কাকবাসিয়া বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটিসহ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সংবাদ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কাকবাসিয়া বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠন কার্যক্রমসহ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে উক্ত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন, বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ভুক্তভোগী পারভীন সুলতানা।

তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ঐতিহ্যবাহী বঙ্গবন্ধু বিদ্যালয়টি ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠা কালিন সময়ে বঙ্গবন্ধু নামে নাম করন করা হয়। আমার শ্বশুর মৃত হাজী নেয়ামত আলী গাজী ও আমার ছোট চাচা শ্বশুর মৃত কেরামত আলী গাজী এবং হাজারীদাসী তাদের নিজের নামীয় পৈত্তিক জমি দান করে অত্র বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু অত্যান্ত দুঃখের বিষয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু স্ব-পরিবারে নিহত হওয়ার পর তৎকালিন প্রধান শিক্ষক মরহুম আব্দুস সামাদসহ অত্র এলাকার জামাত, বিএনপির কর্মীরা বঙ্গবন্ধু নাম মুছে ফেলে “কাকবাসিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়” নামে বিদ্যালয়টি পরিচালনা শুরু করেন এবং আমার শ্বশুর, চাচা শ্বশুর ও হাজারীদাসীকে স্কুল থেকে চিরতরে বের করে দেন। এরপর ১৯৯৬ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর আমার স্বামী শিহাবুদ্দীন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ার পর পুনরায় বঙ্গবন্ধু নাম করনের চেষ্টা শুরু করেন।

একপর্যায়ে ২০০১ সালে জামাত-বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আমার স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক মামলা দেয়া হয়। ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ পুনঃরায় সরকার গঠন করলে সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ আ.ফ.ম রুহুল হক এমপির ডিও লেটারের মাধ্যমে পুনঃরায় নাম পরিবর্তনের কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২০১১ সালের ৬ জানুয়ারী প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরে অনুমোদিত হয়ে বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে বিদ্যালয়টির আবারো নামকরন করা হয়। কিন্তু যখন বিদ্যালয়টি জাতীয় করন করা হবে ঠিক তখনই অত্র এলাকার জামাত-বিএনপির একটি কুচক্রী মহল আবারো স্বরব হয়ে উঠেছে যাতে এটি সরকারী না হয়। বিদ্যালয়ের সামনের জমিতে এই চক্রের অন্যতম সদস্য সামছুর রহমান অবৈধভাবে দ্বিতল ভবন তৈরী করেছেন সেটা বিদ্যালয় এবং সরকারী স¤পদের উপর নির্মিত। এই অবৈধ স্থাপনা টিকিয়ে রাখার জন্য তিনি আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে আমার সম্মান হানির চেষ্টা করেছেন। সামছুর রহমানের দাবী বিদ্যালয়ের জমি তাকে হারি দিতে হবে যেটা আমি আমার একার মতে দিতে পারি না। কারণ আমার ব্যাক্তিগত স¤পত্তি নয় তাই কমিটির মিটিং ছাড়া কোন কিছুই করা সম্ভব নয়। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে যে মামলার কথা বলা হয়েছে সেটা আমাদের শরীকদের সাথে জায়গা জমি নিয়ে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে।

২০০১ সালে আমার স্বামী ড. শিহাবুদ্দীন যখন পি.এইচ.ডি ডিগ্রীর জন্য ভারতে অবস্থান করে তখন আমাদের শরীক রেজাউল করিম আমাদের ১৩ বিঘায় একটি ঘের জবর দখলের চেষ্টা করে। আমি বাদী হয়ে সে সময় আশাশুনি থানায় একটা অভিযোগ করলে তারা আমার বিরুদ্ধে দেওয়ানী মামলা রুজু করেন। কিন্তু তদন্ত করলে জানা যাবে যে মামলা করার তার কোন অধিকার নেই। এছাড়া ১৯৯৮ সালে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রানালয়ের ০৬/০৮/১৯৯৮ তারিখের স্মারক নং-ও.এম-১০২ বিশেষ ৯৭ (অংশ-১) ১২৪০৪/৬০০ বিশেষ প্রজ্ঞাপন পত্র মোতাবেক ৩০% মহিলা কোটায় আমার নিয়োগ। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে গাইবান্ধা সরকারী কলেজে থেকে বি.এ (পাশ) দ্বিতীয় শ্রেনীতে উর্ত্তীন হই। এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এম.এ (পাশ) করি।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৫০০ শতাধিক ছাত্র/ছাত্রী রয়েছে। বিদ্যালয়ের পাশের হারও খুব ভাল। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি বিদ্যালয়ের জমি অবৈধ দখলে রাখতে এবং বিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি এ বিদ্যালয়য়ের সুনাম নষ্ট করার জন্য যারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Please follow and like us:
Tweet 20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)