হত্যার অভিযোগে যশোরে ১৬ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

0
37
ডি এস ডেস্ক:
ছেলে ও তার বন্ধুকে আটকের পর ঘুষ না পেয়ে হত্যা করার অভিযোগে যশোর মডেল থানার ১৬ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে যশোর জুডিসিয়াল আদালতে মামলা করেছেন নিহতের মা।
মামলার আসামীরা হলেন- থানার এসআই এইচ এম শহিদুল ইসলাম, আমির হোসেন, হাসানুর রহমান, এএসআই রাজন গাজী, সেলিম মুন্সী, বিপ্লাব হোসেন ও সেলিম আহম্মেদ এবং কনস্টেবল আরিফুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, আবু বক্কার, মাহমুদুর রহমান, রাজিবুল ইসলাম, টোকন হোসেন, ড্রাইভার কনস্টেবল রমজান ও মিজান শেখ।
মঙ্গলবার দুপুরে সদর আমলি আদালতে মামলাটি করেন নিখোঁজ সাইদের মা হিরা খাতুন। তিনি যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার তৌহিদুল ইসলাম খোকনের পরিত্যাক্ত স্ত্রী।
আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের শাহিনুর রহমানের আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিষয়টি তদান্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের আদেশ দেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, বাদিনী হিরা খাতুন একজন স্বামী পরিত্যক্তা নারী। তিনি একমাত্র ছেলে সাইদকে নিয়ে শহরের শংকরপুর এলাকায় বসবাস করতেন। গত ০৫ এপ্রিল সাইদ ও তার বন্ধু শাওন যশোর পৌর পার্কে বেড়াতে গেলে এসআই এইচ এম শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পরে থানায় এ বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে পরিবারের লোকজনকে সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় ঢুকতে নিষেধ করেন। সন্ধ্যার পর থানায় ঢুকলে এসআই এইচ এম শহিদুল ইসলাম বাদিনীকে ডেকে বলেন, ছেলেকে ছাড়াতে হলে দুই লাখ টাকা দিতে হবে, না হলে দুজনকেই ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যা করে মরদেহ গুম করে দেওয়া হবে।
এ বিপুল পরিমাণের টাকা জোগাড় করতে না পারায় আমি পরে এসআই এইচ এম শহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি। পরের দিন অর্থাৎ ০৭ এপ্রিল বাদী পত্রিকা পড়ে জানতে পারেন, তার ছেলে সাইদ ও তার বন্ধু শাওন পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে গেছেন। পরে আদালতে গিয়ে জানতে পারেন, পুলিশ এ বিষয়ে মামলা করেছে। এতে বলা হয়েছে, আটক সাইদ ও শাওন পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে গেছেন।
বিষয়টি নিয়ে যশোর মডেল থানার এসআই এইচ এম শহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে সংযোগ দিয়ে গত ৫ই এপ্রিলের প্রকৃত ঘটনাটি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই মামলাটি আমার নামে হয়নি। এর আগে মডেল থানায় এসআই শহিদুল ইসলাম আরো এক জন ছিলেন তার নামে মামলাটি হয়েছে।
তিনি এখন কোথায় আছেন তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেশ কয়েক মাস আগে সে এখান থেকে বদলি হয়ে গেছে। তবে কোথায় বদলি হয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি সাথে সাথে ফোনটির সংযোগ বিছিন্ন করে দেন।

দৈনিক সাতক্ষীরা/জেড এইচ