ব্যবসায়ি ইউনুসের রিমাণ্ড না’মঞ্জুর আশাশুনির বদরতলা থেকে ধরে এনে দেবহাটা থানার অস্ত্র ও গুলির মামলা

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা :

আশাশুনির বদরতলা মাছের সেট থেকে ধরে এনে দেবহাটার পারুলিয়া জেলেপাড়ায় একটি ওয়ান শুটার গান ও দুই রাউণ্ডগুলিসহ গ্রেপ্তার দেখানোর মামলায় ব্যবসায়ি ইউনুস আলীর রিমাণ্ড না’মঞ্জুর করেছে আদালত।

বুধবার সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম প্রথম আদালতের বিচারক বণ্যা খাতুন শুনানী শেষে এ রিমাণ্ড না’মঞ্জুর করেন। রিমাণ্ড না’মঞ্জুর হওয়া ব্যবসায়ি দেবহাটা উপজেলার নোড়ারচক গ্রামের ইয়াদ আলী মোড়লের ছেলে ইউনুস আলী মোড়ল।

ব্যবসায়ি ইউনুস আলীর পক্ষে রিমাণ্ড শুনানীকালে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. আব্দুল মজিদ (২) জানান, গত ৩ নভেম্বর বৃহষ্পতিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে দেবহাটার নোড়ারচকের ব্যবসায়ি ইউনুস আলীকে আইন বহির্ভুতভাবে আশাশুনি তার বদরতলার মাসের সেট থেকে জোর করে তুলে এনে দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়ার জেলেপাড়ার ইনজামামুল হকের অয়ন ব্রিকস এর সামনে থেকে একটি ওয়ান শুটার গান ও দুটি গুলিসহ ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের (১৯/এ) ধারায় মিথ্যা মামলা দিয়ে ওইদিন বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক হাফিজুর রহমান কোন কারণ ছাড়াই এ মামলায় ইউনুসকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে আদালতে ৫ দিনের রিমাণ্ড আবেদন জানান। রিমাণ্ড শুনানীকালে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা উপপরিদর্শক হাফিজুর রহমান বলেন, খলিষাখালি ভূমিহীনজনপদে এ অস্ত্র ব্যবহারের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

অ্যাড. জিয়াউর রহমান, অহেদ আলীসহ কয়েকজন আইনজীবী জানান,অ্যাড. আব্দুল মজিদ এ সময় বদরতলা বাজাারের বৃহষ্পতিবারের একটি সিসি টিভি ফুটেজ বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ভিডিও ফুটেজে পুলিশ বদরতলা মাছের সেট থেকে কিভাবে ধরে মোটর সাইকেলের মাঝখানে বসিয়ে ব্যবসায়ি ইউনুসকে পারুলিয়ার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তা দেখান। বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন নিউজের কাটিং তুলে ধরা হয়।

আশাশুনি থানার অনুমতি ছাড়াই বদরতলায় ঢুকে দেবহাটা থানা পুলিশের অভিযান চালানো বেআইনি বলে অঅদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন অ্যাড. আব্দুল মজিদ। এরপর ভূমিহীন জনপদের বিরোধের সঙ্গে একজন ব্যবসায়ির অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার দেখানো নিয়ে তদন্তকারি কর্মকর্তার কাছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সংশ্লিষ্ট বিচারক। একপর্যায়ে রিমাণ্ড না’মঞ্জুর করা হয়।

বুধবার আদালতের বারান্দায় মাছ ব্যবসায়ি ইউনুস আলী এ প্রতিবেদককে জানান, আইডিয়ালের পরিচালক পশু চিকিৎসক ডাঃ নজরুল ইসলামের মালিকানা দাবিদার খলিষাখালি বিলের ৩০ বিঘা ও সাবেক চেয়ারম্যানের ছেলে মাসুদের ৮০ বিঘা জমি লীজ নিয়ে তিনি ও উপজেলা যুবলীগ নেতা মিন্নুর রহমান লীজ নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন। ডাঃ নজরুল ইসলাম, কাজী গোলাম ওয়ারেশ, মাসুদসহ জমির মালক দাবিবাররা সাতক্ষীরার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-২য় আদালত থেকে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে হেরে যাওয়ায় জেলা প্রশাসককে ১৩২০ বিঘা জমি নিয়ন্ত্রণে নিতে বলায় সরকারি জমিস হিসেবে গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর ভূমিহীনরাি ওই জমি দখলে নেয়।

