আম্ফান: বঙ্গোপসাগরে এরকম ঝড় শতাব্দীতে প্রথম বলে ভারতে হুঁশিয়ারি

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আম্ফান সোমবার দিনের প্রথম ভাগেই সর্বোচ্চ তীব্রতার একটি ‘সুপার সাইক্লোনে’ পরিণত হয়েছে বলে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে। বঙ্গোপসাগরে এরকম ঝড় এই শতাব্দীতে প্রথম বলে হুঁশিয়ারি করেছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ।

এই ঘূর্ণিঝড় বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা নাগাদ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত দীঘা থেকে শুরু করে বাংলাদেশের হাতিয়া দ্বীপের মধ্যবর্তী সমুদ্রতটের কোনো একটি জায়গা দিয়ে উপকূলে আছড়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আবহওয়াবিদরা জানান, তীব্রতার মাপকাঠিতে এই ঘূর্ণিঝড় এর মধ্যেই অনেক রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

‘আম্ফান’ মোকাবিলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দেশটির ন্যাশনাল ডিজ্যাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন।

দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ‘আম্ফান নামের ঘূর্ণিঝড়টি যে আজ সোমবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ একটি ‘অতি প্রবল’ বা ‘এক্সট্রিমলি সিভিয়ার’ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে, ইন্ডিয়ান মেটিওরলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট তা টুইট করে জানিয়েছিল সকালেই।

এর মাত্র ঘন্টা কয়েক পরেই তারা আবার টুইট করে ঘোষণা করে – বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ সেটি একটি সুপার সাইক্লোনে বা সর্বোচ্চ তীব্রতার ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে।

কোথায়, কবে আঘাত হানবে:
দিল্লিতে ভারতের আবহাওয়া বিভাগের মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানান, আম্ফান নামে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া এই ঘূর্ণিঝড় থেকে ২০ মে বুধবার আমরা সবচেয়ে বড় বিপদের আশঙ্কা করছি। সেদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে কোনো একটা সময় এটা উপকূলে আছড়ে পড়বে। মঙ্গলবার থেকেই উপকূলীয় অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টি শুরু হবে। বুধবার সকাল থেকে তার সঙ্গে যোগ হবে তীব্র ঝোড়ো বাতাস।

ঝড়টি এখন উত্তর-উত্তর পূর্ব অভিমুখে এগোচ্ছে, বুধবার এটি পশ্চিমবঙ্গের দীঘা আর বাংলাদেশের হাতিয়ার মাঝামাঝি কোনো একটা এলাকা দিয়ে সমুদ্রতট অতিক্রম করবে।

আছড়ে পড়ার সময় বাতাসের বেগ ঘন্টায় ১৫৫ থেকে ১৬৫ কিলোমিটারের মতো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতের ন্যাশনাল ডিজ্যাস্টার রেসপন্স ফোর্সের অন্তত ৩৭টি দলকে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশাতে এই ঝড়ের মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে ওই বাহিনীর প্রধান জানিয়েছেন।

ঠিক বছরখানেক আগেই ওড়িশাতে আছড়ে পড়েছিল সাইক্লোন ফণী, তবে এবার আম্পানের আঘাত থেকে ওই রাজ্যটি বেঁচে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

কিন্তু ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূলের একটা বিস্তীর্ণ অংশ নিয়ে তেমন একটা আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না – যার একটা বড় কারণ আম্ফানের তীব্রতা।

কেন আম্ফানকে নিয়ে ভয়:
ভারতের বেসরকারি আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থা স্কাইমেটের প্রধান মহেশ পালাওয়াট জানান, এই শতাব্দীতে প্রাক-মনসুন পর্বে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া এটাই কিন্তু প্রথম সুপার সাইক্লোন। এর আগে ২০০৭ সালের জুনে আরব সাগরে সুপার সাইক্লোন ‘গোনু’ তৈরি হয়েছিল – যেটা পরে ওমানের দিকে সরে যায়।

আম্ফান এর মধ্যেই ঘন্টায় দেড়শো কিলোমিটারেরও বেশি গতিবেগসম্পন্ন ঝোড়ো বাতাস সঙ্গে ‘প্যাক’ করে নিয়েছে। মাত্র চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে এটা একটা ঘূর্ণিঝড় থেকে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে, সেটাও একটা রেকর্ড।

উপকূলের কাছাকাছি এলে এই ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা সামান্য কমবে, তবে তার পরেও এর বিধ্বংসী ক্ষমতাকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই – জানাচ্ছেন পালাওয়াট।

তিনি বলছিলেন, স্থলভূমি থেকে শুকনো বাতাস এসে সিস্টেমটাকে কিছুটা দুর্বল করে দেয় – এই আম্ফানের ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটবে। কিন্তু তার পরেও এটা একটা প্রচন্ড সাঙ্ঘাতিক ঘূর্ণিঝড় – যার তান্ডব আর ক্ষয়ক্ষতি সাধনের ক্ষমতা মারাত্মক। ফলে পুরো উপকূলীয় এলাকা জুড়েই মানুষকে সাবধান থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যেমন সোমবার বিকেলে সুপার সাইক্লোন মোকাবিলায় উচ্চ পর্যায়ের জরুরি বৈঠকে বসেছেন, পশ্চিমবঙ্গেও রাজ্য সরকার উপকূলীয় এলাকার সাইক্লোন সেন্টারগুলোতে বিপর্যয় মোকাবিলা দল পাঠাতে শুরু করেছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Please follow and like us:
Tweet 20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)