হলদে মাঠে কৃষকের হাসি

0
51

ডেস্ক রির্পোট:

নীলফামারীতে এবার চলতি রবি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ সরিষার আবাদ হয়েছে। এ মৌসুমে সরিষা চাষ লাভজনক হওয়ায় আবাদে মনোযোগ দিয়েছে এলাকার কৃষকরা, মুখে ফুটেছে হাসি। এছাড়া আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষিরা ভাল ফলনের আশা করছেন।

সদর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এবারে চলতি মৌসুমে উপজেলায় এক হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ছিল। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অর্জিত জমির পরিমাণ ২ হাজার ১শ হেক্টর। উফসি জাতের সরিষা চাষ করা হয়েছে। এছাড়াও টলি-৭ ও সম্পদ জাতের সরিষা রয়েছে।

মাঠে মাঠে শুধুই যেন হলুদের সমারোহ। গুন গুন করছে মৌমাছি সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে ব্যস্ত মৌমাছির ঝাঁক। এদিকে কম খরচে বেশি লাভের আশায় কৃষকরা এবার বোরো ধানের জমিতে আগাম জাতের ও অধিক ফলনশীল তেল জাতীয় এই ফসলের চাষ করছেন। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা।

নীলফামারী সদরের রামনগর ইউনিয়নের বিশমুড়ি এলাকার কৃষক আশরাফ আলী বলেন, কয়েক দফা বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা জমিতে আগাম জাতের সরিষার আবাদ করছেন। তিনি আরও বলেন, ধানের দামের দরপতনের কারণেই প্রতি বছরই তাদের লোকশান গুনতে হচ্ছে। তাই বিকল্প ফসল হিসেবে অন্য ফসলের পাশাপাশি তারা সরিষা চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

একই এলাকার সরকার পাড়া গ্রামের কৃষক বাবুল হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে ২ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। সরিষা তুলে নিয়ে ওই জমিতে বোরো ধান লাগাবেন। সরিষার ফসল থেকে উপার্জিত আয় বোরো ধান উৎপাদনে সহায়ক হবে বলে তিনি জানান।

উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়া গ্রামের কৃষক খোকন মিয়া বলেন, আগাম জাতের সরিষার অর্জিত অর্থ দিয়ে বোরো ধানের খরচ চালানো সহজ হবে। এছাড়াও সরিষা চাষে সার কম প্রয়োগ করতে হয়। সেচ, কীটনাশক ও নিড়ানি লাগে না। একেবারেই খরচ কম ও স্বল্প সময়ে এ ফসল ঘরে তোলা যায়। বাজারে বর্তমান দামও ভাল।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় রেকর্ড পরিমান সরিষার চাষ করা হয়েছে। দেশে কয়েক দফা বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকরা সরিষা চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন। চলতি বছর বিঘা প্রতি সরিষার পরিমান ধরা হয়েছে ৬ মন। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার আবাদ থেকে কৃষকরা বাড়তি মুনাফা আয় করতে পারবেন বলে আশা করছি।

এদিকে, সরিষার রোগ বালাই দমনে মাঠ পর্যায়ে উপ-কৃষি কর্মকর্তা চাষিদের রোগ বালাই দমনে নানা পরামর্শ প্রদান করছেন।

মামুন হোসেন মিলন