এরপর থেকে তিনি ও যুবলীগ নেতা মিন্নুর ডাঃ নজরুল ইসলাম ও মাসুদের কাছে হারির টাকা ফেরৎ চেয়ে আসছিলেন। টাকা দেওয়ার নাম করে লীজ দাতারা নানাভাবে টালবাহানা করে আসছিলেন। গত ৪ নভেম্বর টাকা ফেরৎ দেওয়ার জন্য শেষ সময় নিয়েছিলেন নজরুল ইসলাম ও মাসুদ।

টাকা না দিতে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তাকে বদরতলা মাসের সেট থেকে তুলে এনে পুলিশ পারুলিয়ার জেলেপাড়ার ইনজামামুল হকের ইটভাটার সামনে থেকে ওয়ার শুটার গান ও দুই রাউণ্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলে পাঠিয়েছে। একইভাবে তাকে হয়রানির জন্য পুলিশ আদালতে রিমাণ্ড আবেদন করেছে।

এদিকে ৩ নভেম্বর বৃহষ্পতিবার আনুমানিক দুপুর পৌনে একটার দিকে দ্রুত বিচার আইনের মামলায় খালাস পেয়ে নীচের তলায় আসা মাত্রই ফয়জুল নামের এক গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য শরিফুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম ও মোর্শেদকে ডেকে নিয়ে ভূমিদস্যু কাজী গোলাম ওয়ারেশ, ডাঃ নজরুল ইসলাম, আব্দুর রহিম, সিরাজুলসহ কয়েকজন মেইন রাস্তায় উঠলে তাদের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালাতে পারে এমন কথা বলে নিরাপত্তা দেওয়ার নাম করে আদালতের সামনে অবস্থান করা সাদা রং এর একটি মাইক্রোবাসে তোলে। সেখান থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয় হয়ে বিকেলে দেবহাটা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। গভীর রাতে তাদেরকে একটি কাটা রাইফেল ও পাঁচ রাউণ্ড গুলিসহ দেবীশহরের অনিল স্বর্ণকারের পরিত্যক্ত আমবাগান থেকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ৪ নভেম্বর ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের (১৯/এ) ধারায় ও দস্যুতা আইনের ৩৯৯/৪০২ ধারায় দুটি মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়। খলিষাখালি ভূমিহীন জনপদের বিরোধকে কেন্দ্র করে কথিত ভূমির মালিক গোলাম ওয়ারেশ, ডাঃ নজরুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, আব্দুর রহিম ও আহছানিয়া মিশনের ইকবাল মাসুদসহ তাদের সহযোগিরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দেবহাটা থানায় মিথ্যা মামলা করান বলে অভিযোগ ওঠে।

তবে পুলিশ ও কথিত জমির মালিক ডাঃ নজরুল ইসলাম, ইকবাল মাসুদ পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে মামলায় বর্ণিত ঘটনার স্বপক্ষে দাবি করা হয়।

এদিকে সাতক্ষীরা জজ কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাড. অজয় কুমার সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. ইউনুছ আলী ও আইনজীবী সহকারি কবীর হোসেন মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিকদের জানান, ৩ নভেম্বর দুপুরে আদালতে হাজিরা দিয়ে নীচে নামার পর খলিষাখালির কথিত জমির মালিকদের হামলা থেকে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে সাদা রং এর মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার পরদিন কাটা রাইফেল ও গুলিসহ মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দেবহাটা থানা থেকে শুক্রবার বিকেলে জেলে পাঠানোর ঘটনায় একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় তারা আদালত এলাকার একটি ঘরে লিখিত জবানবন্দি দিয়েছেন। বদরতলার ব্যবসায়ি ইউনুস আলী ছাড়াও আদালত থেকে খালাস পাওয়া তিন আসামীকে তুলে নিয়ে অস্ত্র ও গুলি দিয়ে আদালতে পাঠানো সংক্রান্ত একটি পত্রিকার প্রতিবেদনকে ঘিরে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির নির্দেশে এ তদন্ত চলছে বলে তারা এ প্রতিবেদককে জানান।

Please follow and like us:
Tweet 20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)