হারিয়ে যাচ্ছে আশাশুনির মাদুর শিল্প

0
853

কাদাকাটি (আশাশুনি) প্রতিনিধি :
আশাশুনির মাদুর শিল্প প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে। আগের মতো নেই এ শিল্পটি। গত কয়েক বছর আগেও দেশের বিভিন্নস্থানে এখান থেকে মাদুর শিল্প রপ্তানি হয়েছে। বিভিন্ন সমস্যার কারণে মাদুর শিল্প কারিগররা এ পেশা থেকে সরে দাড়াচ্ছে। আশাশুনির কুল্যা, কাদাকাটি, দাঁতপুর, তেতুলিয়া যদুয়ারডঙ্গা টেংরাখালি মহাজনপুর, মহিষাডাঙ্গা, বড়দল, বোলাবাড়িয়া, শোভনালী সহ আরো কয়েকটি গ্রামে এ মাদুর বুনার কাজ করা হয়। বেশ কিছু এলাকায় যেয়ে তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, মাদুর ম্যালি দিয়ে বুনতে হয়। এখন এর চাষ কমে গেছে। আগের মতো বেশেী পাওয়া যায় না। যা পাওয়া যায় তা বেশী দাম দিয়ে কিনতে হয়। তৈরি করতে বেশী খরচ হলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানি করতে পরিবহন খরচ অনেক বেশী হচ্ছে। তাতে আমাদের লাভ হচ্ছে না। তবে আগে অনেক কম খরচে তৈরি করতাম, বিক্রি করে লাভও পেতাম। তাতে আমাদের সংসার ভালোভাবে চলতো। এখন আর সেভাবে লাভ না হওয়ায় আস্তে আস্তে এ কাজ ছেড়ে দিতে হচ্ছে। ফলে অন্য কাজে বিশেষ করে ভ্যান,রিক্সা, দিনমুজুর সহ বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত হচ্ছে।
শোভনালী গ্রামের মাদুর ব্যবসায়ী রনজিৎ বলেন, এখান থেকে ২০বছর আগে এ মাদুরের ব্যবসা অনেক জমজমাট ছিলো। কারন সে সময় নদীনালা, খাল-বিল সচল ছিলো। নৌকা যোগে নদী পথে কম খরচে আশাশুনি বাজার, বড়দল বাজার, বুধহাটা বাজার, খুলনা, পাইকগাছা সহ বিভিন্ন জায়গায় রপ্তানি করা যেত তাতে সংসার ভাল চলত। এখন আর নদীনালাও নেই ব্যবসাও নেই। যার কারনে ব্যবসা অনেকে গুটায়ে নিচ্ছে। অন্য ব্যবসায় জড়িত হচ্ছে। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে মাদুর শিল্প।
কাদাকাটির মাদুর ব্যবসায়ী দিপংকর কুমারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বরেন, একটি মাদুর বুনতে খরচ হয় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা আর সময় লাগে ১ থেকে ২ দিন। সেই মাদুর বাজারে বিক্রি করে ১৫০ থেকে ২১০ টাকা যাতে মাত্র লাভ হয় ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এতে সংসার চলেনা। তাই মানুষ বাধ্য হচ্ছে ছেড়ে দিতে মাদুর শিল্প পেশা।

LEAVE A REPLY