৮১ বছর বয়সে হাইস্কুল পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ

0
50
Elderly Palestinian man Abdel-Qader Abu Ajameyah, 81, studies for high school exams, in his home in the West Bank city of Hebron June 5, 2017. REUTERS/Mussa Qawasma
অনলাইন ডেস্ক:
আবদেল-কাদের আবু আজামেয়ার বসয় এখন ৮১ বছর। এই বয়সে তিনি হাইস্কুল ডিপ্লোমা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন এবং এজন্য তিনি কঠোর অধ্যয়ন করছেন। তিনি পরীক্ষায় ভাল করার জন্য দৃঢ় আশাবাদী।

আবু আজামেয়া একজন অবসরপ্রাপ্ত খাদ্য বিক্রেতা। ইসরাইল-অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন থেকে গত বছর প্রথমবারের মতো ন্যাশনাল পরীক্ষায় অংশ নেন কিন্তু পাশ করতে ব্যর্থ হন। তাই তাকে নতুন করে আবার এ বছর পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।

তিনি ১৪ জন সন্তানের জনক। তিনি দিনে পাঁচ ঘন্টা করে পড়াশোনা করছেন এবং এ বিষয়ে মনোনিবেশ করার জন্য তার সেরাটা দিচ্ছেন। যদিও তাকে তার ৩৬ জন নাতি-নাতনিদের সঙ্গে খেলাধুলা করার জন্য তাকে সময় দিতে হচ্ছে।

আনুষ্ঠানিক স্যুট ও টাই পরিহিত আবদেল-কাদের আবু আজামেয়া গর্বিত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি শিক্ষা গ্রহণকে পছন্দ করি। অধ্যয়ন করার জন্য নির্দিষ্ট কোন সময় সীমা নেই। শিক্ষা গ্রহণ একটি নির্দিষ্ট বয়সে বন্ধ হয়ে যায় না।’

তিনি বলেন, ‘আমি নতুন প্রজন্মের জন্য উদাহরণ স্থাপন করতে চাই। আমি দেখিয়ে দিতে চাই শেখার জন্য বয়স লাগে না।’

স্থানীয় একটি স্কুলের একটি রুমে আবু আজমেয়া পরীক্ষা দিচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি স্ট্রোক করেন যা তার লেখার হাতকে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে। এজন্য নিজ হাতে লেখাটা তার জন্য অত্যন্ত কঠিন। তাই তিনি একজন মহিলার সহায়তা নিচ্ছেন। তিনি মুখে বলে দিচ্ছেন আর ওই মহিলা তার উত্তরপত্রে তা লিখছেন।

ফিলিস্তিনি কেন্দ্রীয় ব্যুরোর পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ১৫ বছর ও তার বেশি বয়সী ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নিরক্ষরতার হার ৩.৩ শতাংশ; যা আরব বিশ্বের সবচেয়ে নিম্ন হারের একটি।  পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আবু আজমেয়া তার পরিবার, বিশেষ করে তার স্ত্রীর কাছে থেকে সর্বোচ্চ সমর্থন পাচ্ছেন।

আবু আজমেয়ার ছেলেদের একজন ৪৩ বছর বয়সী জাকারিয়া বলেন, ‘আমার মা আমার পিতার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সেবাযত্ন করে থাকে। তাকে ১৮ বছর বয়সী হাইস্কুলের ছাত্রের মতো যত্ন নিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই বাবাকে উৎসাহিত করি এবং তাকে নিয়ে আমরা সবাই গর্বিত।’

জাকারিয়া জানান, তার বাবা ১৯৪৮ সালে ইসরাইল সৃষ্টির আগে রামালার কাছাকাছি একটি গ্রামের স্কুলে পড়াশুনা শুরু করেন। ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় আবু আজমেয়ার পরিবার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। পালিয়ে গিয়ে তারা পশ্চিম তীরে উদ্বাস্তু হন।

এজন্য আবু আজমেয়াকে খুব শিগগিরই স্কুল ছেড়ে দিতে হয় এবং পরে তিনি সেখানে খাবার বিক্রি শুরু করেন এবং কয়েক দশক আগে কাজকর্ম থেকে অবসর নেয়ার পর আবারো পড়াশুনা করার কথা চিন্তা করতে শুরু করেন। তিনি বলেন, তার লক্ষ্য এখন তার সন্তান এবং নাতি-নাতনীদের সঙ্গে সমান হতে হবে।

পরীক্ষার ফলাফল মধ্য জুলাইে প্রকাশিত হবে। তার পাস করার ব্যাপারে তার পরিবার আশাবাদী এবং তা উদযাপনের জন্য তারা প্রস্তুত হচ্ছেন।

দৈনিক সাতক্ষীরা/জেড এইচ