আশাশুনিতে ড্রাগন চাষ সফল হতে চলেছে চাষী আবুল হাসান সফলতায় মহা

জি এম মুজিবুর রহমান, আশাশুনি :

‘ড্রাগন’ অচেনা নামের সাথে আমাদের দেশের মানুষের পরিচিতি খুব অল্প দিনের। বিশেষ করে আশাশুনির মত পল্লী সমাজের মানুষের মধ্যে খুব কম মানুষই এ ফলের সাথে পরিচিত। তবে আশাশুনি উপজেলায় ড্রাগন ফল গাছের চাষ সম্ভব -এমন ধারনা কারোরই ছিলনা। ড্রাগন নামের লাল টকটকে অচেনা ফল গাছে ঝুলতে দেখে এলাকার মানুষের মধ্যে আগ্রহ ও তৃপ্তির ছায়া পরিলক্ষিত হচ্ছে।

জিকেবিএসপি প্রকল্পের আওতায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নতুল ফল বাগান সৃজনের লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এই পরিকল্পনা মাথায় রেখে মিশ্র বাগান গড়ে তুলতে চাষীদেরকে উদ্বুদ্ধ করার কাজ করা হয়। বিশেষ করে ড্রাগন ও মাল্টা চাষের নতুন চিন্তা মাথায় নিয়ে চাষী প্রশিক্ষণ, উদ্বুদ্ধকরণ ও লাভজনক করে গড়ে তুলতে করনীয়তা নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ করা হয়। খরিপ-২, ২০১৯-২০ মৌসুমে ৬ জন চাষী নির্বাচন করে চারা সরবরাহসহ সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। এদের মধ্যে আশাশুনি আলিয়া মাদরাসার সুপার বুধহাটা ইউনিয়নের বেউলা গ্রামের সুলতান আহমেদের পুত্র ড. আবুল হাসানকেও ড্রাগন ও মাল্টা ফলের গাছ প্রদান করা হয়। তিনি ১৪/০৭/১৯ তাং তার ৭০ শতাংশ জমিতে গাছের চারা রোপণ করেন।

উপজেলা কৃষি অফিস তার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। বছর না পেরুতেই তার বাগানে ড্রাগন ফল এসেছে। ইতিমধ্যে একটি গাছের ফল পরিপক্ক হওয়ায় ড্রাগন ফল উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্য গাছে ফল বেড়ে উঠছে। মাল্টা গাছেও ফল ধরেছে। চাষী আবুল হাসান গাছে ফল ধরায় বিশেষ করে ড্রাগন ফল হওয়ায় মহা খুশি হয়েছেন। তিনি বলেন, অচেনা অজানা ড্রাগন ফল গাছের চাষ করতে নেমে শঙ্কিত ও চিন্তায় পড়েছিলাম। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে দিনে দিনে একটি বছর গাছের পরিচর্চা করে এসেছি। এখন ফল দেখতে পেয়ে আনন্দ আপ্লুত হয়েছি। আল্লাহ রহম করলে মিশ্র ফল বাগানে লাভজনক ফলন পাব বলে আমার বিশ্বাস।

আমি ড্রাগন চারা তৈরি করছি, আগ্রহীরা চাষ করতে চাইলে আমি চারা বিক্রয় করতে প্রস্তুত আছি। এব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাজিবুল হাসান বলেন, ২০১৯-২০ মৌসুমে ৬ জনকে এবং ২০২০-২১ মৌসুমে আরও ৬ জন চাষীকে ড্রাগন ও মাল্টা বাগান সৃষ্টির জন্য চারা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে এসেছি। আমি ও আমার সহকর্মীরা সদাসর্বদা চাষীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে পরামর্শ ও চাষীদেরকে জ্ঞান সম্পন্ন করতে কাজ করে আসছি।

পরীক্ষা মূলকভাবে লবণাক্ত এলাকায় ড্রাগনের চাষে চাষীদেরকে উদ্বুদ্ধ করি। চাষীরা আগ্রহ সহকারে আমাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা পেয়ে বাগান পরিচর্চা করছেন। ড. আবুল হাসান সাহেবের বাগানে ড্রাগন ও মাল্টা ফল এসেছে। আশাশুনিতে এটিই প্রথম ড্রাগন ফলের উৎপাদন। আগামীতে উপজেলার সকল ইউনিয়নে মিশ্র ফল চাষের মাধ্যমে চাষীরা সাফল্য জনক ভাবে ফলাফল আনতে পারবে ইনশাল্লাহ।

Please follow and like us:
fb-share-icon
Tweet 20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)