হারিয়ে গেছে সহনশীলতা

0
138

বরুণ ব্যানার্জী :

একের পর এক নৃসংশ ঘটনা ঘটে চলেছে আমাদের প্রিয় দেশটিতে। মানুষ পুড়িয়ে মারা, স্ত্রীর পরকীয়ায় স্বামী খুন, স্বামীর পরকীয়ায় স্ত্রী খুন, হত্যা, ধর্ষণ, গুলি, মানুষকে পিটিয়ে মারা ইত্যাদি, ইত্যাদি। বলছি না আগে কোনো হত্যা-ধর্ষণ ও নির্মমতা ঘটত না। ঘটত কিন্তু দিনকে দিন যেন তা একদিকে যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে এই ঘটনাগুলোর নৃসংশতা দিনকে দিন ভয়াবহ আকারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবশ্য আমি যুদ্ধকালীন সময়ের বর্বরতাকে এর কোনোটির সাথে তুলনা করছি না। সেই সময় তো পৃথিবীর জঘন্যতম গণহত্যা ও মানবিক বিপর্যয় ঘটেছিল সেই সময়কে বাদ দিয়েই বলছি, স্বাধীন দেশের স্বাভাবিক সময়ে এই ভয়াবহ প্রবণতায় দেশবাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে। এবং সেই ভাবনা অমূলক নয়। রক্তপিচ্ছিল দীর্ঘপথ বেয়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। স্বাধীনতার পর ৪৪ বছর পার করলাম। এরমধ্যে আমাদের অনেক অর্জনও হয়েছে। অবশ্য স্বাধীনতার জন্য আমাদের ত্যাগ এত বিশাল-বিপুল যে সেই তুলনায় আমাদের আরও বেশী অর্জনের কথা ছিল। প্রযুক্তি, যোগাযোগসহ নানা দিকে আমরা বেশ এগিয়েছি। অর্থনৈতিক দিক দিয়েও আমরা এগিয়েছি। শিক্ষার ক্ষেত্রে আজ যে হার আমরা কাগজে-কলমে দেখতে পারছি তাতে করে বলতে হয়, এ বিষয়েও আমরা এগিয়েছি। কিন্তু আমার কেন যেন মনে হয়, আমরা কেবল যান্ত্রিক বা যন্ত্র-প্রযুক্তিক বিষয়েই কেবল এগিয়েছি ঢের আর পিছিয়েছি মানবিকতা চর্চায়। যদি তা-ই না হয়ে থাকবে তবে আজ তো এমন হবার কথা নয়।

মায়া, মমতা, স্নেহ, দয়া, সহনশীলতা, ন্যায়, সততা, নিষ্ঠা, মানবিকতা এইগুলি কি আজ ক্রমে ক্রমে কেবলই লিখিত শব্দ বা অভিধানে ধারণকৃত শব্দে পরিণত হচ্ছে না? অনেকে হয়ত বলবেন, ‘একমত নয়’। আমি বলতে চাই, আমিও আপনাদের মতের সাথে থাকতে চাই এবং জোর গলায় বলতে চাই, ‘একমত নয়’। কিন্তু বাস্তবতা তো বলছে, (হোক সে গুটিকয়েক মানুষের অপকর্ম) সমাজে-রাষ্ট্রে অন্যায়-অবিচার বেড়ে গেছে। এবং সেই ক্রমবৃদ্ধিমাণ চরম অন্যায়কে কেবল ‘অন্যায়’ বললে যেন সত্যের উপর নরম প্রলেপ দেওয়া হয়। কেননা কখনো কখনো তা যে চরম বর্বরতা, চরম নৃসংশতা, চরম নিষ্ঠুরতা।

আসুন, আমরা জেগে উঠি— সচেতনতায়, মানবিকতায় ও ন্যায্যতায়।

LEAVE A REPLY