১৩ বছর পর তালার বিএনপি নেতা আলতাফ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ

0
161
তালা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার তালা উপজেলা বিএনিপির সভাপতি আলতাফ হোসেন হত্যা মামলায় প্রায় ১৩ বছর পর আদালতে বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার বিকালে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক অরোনভ চক্রবর্তী উক্ত মামলার বাদী শেখ আব্দুর রহমানের কাছ থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।
মামলার আসামীরা হলেন, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও সাবেক সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিব, কৃষক দলের তালা উপজেলা শাখার সভাপতি গোলাম মোস্তফা, তালা উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠণিক সম্পাদক বদরুজ্জামান মোড়ল, উপজেলা যুবদল সভাপতি হাফিজুর রহমান, বিএনপি নেতা রাশিদুল হক রাজু, যুবদল নেতা আশরাফুল হক, বিএনপি কর্মী শহীদুল ইসলাম, তালা উপজেলার দোহার গ্রামের দাদা তুষার ওরফে তুষার পাল, মাদ্রা গ্রামের প্রকাশ সরকার, তেঁতুলিয়া গ্রামের দেবেন বিশ্বাস, গাছা গ্রামের শিবপদ সরকার, টিকেরামপুরের আহম্মদ আলী ওরফে নূর আহম্মদ, কাশীপুর গ্রামের ছাত্রদল নেতা মন্টু ইসলাম, আলম হোসেন ও ওয়ার্কার্স পার্টির বহিস্কৃত নেতা প্রণব ঘোষ বাবলু।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৪ সালের ৪ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তালা উপজেলার বাণিজ্যিক শহর পাটকেলঘাটা পাঁচ রাস্তা মোড়ে তৎকালীন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আলতাফ হোসেনকে বোমা মেরে হত্যা করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে মারা যান পথচারী কাঠ মিস্ত্রী হাবিবুর রহমান মোড়ল। এ ঘটনায় পুলিশ রক্তমাখা জামা কাপড় পরিহিত অবস্থায় মাদ্রা গ্রামের প্রকাশ সরকারকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার করা হয় পারকুমিরা গ্রামের দেবেন বিশ্বাসকে তার সেলুন থেকে। এ সময় তার সেলুনের মধ্যে রাখা বালতি থেকে কয়েকটি তাজা বোমা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বিএনপি কর্মী আলতাফ হোসেনের ঘনিষ্ঠ সেনপুর গ্রামের আব্দুর রহমান বাদী হয়ে দেবেন বিশ্বাস ও প্রকাশ সরকারের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে তালা থানায় একটি হত্যা মামলা(৩নং) দায়ের করেন। তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ মশিউর রহমান পিপিএম এর নির্দেশে উপপরিদর্শক মনির হোসেন মামলার তদন্ত শুরু করেন। পরবর্তীতে এ মামলার তদন্তভার সিআইডিতে ন্যস্ত হয়। সাতক্ষীরা সিআইডি’র পরিদর্শক দুর্গাপদ ঘোষ, পরিদর্শক শামীম মুছা, সহকারী পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, পরিদর্শক হরিপদ সরকার, পরিদর্শক আবু মোস্তফা কামাল পর্যায়ক্রমে তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ১১ জানুয়ারি আদালতে পৃথক দু’টি অভিযোগপত্র দাখিল করেন। হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত অভিযোগে জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ প্রথমাক্ত ১৪জনকে আসামী করা হয়। বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়েরকৃত অভিযোগপত্রে প্রণব ঘোষ বাবলুকে অতিরিক্ত আসামী করা হয়। গ্রেফতারের কিছুদিন পর দেবেন বিশ্বাস ও প্রকাশ সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকাস্ত জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে নিয়ে যাওয়ার পথে বিশেষ তদবিরে আরিচা ফেরিঘাট থেকে সাতক্ষীরায় ফিরিয়ে আনা হয়। মামলার বাদীকে বার বার জীবননাশের চেষ্টা করায় নিহতের স্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা রেহেনা খানম তার ভার্সার বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলন করে সম্ভাব্য আসামীদের নাম প্রকাশ করেন। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তালা উপজেলার বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক বদরুজ্জমান মোড়ল নিজেকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করে সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ অন্যান্য নেতা কর্মীদের নাম বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন। এরপর থেকে আসামী গোলাম মোস্তাফা, হাফিজুর রহমান, রাশেদুল হক রাজু ও সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিব মামলাটির কার্যক্রম হাইকোর্টে স্থগিত করার চেষ্টা করেন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বাদী নিজের নিরাপত্তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। এ ঘটনায় তৎকালীন সদর সহকারী পুলিশ সুপার ঘটনার তদন্ত করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন, সাতক্ষীরা জজকোর্টের পিপি এড. ওসমান গণি এবং সহযোগিতায় ছিলেন, অতিরিক্ত পিপি এড. ফাহিমুল হক কিসলু, অতিরিক্ত পিপি এড. তপন কুমার দাস ও অতিরিক্ত পিপি সৈয়দ জিয়াউর রহমান বাচ্চু।
মামলা পরিচালনাকারী এড. ওসমান গণি(পিপি) বলেন, দীর্ঘদিন পর মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ায় অনেকটা ভালো লাগছে। মামলা বাদী তার সাক্ষ্য সুনিপুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। উক্ত মামলায় জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হাবিব, হোলাম মোস্তফা, দাদা তুষার ও প্রকাশ সরকার পলাতক রয়েছেন।