‘তোর বিষ কমাচ্ছি’ বলেই স্ত্রীর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন

ডেস্ক রিপোর্ট:

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের ঘটনা নতুন নয়। তবে এবার এমনই এক ঘটনা যেন ছাড়িয়েছে অতীতের বেশকিছু পাশবিকতাকে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে ‘তোর বিষ কমাচ্ছি’ বলেই স্ত্রীর গোপনাঙ্গসহ পুরো নিম্নাঙ্গে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন এক পাষণ্ড স্বামী। ঘটনাটি চট্টগ্রামের।

অভিযোগ পেয়ে শুক্রবার বিকেলে স্বামী মো. রাফেলকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে ভোরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদালা ইউপির গোয়ালপুরা গ্রামের সন্ধীপপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূর নাম ইয়াসমিন আকতার। তিনি একই উপজেলার চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউপির নবগ্রাম এলাকার হারুনুর রশিদের মেয়ে।

গৃহবধূ ইয়াসমিনের চাচা চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউপি সদস্য আবদুল মালেক বলেন, যৌতুকের দাবিতে প্রায়সময় ইয়াসমিনকে নির্যাতন করতেন স্বামী রাফেল। বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিদিনের মতো খাওয়া শেষে ঘুমোতে যান তারা। ওই সময়ও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে ইয়াসমিনের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন রাফেল। এতে ইয়াসমিনের শরীরের অনেকাংশ ঝলসে গেছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে স্বামী রাফেলকে আটক করা হয়েছে। গৃহবধূ ইয়াসমিনকে আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

রোমহর্ষক নিষ্ঠুর এ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘তোর বিষ কমাচ্ছি’ বলেই ইয়াসমিনের যোনি ও পায়ুপথসহ পুরো নিম্নাঙ্গে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন রাফেল। সাত বছরের সংসার ও চার বছর বয়সী সন্তানের দোহাই দিয়ে অসহায় ইয়াসমিন প্রাণ ভিক্ষা চাইলেও মন গলেনি রাফেলের। পরে উপায়ান্তর না দেখে নিজেকে রক্ষার শেষ চেষ্টা হিসেবে ঘর থেকে বের হতে চান ইয়াসমিন। কিন্তু এতেও বাঁধা দেন রাফেল। পুড়তে পুড়তে এক পর্যায়ে শরীরে লেপ্টে থাকা পেট্রল ফুরিয়ে গেলে ইয়াসমিনের শরীরের আগুনও নিভে যায়। কিন্তু তখনও নেভেনি রাফেলের নিষ্ঠুরতার আগুন।

স্ত্রীর পোড়া শরীর থেকে কাবাব করা মুরগির মতো করে চামড়া তুলে নিতে থাকেন দুই হাতের ঘষায়। একেক ঘর্ষণের সঙ্গে খসে পড়তে থাকে পুড়ে যাওয়া চামড়া, সঙ্গে ইয়াসমিনের মরণ আর্তচিৎকার। ততক্ষণেও কোন হেরফের ঘটেনি রাফেলের নিষ্ঠুরতায়। একপর্যায়ে যন্ত্রণার খানিকটা ভাগ বাবা-মাকেও দিতে ফোন করেন ইয়াসমিনের বাসায়।

গভীর রাতে জামাইর ফোন পেয়ে উৎকন্ঠিত শাশুড়ি ফোন তুলতেই তাকে সোজা জানিয়ে দেন- ‘তোর মেয়েকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছি, এসে নিয়ে যা’। সবশেষে পৈশাচিকতার চূড়ান্ত উদাহরণ সৃষ্টি করে আর্তচিৎকার করতে থাকা স্ত্রীকে রেখেই পাশের কক্ষে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন রাফেল।

Please follow and like us:
Tweet 20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)