শ্যামনগরে কুড়ানো শাকের রান্নার মেলা

শ্যামনগর প্রতিনিধি :
প্রকৃতির প্রতিটি উপদানই গুরুত্বপূর্ন।প্রকৃতির সাথে মানুষের নিবিড় সম্পর্ক। আর এপ্রকৃতিতে আছে নানান প্রাণবৈচিত্র্য ভরপুর।আর সেগুলো আমাদের অনাদর, অবহেলা, অযত্নে বেড়ে উঠেছে। এ সকল প্রাণবৈচিত্র্যে মানুষ খাদ্য  ও চিকিৎসার কাজে যেমন ব্যবহার করছে তেমনি ভাবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অন্যান্য কর্মকান্ডেও ব্যবহার হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, রাসায়নিক সার কীটনাশক ব্যবহার ও মনুষ্য বসতি স্থাপন বৃদ্ধিতে পতিত জায়গার সংকট সৃষ্টি হওয়ায় এ সকল প্রাণবৈচিত্র্য অনেকাংশে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এ সকল উদ্ভিদ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণে ব্যক্তি ও সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে চলছে নানা রকম উদ্যোগ, পরিচালিত হচ্ছে নানান  কর্মকান্ড।
মঙ্গলবার(২০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টায় প্রকৃতির এসকল অচাষকৃত উদ্ভিদবৈচিত্র্যের সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে  শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের কালমেঘা গ্রামে কালমেঘা কৃষি নারী উন্নয়ন সংগঠনের উদ্যোগে ও বারসিকের সহায়তায়  কুড়িয়ে পাওয়া অচাষকৃত শাকের  রান্না প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
রান্না প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ১৩ জন নারী তারা প্রত্যেকেই একটি করে সবজি/খাবার রান্না করেন। ১৩ রকমের (কচুশাক, ঘোড়াসেঞ্চী, মাঠিফোড়া, ডুমুর, বুনো আমড়া, থানকুনি, শাপলা, কলমিশাক, কলার মোচা, আদাবরুণ,  তেলাকচু,কলমিশাক, গিমেশাক) কুড়িয়ে পাওয়া শাক রান্না করেন। আর এসকল শাক নারীরা তাদের বাড়ির আঙিনা, খাল-বিল, জলাশয় থেকে  কুড়িয়ে আনেন।
গ্রামীণ এক উৎসবমুখর পরিবেশে কুড়িয়ে পাওয়া শাক রান্না প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল খাদ্য রান্না ও স্বাদ গ্রহণ কর্মসূচি। ব্যতিক্রমধর্মী এ অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিল স্থানীয় ইউপি সদস্য, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, কৃষক-কৃষাণী, উন্নয়ন কর্মী এবং স্থানীয় জনগণ। নির্ধারিত সময়ে রান্না শেষে চলে স্বাদ গ্রহণ কর্মসূচি।
নারীরা তাদের রান্নার প্রধান উপকরণ কুড়িয়ে পাওয়া শাক/তরকারী সম্পর্কে উপস্থিত সকলকে অবহিত করেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সকল বিচারকের বিবেচনায় বুনো আমড়া রান্না করে প্রথম স্থান অধিকার করেন বনশ্রী রানী,  ডুমুর রান্না করে দ্বিতীয় হোন শিক্ষার্থী ইন্দ্রা গায়েন ও কচুশাক রান্না করে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন বাসন্তী রানী মন্ডল। নতুন প্রজন্মের মাঝে আগ্রহ মনোযোগ সৃষ্টিতে ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গ্রামীণ নারীর অবদানকে স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে বিজয়ী এবং অংশগ্রহণকারী সকল নারীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।
কুড়িয়ে পাওয়া শাক রান্না প্রতিযোগিতায় অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষক জয়দেব বিশ্বাস, ইউপি সদস্যা বনশ্রী রানী, উপসহকারী আলি হাসান, কৃষক শেখ সিরাজুল ইসলাম, বারসিকরে সহযোগি আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রামকৃষ্ণ জোয়ারদার, বিশ্বজিৎ মন্ডল, চম্পা মল্লিক, মনিকা রানী, কৃষক পরিতোস মন্ডল সহ প্রমুখ।
Please follow and like us:
Tweet 20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)