আশাশুনির বলাবাড়িয়া হাইস্কুলে নিয়োগ বণিজ্য দুর্নীতির প্রতিবাদে মানববন্ধন
জি এম মুজিবুর রহমান, আশাশুনি (সাতক্ষীরা) :
আশাশুনি সদর ইউনিয়নের বলাবাড়িয়া আমজাদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ বন্ধের দাবী মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকালে স্কুল চত্বরে ও সামনের সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত প্লাকার্ড ও ব্যানার সহকারে মানববন্ধন ও সমাবেশে প্রিয়ব্রত সরকারের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, সাবেক সভাপতি জগদীশ চন্দ্র সরকার, সাবেক সভাপতি শৈলেন্দ্র নাথ মন্ডল, সাবেক সভাপতি গোকুল চন্দ্র সানা, সমরেশ সরকার, সত্যেন্দ্র নাথ মন্ডল প্রমুখ।
বক্তাগণ বলেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক দুলাল চন্দ্র সানা ও সভাপতি ভারতীয় ভোটার ইউপি সদস্য মঙ্গল চন্দ্র সরকারের যোগসাজসে সম্পূর্ণ গোপনে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এবং পত্রিকা আশাশুনিতে আসতে দেওয়া হয়নি। তবে লাবণ্য কুমার মন্ডল জানতে পেরে সাতক্ষীরা থেকে পত্রিকা সংগ্রহ করে স্কুল অফিস কক্ষে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির উপস্থিতিতে ২০ আগষ্ট আবেদন পত্র জমা দিতে গেলে নিয়োগের জন্য ১০ লক্ষ টাকা দাবী করেন।
বিষয়টি সে বিভিন্ন ব্যক্তিকে অবহিত করলে সাবেক সভাপতিসহ কয়েকজন স্কুলে গিয়ে জানতে গেলে টাকা লাগবে বলে জানান হয়। এব্যাপারে লাবণ্য ডিসি মহোদয়, জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু না তারা থেমে থাকেনি, ইতিমধ্যে প্রধান শিক্ষকের কন্যা কৃষ্ণা রানী সানা, সভাপতির ভাইপো তন্ময় ও নিমাইয়ের ভাগ্নে জামাই মাধবকে নিয়োগ দিতে আটঘাট বেধে নেমেছেন বলে তারা অভিযোগ করেন। সভাপতির স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে সবাই ভারতীয় বাসিন্দা ও ভোটার তারা সবাই ভারতে থাকে। তিনি নিয়োগ দিয়ে মোটা অংকের অর্থের লেনদেন করছেন এটা এখন সর্বমহলে প্রচার হচ্ছে।
এঘটনাই কেবল নয়, ইতিপূর্বে প্রধান শিক্ষক একজনকে নিয়োগ দিতে ৯০ হাজার টাকা অগ্রিম গ্রহন করেছিলেন। কিন্তু শেষমেষ তাকে নিয়োগ না দিতে পারায় বর্তমান সভাপতি তার বাড়িতে গিয়ে অপদস্ত করে টাকা আদায় করেছিলেন। এছাড়া জমির হারির টাকা আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অনৈতিক আচরণের অভিযোগ করেন তারা।
এছাড়া সভাপতি ইতিপূর্বে ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন উল্লেখ করে আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে অন্যায় অপকর্ম করে যেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন। বক্তাগণ, প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির সন্তান ও ভাইপোসহ নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধে এমপি মহোদয়, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিাসারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।