পরীক্ষার সময় শ্যামনগরের নকিপুরে চলছে লটারী নামক জুয়ার আসর
রবিবার(০১ জুলাই) হতে শুরু হয়েছে স্কুল, মাদ্রাসার অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা। তবে পরীক্ষা শুরুর আগেই শ্যামনগরের নকিপুর জমিদার বাড়ির মাঠে শুরু হয়েছে মাস ব্যাপী ঈদ আনন্দ মেলার নামে রমরমা জুয়া আসর। মেলার আড়ালে সেখানে চলছে সার্কাস। মানুষকে নিঃস্ব করতে শুরু করা হয়েছে ‘দৈনিক উলাস’ লাকী কুপন।
প্রতিদিন সকাল হতে গভীর রাত পর্যন্ত শত ইজবাইক নিয়ে কর্মচারীরা চলে যাচ্ছেন বিভিন্ন প্রান্তে। ইজি বাইকের পিছনে প্রাইভেটকার, ইজিবাইক, টিভি, গরু, মটরসাইকেল ছবি দিয়ে টানানো হয়েছে রকমারি ব্যানার। ব্যানারের নিচে লেখা রয়েছে ‘আয়োজনেঃ শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব’ মাইকের মাধ্যমে বিভিন্ন রকম প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিটা টিকিটের মুল্য ২০ টাকা প্রচার দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে লটারির কুপন। শ্যামনগরের এক জনপ্রতিনিধির ইন্ধনে শ্যামনগর প্রেসক্লাবের আয়োজনে ছেলেমেয়েদের পরীক্ষার সময় এটি করা হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুধী মহল।
এলাকার আনিস উদ্দীন নামের একজন অভিভাবক বলেন, পরীক্ষার সময় মেলা, সার্কাস, জুয়া শুরু হয়েছে। ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া বাদ দিয়ে সেখানে ভীড় করছে। মেলা চলতে থাকলে তাদের লেখাপড়ার মারাত্মক ক্ষতি হবে।
নলতা এলাকার জামাল হোসেন নামের একজন বলেন, সাধারণ মানুষকে নিঃস্ব করতে প্রতিবছরই সাতক্ষীরার বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় লটারী/ কুপন নামক জুয়ার আসর। অসহায়, গরীব মানুষেরা একসাথে অনেক বেশিকিছু পাবার আশায় কুপনের মতো জুয়ার আসরের দিকে ঝুকে পড়ে। প্রতিদিন তারা সংসারের চাউল কেনা বাদ দিয়ে লটারির কুপন কেনে। ফলে সংসারে অশান্তির সৃষ্টি হয়।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মান্নান আলী বলেন, অনুমতি নিয়ে মেলার আয়োজন করেছে মেলা কর্তৃপক্ষ তবে মেলার অভ্যন্তরে র্যাফেল ড/ লটারী হচ্ছে কি না তা আমার জানা নেই।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, ডিসি অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে মেলা করা হচ্ছে। তবে সেখানে লটারি, কুপন বা জুয়ার কোন অনুমোদন নেই।
শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি আকবর কবির বলেন, প্রেসক্লাবের উন্নয়নের জন্য প্রেসক্লাবের ব্যানারে কুপনের আয়োজন করা হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানতো তাদের প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য মাঝে মাঝে এমন কিছুর আয়োজন করে থাকে।
জেলা প্রশাসক মোঃ ইফতেখার হোসেন বলেন , শ্যামনগরের নকিপূরে মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল তবে আজ অবধি সেটি শেষ হয়ে যাওয়া কথা। নির্দিষ্ট সময়ের পরে মেলা করা যাবেনা। এছাড়া যখন মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল তখন কোন লটারি বা জুয়ার অনুমতি দেওয়া হয় নি। সাতক্ষীরার এসকল কর্মকান্ড করার কোন সুযোগ নেই। এরকম ঘটনা ঘটলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।