আশাশুনির বর্তমান ও সাবেক চেয়াম্যান সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দুই পুলিশসহ আহত ১০

আশাশুনি ফিচার সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরার আশাশুনির খাজরা ইউনিয়নের বর্তমান ও সাবেক চেয়াম্যানের দু’গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দুই পুলিশসহ কমপক্ষে ১০জন আহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে খাজরা ইউনিয়নের গদাইপুরে এ ঘটনাটি ঘটে। এদিকে, এ ঘটনায় পুলিশের এস.আই জাহাঙ্গীর বাদী হয়ে ২২ জনের নামসহ অজ্ঞাত আরো ১০০/১৫০ জনের নামে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।রব্বানীর ছেলে মফিজুল ইসলাম (৩৮)।

আহত দুই পুলিশ সদস্যরা হলেন, এস আই জাহাঙ্গীর ও ওসির ড্রাইভার শরিফুল ইসলাম। এরমধ্যে গুরুতর আহত শরিফুলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের গদাইপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমান চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিম ও সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস সমর্থকদের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে এ সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে ওয়ায়েছ কুরনী, তুহিন বাবু, রফিকুল ইসলাম, সোহাগ, সাব্বীর হোসেনসহ দু’পক্ষের কমপক্ষে ১০জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনা স্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর দূর্বৃত্তরা হঠাৎ পুলিশের উপর বিনা উস্কানিতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশের গাড়িতে হামলা চালায় তারা। এতে আহত হন পুলিশের এসআই জাহাঙ্গীর ও ওসির ড্রাইভার শরিফুল ইসলাম। একই সাথে ভাংচুর করা হয় পুলিশের গাড়িটি। গুরুতর আহত পুলিশ সদস্য শরিফুলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গোলাম কিবরিয়া ও মফিজুলকে গ্রেপ্তার করেন। ওসি আরো জানান, এ ঘটনায় এস.আই জাহাঙ্গীর বাদী হয়ে ২২ জনের নামসহ অজ্ঞাত আরো ১০০/১৫০ জনের নামে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সেখানে এখনও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এদিকে, সংঘর্ষে আহতরা গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন বেসরকারী হাসপাতালে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য : খাজরা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিম ও তার ফুপাতো ভাই সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস সমর্থক গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘর্ষ, হত্যা, হামলা-মামলায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *