ভোটগ্রহণ শেষ,চলছে ভোট গণনা

0
139

ডি এস ডেস্ক:

রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) নির্বাচনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।  এখন চলছে ভোট গণনা।  উৎসবমুখর পরিবেশে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটাররা তাদের পছন্দের মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচিত করতে ভোট দিয়েছেন।

রসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার বলেন, নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের ১৯৩টি ভোট কেন্দ্রে এক হাজার ১২২টি বুথে ভোটগ্রহণ শুরু হয় সকাল ৮টা থেকে।  এবারের নির্বাচনে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ ভোটগ্রহণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।  ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।  এদিকে দিনভর নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, পুরুষদের তুলনায় নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল বেশি।  সকালের দিকে ভোটারের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতিও বাড়তে থাকে।

অবাধ, সুষ্ঠু এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি ছিল এবারের নির্বাচনে।  প্রতিটি কেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন ২৪ জন করে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য।  এছাড়াও ৩৩ জন নির্বাহী ও ১১ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন এবং ৮ সদস্য বিশিষ্ট র‌্যাবের ৩৩টি দল নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে কার্যক্রম চালান।

নির্বাচনে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২১ প্লাটুন বিজিবি মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে মাঠে রয়েছেন।  রসিক বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৪ জন।  এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩৫৬ ও মহিলা ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬৩৮ জন।  সাতজন মেয়র প্রার্থীসহ সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২১১ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচন।  ওই সময় দলীয় প্রতীকে ভোট না হলেও সরফুদ্দিন আহম্মেদ ঝন্টু মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে এক লাখ ছয় হাজার ২৫৫ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন।  তিনি এবার নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।  নির্বাচনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের নির্দেশ অমান্য করে স্রোতের বিপরীতে গিয়ে হাঁস প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা পেয়েছিলেন ৭৭ হাজার ৮০৫ ভোট।

এবারের নির্বাচনে তিনি জাপার মনোনীত প্রার্থী হয়ে লাঙল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।  এছাড়া মেয়র পদে বিএনপির কাওছার জামান বাবলা প্রথমবারের ওই নির্বাচনের আগের দিন রাতে ভোট বর্জনের পরও ২১ হাজার ২৩৫ ভোট পেয়েছিলেন।  হেভিওয়েট ওই তিন প্রার্থী ছাড়াও এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু (হাতপাখা), ন্যাশনাল পিপলস পার্টি সেলিম আখতার (আম) বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) থেকে আব্দুল কুদ্দুস (মই) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টি থেকে সদ্য বহিষ্কার হওয়া এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ (হাতি)।  এছাড়াও ৩৩টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২১১ এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

দৈনিক সাতক্ষীরা/জেড এইচ