চীনে সাপ থেকেই ছড়াচ্ছে করোনাভাইরাস

আন্তর্জাতিক

চীনের আতঙ্ক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বহু মানুষ। অনেকের গুরুতর শ্বাসজনিত সমস্যা দেখা দিয়েছে। এতে বাসিন্দারা ভীত এবং একইসঙ্গে প্রশাসনের ওপর ক্ষিপ্ত।

আক্রান্তদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে চিনের গবেষকরা এই মারণ ভাইরাসের জেনেটিক কোড বোঝার চেষ্টা করছেন। প্রাথমিক ধারণা, এই ভাইরাসটির সম্পর্ক অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম করোনা ভাইরাস (সার্স-সিওভি) ও মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম করোনা ভাইরাস (মার্স-সিওভি)-র গোত্রের সঙ্গে রয়েছে বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের পরিবার ভীষণই বর্ধিষ্ণু। তবে এই ভাইরাস মূলত পশুদের মধ্যেই দেখা যায়। মানুষকে আক্রমণ করার নজির ভীষণ কম।

বিজ্ঞানীদের মতে উট, বিড়াল, বাদুড়ের মধ্যে এই ভাইরাস পাওয়া যায়। তবে, সার্স ও মার্স এই দুই ভাইরাস মানুষকে আক্রমণ করে। ঠিক যেমনটা করছে ওই পরিবারের নবতম সদস্য নোভেল করোনাভাইরাস (২০১৯-এনসিওভি)।

নতুন করোনাভাইরাসের প্রোটিন কোড পরীক্ষা করে দেখেন বিজ্ঞানীরা। গত ২২ জানুয়ারি জার্নাল অফ মেডিক্যাল ভিরোলজিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯-এনসিওভি- আদতে হল দুটি করোনাভাইরাসের মিশ্রণ। একটি বাদুড়কে আক্রমণ করে, অন্যটি অচেনা। আরো পরীক্ষা করতে গিয়েই চমকে যান বিজ্ঞানীরা। জেনেটিক কোড খতিয়ে দেখতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন, সম্ভবত এই ভাইরাস সাপ থেকে এসেছে। তাদের মতে চীনের দুই প্রজাতির সাপ থেকেই করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে প্রকাশিত হয়েছে একটি প্রতিবেদন। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিন-সহ বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার মূল উৎসই হচ্ছে বিষধর চিনা সাপ ক্রেইট এবং কোবরা সাপ। করোনা ভাইরাস বাতাসে মিশে প্রাথমিকভাবে স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং পাখির শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমণ করে। এর ফলে প্রাথমিকভাবে জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয়। এর আগে ২০১৯ সালে চিনের হুয়ান শহরে প্রথম করোনা ভাইরাসের বিষয়টি সামনে আসে। যা খুবই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

সূএ-ডেইলি বাংলাদেশ

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *