স ম আলাউদ্দিন হত্যার ২১ বছরে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন সাতক্ষীরাবাসী চায় ন্যায় বিচার, খুনিদের বয়কট

0
98

শহর প্রতিনিধি :
বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সাংবাদিক সমাজকে  আরও সোচ্চার হতে হবে। সাতক্ষীরায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড সমূহ দিন দিন চাপা পড়ে যাচ্ছে এই আশংকা ব্যক্ত করে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন আমরা সচেতন হলে এবং প্রতিবাদী হয়ে উঠলেই কেবল এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব। সমাজে একটি খুন হবে আর তার বিচার হবে না তা মেনে নেওয়া যায় না। এজন্য প্রতিবাদের ভাষাকে আরও কঠিন করতে হবে। আমরা চাই ন্যায় বিচার।
সাবেক গণপরিষদ সদস্য,  প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা, দৈনিক পত্রদূত সম্পাদক, ভোমরা স্থল বন্দরের প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ সম আলাউদ্দিনের ২১ তম শাহাদাত বার্ষিকীতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব আয়োজিত স্মরণ সভায় সাংবাদিক বক্তারা এসব কথা বলেন। তারা আরও বলেন আলাউদ্দিন ছিলেন একজন নিখাদ দেশপ্রেমিক। তিনি জনগনের কথা বলতেন। জনগনের শক্তিই ছিল তার শক্তি। সমাজের সকল স্তরেই তিনি ছিলেন একজন বলিষ্ঠ, সোচ্চার ও প্রতিবাদী মানুষ।
সম আলাউদ্দিন ছিলেন আমাদের পথপ্রদর্শক, উন্নয়ন ভাবনার রুপকার,  শিল্প বান্ধব, অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তি এবং ধর্মপ্রাণ মানুষ। তিনি ছিলেন সৎ ও নিষ্ঠাবান রাজনীতিক, সমাজ হিতৈষী এবং শিক্ষিত মানব। তার মধ্যে ছিল বিরল সাহস, ছিল একাগ্রতা, আপসহীনতার মনোভাব এবং সৃজনশীল প্রতিভা। মাত্র অর্ধ শতাব্দী পার না হতেই তিনি আততায়ীর গুলিতে প্রাণ হারান। তিনি এমন অসময়ে চলে না গেলে সাতক্ষীরায় প্রভূত উন্নতি হতো। তার মৃত্যু আমাদের সমাজকে বহুদুর পিছিয়ে দিয়েছে। তার অকাল মৃত্যুর পর দুই দশকেরও বেশি সময় পার হলেও আলাউদ্দিন হত্যার বিচার হয়নি। কখনও কোয়াশমেন্ট, কখনও মামলার সাক্ষির অনুপস্থিতি এমনসব নানা অজুহাতে আলাউদ্দিন হত্যা মামলা পিছিয়ে পড়েছে মন্তব্য  করে তারা আরও বলেন এখন থেকে সবাইকে চোখ মুখ খোলা রাখতে হবে।  এই মামলার ন্যায্য বিচার না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিকরা কেউ ঘরে ফিরবেন না এই আহবান জানিয়ে বক্তারা আরও বলেন আমরা চোখ কান খোলা রাখলে এবং সচেতন থাকলে বিচারহীনতা আমাদের গ্রাস করতে পারবে না।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাব সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদ। প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আবদুল বারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ , সাবেক সভাপতি সুভাষ চৌধুরী, সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আনিসুর রহিম, সাবেক সভাপতি জিএম  মনিরুল ইসলাম মিনি, দৈনিক দক্ষিনের মশাল সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহি, প্রথম আলোর কল্যাণ ব্যানার্জি, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী, প্রেসক্লাব কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ম সম্পাদক গোলাম সরোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম, দেশ টিভির শরিফুল্লাহ কায়সার সুমন, ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির আবুল কাসেম প্রমুখ সাংবাদিক। এ সময় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের তিন সাবেক সাধারন সম্পাদক মো. রুহুল কুদ্দুস, এম কামরুজ্জামান, মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল,  সেলিম রেজা মুকুল, মো. আমিনুর রশীদ, কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, সদস্য এম ঈদুজ্জামান ইদ্রিস, সদস্য আশরাফুল ইসলাম খোকন, সদস্য  শহিদুল ইসলামসহ  সকল কর্মকর্তা ও অন্যান্য  সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
