়ে বের হয়ে এসে আবারও করে একই কাজ। এছাড়া এসকল জায়গা থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা খুচরা ও পাইকাররা ফেনসিডিল ক্রয় করে নিয়ে যায়।

সম্প্রতি পাচভুলোট গ্রামের ইকবাল হোসেন ৫ শত পিছ ইয়াবা গোগার হান্নানের ছেলে শরিফুল ৫৯০ পিছ ইয়াবা কাগমারি গ্রামের মিন্টু ১৭০ পিচ ফেনসিডিল বেনাপোল পৌর গেট থেকে একটি মোটর সাইকেল সহ ৮১ পিচ ফেনসিডিল, শিকারপুর থেকে ৭৭৬ পিছ ফেনসিডিল, আমড়াখালী চেকপোষ্টে তামিম আহমেদ নামে একজন কিশোরকে ৭৫ পিছ ফেনসিডিল সহ বিজিবি আটক করে।

এছাড়া কয়েক দফায় বড় বড় চালানের গাজাও উদ্ধার করেছে বিজিবিও পুলিশ। শার্শার গোগা থেকে মফিজুর ও জিয়াউর রহমান এর নিকট থেকে ৫০০ পিছ ইয়াবা ও ২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে বিজিবি। এরকম হাজারো মাদক দ্রব্য উদ্ধার হচ্ছে। তবে বেশীর ভাগ চলে যাচ্ছে দেশের অভ্যান্তরে।

বেনাপোল বন্দরের সাদিপুর, নামাজ গ্রাম, কাগমারি, ভবেরবেড়, দুর্গপুর রোডে, কাগজপুকুর রঘুননাথপুর, সরবানহুদা, ঘিবা গ্রামে প্রকাশ্যে ফেনসিডিল বিক্রি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর সাথে কিছু আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অসাধৃু কর্মকর্তা কর্মচারীদেরও সহযোগিতা রয়েছে বলে সুত্র দাবি করে।

মাদক চোরাচালানীদের ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বার বার হুশিয়ারী উচ্চারন করলেও মাদক আসা বন্ধ হচ্ছে না। এ ব্যাপারে বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন খেলাধুলায় মিলবে জয় মাদক একেবাওের নয় এ শ্লোগানে যুব ও কিশোরদের ফিরিয়ে আনার জন্য ও বার বার চেষ্টা করেছে। তিনি এজন্য বেনাপোল পৌর এলাকায় ৯ টি ওয়ার্ডে খেলাধুলার জন্য ১৮ টি ক্লাব করেছেন।

কিন্তু এক ধরনের অসাধুরা কিছু রাজনৈতিক লোকের ছত্র ছায়ায় দাপটের সাথে ব্যবসা করে যাচ্ছে।
মাদক ব্যবসায়িদের আটক এর জন্য যশোর, শার্শা-১ আসনের এমপি শেখ আফিল উদ্দিনও বিভিন্ন মিটিংয়ে তাগিদ দিলেও থামছে না মাদক আসা।

বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মামুন খান বলেন, মাদক ব্যবসায়িদের সাথে কোন আপোষ নাই। যে যেখানে যে অবস্থায় মাদক ব্যবসায়িদের তথ্য দিবেন তাৎক্ষনিক সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হবে। কারন মাদক আমাদের ছেলে মেয়ে ও যুব সমাজকে নৈতিক অবক্ষয়ের মধ্যে নিয়ে যাচ্ছে।

বেনাপোল আইসিপি ক্যাম্পের সুবেদার মিজানুর রহমান বলেন, বড় সীমান্ত এলাকা; বিজিবি এখানে মাদক চোরাচালানিদের ব্যাপারে সব সময় সজাগ রয়েছে। তবে জনগনকেও সচেতন হয়ে আমাদের সাহায্য করতে হবে। তবেই শত ভাগ নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Please follow and like us:
Tweet 20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)