দেশে ১০ মাসে ৬৪৩ ধর্ষণ : মহিলা পরিষদ

করোনা পরবর্তী সময়ে দেশে মাত্র ১০ মাসে ৬৪৩টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ৮২ শতাংশ ধর্ষণের শিকার নারীর বয়স ২০ বছরের নিচে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের এক গবেষণা জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আজ বৃহস্পতিবার গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে জানানো হয়, ‘নারী ও কন্যার প্রতি যৌন সহিংসতা (ধর্ষণ) ও তরুণ প্রজন্মের সম্পৃক্ততা বিষয়ক’ শিরোনামে এই গবেষণা জরিপের তথ্য তুলে ধরা হয়।

গবেষণার জন্য ৩৮৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে পরিমাণ ও গুণগত পদ্ধতি। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারপারসন খন্দকার ফারজানা রহমান। তিনি বলেন, করোনা পরবর্তী আমাদের জীবনযাত্রায় বিভিন্ন নেতিবাচক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। এরমধ্যে নারীর প্রতি সহিংসতা অন্যতম। করোনার পর মাত্র ১০ মাসে ৬৪৩টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এত অল্প সময়ে অধিকসংখ্যক ধর্ষণের ঘটনা নারীর সমতা ও ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তৈরি করেছে উদ্বেগ।

এ অবস্থায় ৩৮৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে ফারজানা রহমান বলেন, তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, ৮২ শতাংশ ধর্ষণের শিকার নারীর বয়স ২০ বছরের নিচে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৮২ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন যুব জনগোষ্ঠীর যৌন সহিংসতার শিকার হওয়ার প্রবণতা বেশি। অন্যদিকে ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন যুব জনগোষ্ঠীর যৌন সহিংসতার অপরাধী হওয়ার প্রবণতা বেশি। যুব জনগোষ্ঠীর যৌন সহিংসতায় অপরাধী হয়ে ওঠার জন্য বেশ কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

এগুলো হলো- আর্থসামাজিক পটভূমি এবং অপরাধীদের পারিবারিক অবস্থা, সন্তানের প্রতি অভিভাবকদের যথাযথ খেয়াল রাখার অভাব, অতীতে অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া।

এছাড়া ধর্ষণের ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে ভিকটিমকে দোষারোপ করা এবং সেকেন্ডারি ভিকটিমাইজেশন, তদন্ত কর্মকর্তাদের অজ্ঞতা, প্রসিকিউটরদের ভূমিকা পালনে ব্যর্থতা, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার বিলম্ব, ভিকটিম ও মামলার সাক্ষীদের সুরক্ষা প্রদান সম্পর্কিত সীমাবদ্ধতাসহ আরও কয়েকটি প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরা হয় গবেষণা প্রতিবেদনে।

এসময় ধর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে এবং তরুণদের যৌন সহিংসতার ঘটনায় সম্পৃক্ততা কমাতে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন ফারজানা রহমান। তিনি বলেন, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সব সুবিধা এক জায়গায় নিয়ে আসতে হবে, যুবকদের জন্য সৃজনশীল জীবনমুখী কর্মপ্রক্রিয়া চালু করতে হবে, পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের নিরসন করতে হবে। কমিউনিটি সালিশি ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে, নীতিমালা আধুনিকায়নের জন্য নিয়মিত গবেষণা করতে হবে, অভিযুক্তদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে কাজ করতে হবে, মামলা পরিচালনায় জেন্ডার জাস্টিস নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। সংবাদ সম্মেলনের উদ্দেশ্য এবং নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষের কর্মসূচি উপস্থাপন করেন লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা।

Please follow and like us:
Tweet 20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)