আজীবন সম্মাননা নিয়ে যা বললেন ববিতা…

0
75
বিনোদন ডেস্ক:
নায়ক ফারুকের সঙ্গে যৌথভাবে ২০১৬ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন খ্যাতিসম্পন্ন নায়িকা ববিতা। এর আগেও সাতবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নায়িকা তিনি। শিগগির প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে তিনি এই সম্মাননা গ্রহণ করবেন।
ববিতা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পতাকা হাতে নিয়ে এদেশকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করার জন্য আমি বুড়িগঙ্গা থেকে ভলগা হয়ে আটলান্টিক ও মিসিসিপি অতিক্রম করে ঘুরেছি। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের শুরু থেকে সবসময় গল্প, চরিত্র এমনভাবে পছন্দ করে গেছি সেই গল্প, চরিত্র যেন সমাজের উপকারে আসে, দেশের উপকারে আসে। প্রয়োজনে আমি বিনা পারিশ্রমিকেও কাজ করেছি। চলচ্চিত্রে যার অনুপ্রেরণায় আমার পদার্পণ তিনি শ্রদ্ধেয় জহির রাহয়ান।
এরপর যাদের নাম বিশেষত বলতে চাই তারা হচ্ছেন শ্রদ্ধেয় খান আতাউর রহমান, সুভাষ দত্ত, নারায়ণ ঘোষ মিতা, কাজী জহির, শেখ নিয়ামত আলী, আবদুল্লাহ আল মামুন, আমজাদ হোসেন, চাষী নজরুল ইসলাম এবং সর্বোপরি অভিনয়ের বাইরেও যিনি আমাকে পরিবারের একজন মানুষ হিসেবেই সহযোগিতা করেছেন তিনি হচ্ছেন আমাদের নায়করাজ রাজ্জাক।

বিশ্ববরেণ্য অস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। কারণ তার ‘অশনি সংকেত’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমার পরিচিতি গড়ে উঠে। আমার মায়ের মৃত্যুর পর আমাকে আগলে রেখেছেন বড় বোন সূচন্দা আপা এবং সবসময়ই ছায়ার মতো পাশে থেকেছে আমার ছোট বোন চম্পা। আমার একমাত্র সন্তান অনিকই এখন আমার পৃথিবী, আমার বেঁচে থাকার প্রেরণা। অবশ্যই এদেশের সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

কারণ তাদের ভালোবাসা, উৎসাহে আমি নিজেকে এগিয়ে নিয়ে গেছি। হয়েছি আজকের পরিপূর্ণ ববিতা। দেশের সংবাদ মাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, কারণ তারা আমার ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে আমাকে উৎসাহ দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।
বর্তমান সরকার চলচ্চিত্র বান্ধব, শিল্প অনুরাগী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমার গভীর কৃতজ্ঞতা।
এখনো পর্যন্ত যেসব চলচ্চিত্রের জন্য ববিতা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন সেগুলো হচ্ছে-‘বাদী থেকে বেগম’, ‘বসুন্ধরা’, ‘নয়নমনি’, ‘পোকা মাকড়ের ঘর বসতি’, ‘রামের সুমতি’, ‘কে আপন কে পর’ ও ‘হাছন রাজা’।