স্মরণ সভায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপীর সহোদর মোজাফফর রহমানের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। এ সময় তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়। এতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কালিদাস কর্মকার এবং প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক মিজানুর রহমানের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়। তারা দুজন পৃথক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে এখন বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগে প্রয়াত নেতার গ্রামের বাড়ি তালার মিঠাবাড়িতে তার মাজারে পুস্পস্তবক দেন সাংবাদিকরা। এ সময় তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করেন প্রয়াত নেতা সম আলাউদ্দিনের রাজনৈতিক বান্ধব পাটকেলঘাটার মো. আনসার আলি।
প্রেসক্লাব সমাবেশে সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ বলেন আমরা হত্যার বিচার চাই। বিচারের নামে দীঘসূত্রিতা চাইনা। সাবেক সভাপতি সুভাষ চৌধুরী বলেন সম আলাউদ্দিন ছিলেন সমাজের একজন শিক্ষক। রাজনীতি, সমাজ উন্নয়ন, শিল্পায়ন, বানিজ্য, সাংবাদিকতা সকল ক্ষেত্রে তিনি সততার পরিচয় দিয়ে আমাদের পথপ্রদর্শক হয়ে উঠেছিলেন। সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আনিসুর রহিম বলেন বিচারহীনতার সংস্কৃতি আমাদের পেয়ে বসেছে। আমরা এই বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। সাবেক সভাপতি জিএম মনিরুল ইসলাম মিনি বলেন সম আলাউদ্দিন ছিলেন একজন বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর। তিনি নিপীড়িত মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। দৈনিক দক্ষিনের মশাল সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহি বলেন রাজনৈতিক সততায় তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়। তিনি ছিলেন সকল ক্ষেত্রে একজন অনুকরনীয় ব্যক্তি। প্রথম আলোর কল্যাণ ব্যানার্জি বলেন তিনি ছিলেন সাহসিকতার প্রতীক। সমাজ উন্নয়নে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে অমর হয়ে রয়েছেন। হত্যাকারীদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। সাবেক সাধারন সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী বলেন ভোমরা স্থল বন্দর প্রতিষ্ঠা করে তিনি সাতক্ষীরাকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন । এখন বেঁচে থাকলে সকল অনিয়ম বিশৃংখলা দুর হতো। প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক গোলাম সরোয়ার বলেন আলাউদ্দিন হত্যার বিচার বাস্তবায়নে প্রয়োজনে মাঠে নামতে হবে। এ ব্যাপারে যথাস্থানে কথা বলতে হবে। প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম বলেন আলাউদ্দিন সাহেব আমাদের ছেড়ে গেলেও তাকে আমরা ছাড়বো না। তার পথ অনুসরন করতে চাই আমরা।  দেশ টিভির শরিফুল্লাহ কায়সার সুমন বলেন যারা খুনি তারা খুৃনিই। তাদেরকে সর্বতোভাবে  বয়কট করতে হবে। ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির আবুল কাসেম বলেন আলাউদ্দিনের মধ্যে যে সাহস ও একনিষ্ঠতা দেখেছি তা অনন্য। তিনি বলেন তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।
স্মরণ সভার সভাপতি প্রেসক্লাব সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদ বলেন সম আলাউদ্দিনকে হত্যার মাধ্যমে খুনিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন হত্যা মামলার বিচার কার্য শুরু হয়েছে। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে তা পিছিয়ে পড়ছে। আলাউদ্দিন হত্যাকারীদের ন্যয্য বিচার দাবি করে তিনি বলেন আমরা অপেক্ষায় আছি। এখন সাক্ষ্য প্রমান চলছে। এই গতি স্বাভাবিক থাকলে ন্যায্য বিচার পাবার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন এখনও বিচারের ব্যপারে কথিত চাপ রয়েছে। তিনি বলেন এসব চাপ উল্টে ফেলে ন্যায় বিচার আদায় করতে হবে।

LEAVE A REPLY