৩৪৬ কোটি টাকায় ১ লাখ টন চাল আমদানির উদ্যোগ

0
70

অনলাইন ডেস্ক:

গত বছরের তুলনায় বর্তমান সময়ে চালের মজুদ কিছুটা কম রয়েছে। তাই মজুদ বাড়াতে আলাদা দুটি আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে ১ লাখ টন চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে ৫০ হাজার টন সাধারণ চাল (বাসমতি নয়) এবং বাকি ৫০ হাজার টন আতপ চাল। এজন্য মোট ব্যয় হবে ৩৪৬ কোটি ৬২ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। খাদ্য মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। কমিটির আগামী বৈঠকে তা উপস্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে গত সপ্তাহে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে খাদ্যমন্ত্রী কামরুর ইসলাম বলেছিলেন, বর্তমানে গত বছরের এ সময়ের তুলনায় চালের মজুদ কিছুটা কম রয়েছে। হাওর অঞ্চলে অকাল বন্যার কারণে যে ফসলহানি হয়েছে, সে ঘাটতি পূরণে সরকার ইতোমধ্যে বিদেশ থেকে ৬ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে। তিনি আরও জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী সরকার ইতোমধ্যে ৩ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে। এছাড়া ভিয়েতনামের সঙ্গে জি-টু-জি পর্যায়ে চাল আমদানির জন্য এমওইউ স্বাক্ষরের লক্ষ্যে বর্তমানে ভিয়েতনামের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচবি (সচিবের দায়িত্ব) শামীমা সুলতানা স্বাক্ষরিত প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সিদ্ধ চাল আমদানির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্যাকেজ-১ এর আওতায় খাদ্য অধিদফতর কর্তৃক আন্তর্জাতিক কোটেশন আহ্বান করা হয়। এতে মোট পাঁচটি সরবরাহকারী সংস্থা অংশ নেয়। এর মধ্যে মেসার্স সুখবীর অ্যাগ্রো এনার্জি লিমিটেড প্রতি টনের দাম ৪২৭ দশমিক ৮৫ ডলার উল্লেখ করে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ৫০ হাজার টন সিদ্ধ চাল সরবরাহ করবে। এজন্য ব্যয় হবে ১৬৮ কোটি ৬৮ লাখ ৯২ হাজার টাকা।

আন্তর্জাতিক কোটেশনে অংশংগ্রহণকারী অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মেসার্স ওলাম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড প্রতি টনের দাম ৪৩৯ দশমিক ২১ ডলার, মেসার্স বাগাদিয়া ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড ৪৪৮ দশমিক ৯৩ ডলার, মেসার্স আমির চাঁন্দ জগদিশ কুমার (এক্সপোর্ট) লিমিটেড ৪৫৪ ডলার এবং মেসার্স অ্যাগ্রো কর্প ইন্টারন্যাশনাল ৪৭৩ দশমিক ৯ ডলার দাম উল্লেখ করে। প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে মেসার্স সুখবীর অ্যাগ্রো এনার্জিকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সংস্থাটিকে চাল সরবরাহের সুপারিশ করে।

সূত্র জানায়, দেশের বিশেষ কয়েকটি এলাকার মানুষ আতপ চাল পছন্দ করে। তাদের কথা বিবেচনা করে প্রতি বছরই কিছু কিছু আতপ চাল আমদানি করা হয়। কোটেশনে যারা চাল সরবরাহের যোগ্যতা অর্জন করবে, তারাই নির্ধারণ করবে তারা কোথা থেকে চাল আমদানি করবে। সরবরাহকারী সংস্থা নির্দিষ্ট জায়গায় চাল পৌঁছে দেয়ার পর খাদ্য মন্ত্রণালয় তার গুণগত মান নিশ্চিত করে এসব চাল গ্রহণ করবে।

এস এম পলাশ

LEAVE A REPLY