বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা এমপি রবির পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

মাহফিজুল ইসলাম আককাজ :

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আন্তরিক শুভেচ্ছা
ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য নৌ-কমান্ডো ০০০১ বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর
মোস্তাক আহমেদ রবি বলেন, আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি,
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এবং শ্রদ্ধার সাথে আরো স্মরণ করছি আওয়ামী লীগের
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক সামসুল হকসহ শ্রদ্ধার
সাথে স্মরণ করছি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে। বীর মুক্তিযোদ্ধা এমপি রবি বলেন, ঢাকার কে
এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন
থেকে সুদীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাঙালি জাতির ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা
সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক এবং সাধারণ মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার আদায়ের
আন্দোলনে নেতৃত্বদানের সুমহান গৌরব অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আজ আমি স্মরণ
করছি জাতীয় চার নেতাসহ আমাদের পূর্বসূরী নেতা-কর্মীদের – যাঁদের অক্লান্ত শ্রম, মেধা ও
ত্যাগের বিনিময়ে আওয়ামী লীগ গণমানুষের এক বিশাল সংগঠনে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ
আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর এ ভূখন্ডে যে বিশাল অর্জন তা একমাত্র আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই
হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইতিহাসের সঙ্গে এ দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম
ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯৫২’র ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২’র
আইয়ুবের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৪’র দাঙ্গার পর সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি
প্রতিষ্ঠা, ১৯৬৬’র ৬ দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান সবই পরিচালিত হয়েছে আওয়ামী লীগের
নেতৃত্বে। সদ্য স্বাধীন, যুদ্ধবিধ্বস্থ বাংলাদেশকে যখন জাতির পিতা তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলায়
রূপান্তরের সংগ্রামে ব্যস্ত ঠিক তখনই ঘাতকরা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে
হত্যা করে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে ৩ নভেম্বর কারাগারে হত্যা করা হয় জাতীয়
চার নেতাকে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত এবং নির্যাতন আর নিপীড়নের মাধ্যমে ধ্বংস করার
চেষ্টা করা হয় জনগণের সংগঠন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে। কিন্তু এ অপচেষ্টা কখনোই সফল হয়নি।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ১৯৯৬ সালে জনগণের ভোটে আবারও
রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ১৯৯৬ থেকে আজ অবধি জাতিন জনক বঙ্গবন্ধু শেখ
মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মানবতার মা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ
নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সফলভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে আসছে। খাদ্য ঘাটতির দেশ বাংলাদেশকে
আওয়ামী লীগ সরকারই খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত করে। বাংলাদেশ আওয়ামী রীগ সরকারের বড় অর্জন
নিজস্ব অর্থায়ণে পদ্মাসেতু নির্মাণ। আওয়ামী লীগ সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় মহান
২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা পায়। ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি চুক্তি
স্বাক্ষরিত হয়। কারও মধ্যস্থতা ছাড়াই স্বাক্ষরিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি। স্বাধীনতা ও
গণতন্ত্র বিরোধী অপশক্তি এখনও জনগণের এই উন্নয়নকে নস্যাৎ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় জনগণ এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে এবং সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে
দিবে – এটা আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। বাঙালি জাতির প্রতিটি মহৎ এবং শুভ অর্জনে আওয়ামী লীগের
সংগ্রামী ও ত্যাগী ভূমিকা রয়েছে। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এদেশের
জনগণের পাশে থাকবে। দেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত করবে।

Please follow and like us:
Tweet 20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)