সাতক্ষীরা সদর থানা লকআপ থেকে নিখোঁজ ডাঃ মোখলেছুর হাইকোর্টের নির্দেশে আরো তিনজনের জবানবন্দি নিলেন ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুল্লাহ মাহমুদ

0
945

মনিরুল ইসলাম মনি:

জঙ্গি সন্দেহে তিন দিন থানা লকআপে আটক রাখার পর হোমিও চিকিৎসক সাতক্ষীরা শহরের কুকরালির ডাঃ মোখলেছুর রহমান জনি’র নিখোঁজ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বৃহষ্পতিবার হাইকোর্টের নির্দেশে আরো তিনজনের জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন সাতক্ষীরার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুল্লাহ মাহমুদ।
জবানবন্দি দাতারা হলেন, নিখোঁজ হওয়া ডাঃ মোখলেছুর রহমানের বাবা, বোন ও একজন মানবাধিকার কর্মী।
সাতক্ষীরা শহরের কুকরালির হোমিও চিকিৎসক বর্তমানে সাড়ে তিন মাসের এক সন্তানের জননী ডাঃ জেসমিন নাহার রেশমা জানান, গত বছরের ৪ আগষ্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে অসুস্থ বাবার জন্য বাইসাইকেলে ঔষধ কিনতে যেয়ে লাবনী সিনেমা হলের নীচে একটি ফটোস্টাটের দোকানের সামনে থেকে মোড় সদর থানার উপপরিদর্শক হিমেল তার স্বামী হোমিও চিকিৎসক মোখলেছুর রহমান জনিকে থানায় ধরে নিয়ে যান। ৫,৬ ও ৭ আগষ্ট তিনি শ্বশুর ও স্বজনদের নিয়ে থানা লক আপে তাকে খাবার দিয়েছেন, তার সঙ্গে কথা বলেছেন। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক শেখ ও উপপরিদর্শক হিমেলের সঙ্গে কথা বললে জনির জঙ্গি সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানানো হয়। স্বামীর মুক্তির বিনিময়ে তৎকালিন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক শেখ ও উপপরিদর্শক হিমেল তার কাছে দাবি করেন মোটা অংকের টাকা। ৮ আগষ্ট থানায় গেলে জনিকে পাওয়া যায়নি। পুলিশ জনির অবস্থান সম্পর্কে জানাতে পারেনি। বিষয়টি সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, ক্ষমতাসীন দলের নেতা, মানবাধিকার কর্মী জেলা প্রশাসক ও পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। ২৪ আগষ্ট জানানো হয় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারকে। ২৬ ডিসেম্বর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরী করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। একের পর এক হয়রানি হওয়ার পর বাধ্য হয়ে তিনি চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। স্বামীর খোঁজে সাত মাস ধরে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ধর্না দিয়েছেন তিনি। একপর্যায়ে তার সন্ধান না করতে পেরে গত ২ মার্চ হাইকোর্টে রিট পিটিশন(২৮৩৩/১৭) দাখিল করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মহাপুলিশ পরিদর্শক, উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (খুলনা), সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উপপরিদর্শক হিমেল ও সাতক্ষীরা কারাগারের জেলরকে বিবাদী করা হয়। পরবর্তীতে বিবাদীপক্ষের জবাব ও পুলিশ প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে গত ৯ মে হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ’র সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আগামি ৩ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিমকে নির্দেশ দেন। আগামি ৩ জুলাই এ মামলাটি শুনানীর জন্য কার্যতালিকায় রাখার জন্য বলা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।
মুখ্য বিচারিক হাকিমের নির্দেশে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুল্লাহ মাহমুদ বুধবার প্রথম দফায় রিট পিটিশনকারি জেসমিন নাহার ও বৃহষ্পতিবার দ্বিতীয় দফায় তিনজনের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। আগামি রোববার তৃতীয় দফায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY