ডুমুরিয়ার এএসআইর বিরুদ্ধে এক যুবককে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

খুলনা
খুলনার ডুমুরিয়া মাদারতলা পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ এএসআই আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে যুবককে   তুলে নিয়ে নির্যাতন ও টাকা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গত ২৩/০৭/২০২০ ইং তারিখে যুবকের পিতা বাদী হয়ে পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের মৃত ঈমান আলী সরদারের পুত্র আতিয়ার রহমান সরদার তার অভিযোগে ( প্রাপ্ত রিসিভ  কপি)  উল্লেখ করেন, তার পুত্র আব্দুল্লাহ সরদার (১৬) কুলবাড়িয়া গ্রামের মোড়ে বাঁশের দোকান দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা বানিজ্য করে আসছে। গত ২২/০৭/২০২০ ইং তারিখ সন্ধ্যায় উপজেলার মাদারতলা পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ এএসআই আব্দুল হান্নান তার একজন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তার ছেলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসে। এরপর তার পুত্রের নাম ঠিকানা জানার পর তাকে বলে মোটরসাইকেলে ওঠ আমার সাথে ক্যাম্পে যেতে হবে। এরপর তার পুত্রকে মোটরসাইকেলে তুলে ক্যাম্পে নিয়ে একটি রুমের ভিতর প্রবেশ করিয়ে বলে তোর কাছে কি আছে দিয়ে দে। এসময় তার পুত্রের পকেটে থাকা ২২হাজার টাকা তুলে দেয় তার কাছে। টাকা নেওয়ার পর একটি কাপড় দিয়ে প্রথমে চোখ বাঁধে এরপর দড়ি দিয়ে হাত বেঁধে ঘুঘু মোড়া দিয়ে তাকে পিটাতে থাকে। খবর পেয়ে তিনি ও তার ভাই মশিয়ার রহমান দ্রুত ক্যাম্পে গিয়ে দেখতে পান একটি রুমের ভিতর রেখে তাকে বেপরোয়া মারপিট করা হচ্ছে। তখন তারা ভ্রাতৃদ্বয় কান্নায় চিৎকার করতে থাকলে ডিউটিতে থাকা একজন পুলিশ তাদেরকে তাড়িয়ে দেয় এবং নির্যাতন করতে থাকা রুমের দরজা বন্ধ করে দেয়। তখন তিনি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাডঃ প্রতাপ কুমার রায়কে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানালে তার প্রচেষ্টায় রাত আনুমানিক ১ টার দিকে তাকে ছেড়ে দিলে সে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে লোমহর্ষক নির্যাতনের কাহিনী তুলে ধরেন। আতিয়ার রহমান অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন এলাকায় এএসআই আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে নির্যাতন, হয়রানি ও অর্থ বানিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া তার পুত্রের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগও মাদারতলা পুলিশ ক্যাম্পে নেই। ব্যাপারে এএসআই আব্দুল হান্নান বলেন, ঘটনা যেটা বলছেন যদি মনে করেন সত্য, তাহলে সত্য। আবার যদি মনে করেন মিথ্যা, তাহলে মিথ্যা। যেটা আপনারা অভিযোগে পেয়েছেন। সেটাই লেখবেন। মাদারতলা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই জহিরুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে আমি কোন কিছু জানি না। ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আমিনুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, যেহেতু অভিযোগ উদ্ধোর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে করা হয়েছে। সেহেতু কর্তৃপক্ষ তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *