শার্শায় দরিদ্র মহিলাদের পল্লী  কর্মসংস্থান প্রকল্প”ইরেসপো”পর্যায়ের আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণ

আঃজলিলঃ
যশোরের শার্শায় দরিদ্র মহিলাদের জন্য সমন্বিত পল্লী কর্মসংস্থান প্রকল্প (ইরেসপো)-২য় পর্যায়ের ৩দিন মেয়াদী আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। প্রশিক্ষণটি সোমবার-বুধবার (১৩ জুন হতে ১৫ জুন) পর্যন্ত শার্শা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন (বিআরডিবি) কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সমবায় বিভাগের উদ্যোগে ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কর্তৃক দেশের ১৭ টি জেলার ৫৯ টি উপজেলার পল্লী অঞ্চলের দরিদ্র অসহায় সুবিধা-বঞ্চিত ও বেকার মহিলাদের দারিদ্রতা হ্রাস, কিশোরীদের শতভাগ বাল্যবিবাহ হ্রাস, সঞ্চয়ে উৎসাহিতকরণ ও গ্রামীণ মহিলাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে জীবন-মানের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে “দরিদ্র মহিলাদের জন্য সমন্বিত পল্লী কর্মসংস্থান সহায়তা প্রকল্প (ইরেসপো)-২য় পর্যায়” বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (ইরেসপো)-২ পর্যায়, প্রকল্প পরিচালক রাশেদুল আলম।
তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোর সফরকালে এ অঞ্চলের নারীদের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ ও ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে দরিদ্র মহিলাদের জন্য আত্ম কর্মসংস্থান কর্মসূচি (দমআক) শীর্ষক প্রকল্পটি বৃহত্তর যশোরের ৪টি জেলার ২১টি উপজেলায় জুলাই ১৯৯৮-জুন ২০০৩ মেয়াদে বাস্তবায়িত হয়। যা জনসাধারণ কর্তৃক প্রকল্পটি অত্যান্ত ফলপ্রসু হওয়ায় পরবর্তীতে আইএমইডি সমীক্ষা প্রতিবেদনে প্রকল্পটি দেশব্যাপী বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়। সে আলোকে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ১৫টি জেলার ৫৯টি উপজেলায় বৃহত্তর পরিসরে জানুয়ারি ২০১২ থেকে জুন ২০১৮ মেয়াদে দরিদ্র মহিলাদের জন্য সমন্বিত পল্লী কর্মসংস্থান সহায়তা প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় প্রকল্পটি নতুন আঙ্গিকে ইরেসপো-২য় পর্যায় নামে জুলাই ২০২১ থেকে জুন ২০২৬ মেয়াদে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। সে আলোকে মহিলা সুফলভোগী সদস্যদের উপজেলা পর্যায়সহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী আয় বর্ধণমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে আয় বর্ধণমূলক কাজে বিনিয়োগ করে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ঋণ হিসেবে ৮% সেবামূল্যে ৩০ হাজার টাকা থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এবং উদ্যোক্তা ঋণ হিসেবে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রদান করা হচ্ছে।
এ প্রকল্পের আওতায় কিশোরিদের শতভাগ বাল্যবিবাহ রোধকল্পে প্রকল্পভুক্ত ৫৯ টি উপজেলার ১১৮ টি স্কুলে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির ছাত্রীদের নিয়ে কিশোরী সংগঠন পূর্বক কিশোরীদের ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ, প্রজনন স্বাস্থ্য, ইত্যাদি বিষয়ে সচেতনতা মূলক প্রশিক্ষণ প্রদানসহ বিনামূল্যে স্যানেটারী ন্যাপকিন ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া কিশোরী বয়স হতে সঞ্চয়ে উৎসাহিত করার জন্য প্রতি মাসে নিজ সঞ্চয়ের দ্বিগুন প্রণোদনা অর্থাৎ কিশোরী ১০০ টাকা সঞ্চয় করলে প্রকল্পের আওতায় সরকার হতে ২০০ টাকা প্রণোদনা প্রদান করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রকল্পের সকল কার্যক্রম অনলাইন সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় সকল কাজে আর্থিক সচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। এ প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রকল্প এলাকায় সুফলভোগী সদস্যদের দারিদ্র বিমোচন ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং হাইস্কুলগামী কিশোরীদের শতভাগ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেছেন শার্শা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন (বিআরডিবি) কর্মকর্তা আবু বিল্লাল হোসেন।
তিনি বলেন, শার্শায় অনুষ্ঠিত ৩দিন মেয়াদী এ আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু থাকছে- উন্নত জাতের হাঁস-মুরগী পালন। ইতিমধ্যে এ প্রকল্পের অধীনে ৭ জুন হতে ৯ জুন পর্যন্ত ৩দিন মেয়াদী আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু ছিলো গবাদী পশু পালন, মোটাতাজাকরণ ও বাজারজাত করণ। ৪ জুন হতে ৬ জুন পর্যন্ত -শাক সবজি চাষ। ৩১ মে ছিলো প্রকল্প অবহিতকরণ কর্মশালা।
উক্ত কেন্দ্রে প্রতিটি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করছেন এলাকার দরিদ্র, অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও বেকার ৩০ জন মহিলা।  সর্বমোর্ট ৫টি বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ১৫০ জন।
উক্ত প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে ভাচুয়ালে প্রধাণ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (ইরেসপো)-২ পর্যায়, বিআরডিবির মহাপরিচালক(ভারপ্রাপ্ত) এস এম মাসুদুর রহমান। প্রশিক্ষক হিসেবে ভার্চুয়ালে ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব মশিয়ুর রহমান-এনডিসি, অতিরিক্ত সচিব এস এম মাসুদুর রহমান ও প্রকল্প পরিচালক(ইরেসপো)-২য় পর্যায়, রাশেদুল আলম।
প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ দেন, শার্শা উপজেলা নির্বাহি কর্মকতা নারায়ন চন্দ্র পাল, সহকারি কমিশনার (ভূমি) ফারজানা ইসলাম, যশোর জেলা পল্লী উন্নয়ন কার্যালয়, (ইরেসপো) ২য় পর্যায়ের উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান, শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মামুন খান, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবুল হাসান, কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র মন্ডোল, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল-মামুন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ইলিয়াছ হোসেন, সমবায় কর্মকর্তা এম আক্কাস আলীসহ স্থানীয় বিভিন্ন সফল খামারী ও উদ্যোগতাগণ।
এ সময় শার্শা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আবু বিল্লাল হোসেন জানান, এ প্রকল্পের আওতায় শার্শা উপজেলা কমিটি কর্তৃক নির্বাচিত হাইস্কুল থেকে গড়ে ১০০ জন কিশোরীর সমন্বয়ে একটি কিশোরী সংঘ সংগঠণ করা হয়েছে। উক্ত সংঘ পরিচালনার জন্য একটি কমিটি থাকছে। এই সংগঠনের মাধ্যমে কিশোরীদের সংঘবদ্ধ করে সামাজিক সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে বাল্য বিবাহের কুফল, নারী নির্যাতন, যৌতুক ও ইভটিজিং প্রতিরোধে করণীয়সহ কিশোরীদের বয়ঃসন্ধি সম্পর্কে সচেতনতা করা সম্ভব হলে গ্রাম পর্যায়ে বাল্য বিবাহসহ সকল সামাজিক অবক্ষয় তারা নিজেরাই প্রতিরোধে সক্ষমতা অর্জণ করবে। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতি স্কুলে সামাজিক সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ এবং প্রশিক্ষণ উপকরণ হিসেবে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে।
Please follow and like us:
Tweet 20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)