হাসপাতালের ভুলে দুই ভাইকে নিয়ে বিপাকে পুলিশ

0
64

অনলাইন ডেস্ক :

দিনটি মঙ্গলবার (২১ মার্চ)। সময় বেলা সাড়ে ১১টা। পারিবারিক বিরোধে জের ধরে বড় ভাই ও ছোট ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। সেই সময়ে বৃদ্ধ বাবা চেয়ার থেকে উঠে দুই ছেলের বিরোধ মেটানোর জন্য তাদের কাছে যাচ্ছিলেন। কাছে আসতেই ওই বৃদ্ধ হোঁচট খেয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে মেঝো ছেলে মানিক বাবাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বুধবার সকালে বৃদ্ধ বাবা আব্দুল খালেক (১০১) পরলোক গমন করেন। হাসপাতালে বাবার মরদেহ আনতে আসলে দুই ভাই আফতাব উদ্দিন (৫৫) ও হিরা মিয়াকে (৩৫) আটক করে ঠাকুরগাঁও থানা পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা জগন্নাথপুর সিংগিয়া ছোট খোচাবাড়ি এলাকায়। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছে পুলিশ ও মৃত আব্দুল খালেকের পরিবার।

ঠাকুরগাঁও থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মশিউর রহমান জানান, জগন্নাথপুর সিংগিয়া ছোট খোচাবাড়ি এলাকার আব্দুল খালেকের দুই ছেলের বিরোধ মেটোনোর সময় ঘটনাটি ঘটেছে। মৃত আব্দুল খালেকের নাম হাসপাতালের পুলিশ খাতায় লেখার কারণে তার দুই ছেলেকে আটক করা হয়েছে। মরদেহে আঘাতের কোনো দাগ পাওয়া যায়নি। যেহেতু পুলিশ খাতায় নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাই মরদেহ ময়নাতদন্তের উপর বিষয়টি নির্ভর করবে। আব্দুল খালেকের মেঝো ছেলে মানিক জানান, বাবা পড়ে যাওয়ার পর জ্ঞান হারিয়ে ফেলনে, এতে আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি। ভর্তির সময় মারামারির কথা আসলে হাসতালের জরুরি বিভাগ পুলিশ খাতায় নাম ওঠায়। কিন্তু বৃদ্ধ বাবাকে আমার কোনো ভাই আঘাত করেনি। বাবা তাদের বিরোধ মেটানোর জন্য যাওয়ার সময় পড়ে যায়। হাসপাতালে পুলিশের খাতায় নাম ওঠার কারণে আমার দুই ভাইকে হাসপাতাল থেকে আটক করা হয়েছে। এখন এ নিয়ে আমাদের পরিবার বিপাকে পড়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী মিজানুর জানান, ছেলেদের আঘাতে চাচা অসুস্থ হয়নি। আমরা প্রতিবেশীরা ঝগড়া মেটানোর সময় হঠাৎ দেখি খালেক চাচা মাটিতে পড়ে আছে। পড়ে সবাই মিলে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি। বুধবার খালেক চাচার মৃত্যুর খবর শুনলে আমরা হতভাগ হয়ে পড়ি। হাসপাতাল সূত্র জানায়, সদর উপজেলার জগন্নাথপুর সিংগিয়া ছোট খোচাবাড়ি এলাকায় আব্দুল খালেককে (১০১) অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে জ্ঞান ফিরলে তার চিকিৎসা দেয়া হয়। বুধবার সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. আবু মো. খায়রুল কবির জানান, মৃত খালেক ছেলেদের বিরোধ থামানোর সময় ঘটনাটি ঘটেছে বলে আমরা জেনেছি। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ খাতায় নাম উল্লেখ করার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, জরুরি বিভাগে কোনো রোগী ভর্তি হলে কী কারণ জানতে চাওয়া হয়। মারামারি বা দুর্ঘটনার কারণ হলে পুলিশ খাতায় নাম উঠানো হয়।

জগন্নাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলাল মাস্টার জানান, আমি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। দুই ভাইয়ের বিরোধ মেটানোর সময় আব্দুল খালেক সামনে আসতে পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে বলে পারিবারিক সূত্রে জেনেছি। কিন্তু হাসপাতালে পুলিশ খাতায় নাম ওঠার কারণে দুই ছেলেকে আটকের ফলে আমরা ও পুলিশ বিপাকে পড়েছি। এটি কোনো হত্যার ঘটনা নয় বলে তিনি দাবি করেছেন। অভিযুক্ত ছেলে আফতাব ও হিরা জানান, আমরা দুই ভাইয়ের মধ্যে কথাকাটি হচ্ছিল। হঠাৎ দেখি বাবা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন। সকালে হাসপাতালে বাবা মারা যায়। আমরা বাবার মরদেহ নিতে গেলে পুলিশ আমাদের থানায় নিয়ে আসে। বাবার সঙ্গে আমাদের কোনো ঝগড়া বিবাদ ছিল না। ঠাকুরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, আব্দুল খালেকের পাঁচ সন্তান। অন্য সন্তানদের যদি কোনো অভিযোগ পাওয়া না যায় তাহলে মামলা রুজু করা হবে।

এস এম পলাশ

LEAVE A REPLY