স্বপ্নের ফাইনাল : শিরোপা কার?

0
64

অনলাইন ডেস্কঃ

রানীর দেশ, সমুদ্রের বধু। ইংল্যান্ডের কত নাম! কিন্তু দেশটির এখন দুঃখের শেষ নেই। বড় দুঃসময়ের প্রহর। এক মাসের মধ্যে দু’বার সন্ত্রাসী হামলা। ম্যানচেস্টারে কনসার্টের পর খোদ লন্ডন ব্রিজে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সাধারণ নির্বাচনের ত্রিশঙ্কু অবস্থা। এক ধরনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা। সর্বশেষ সব কিছু ছাপিয়ে গেছে লন্ডনের বহুতলে বিধ্বংসী আগুন। শতাধিক প্রাণহাণি হয়েছে বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন মিডিয়া। সামগ্রিক পরিস্থিতি যা, তাতে পুরো ইংল্যান্ডজুড়েই এক ধরনের অস্থিরতার আবহ। তাতে আর যাই হোক, আপাতত বিনোদন চলতে পারে না। তবুও এত কষ্টের মধ্যে যা কিছুটা হলেও প্রলেপ দিতে পারতো জাত্যাভিমানে, তাতেও গুড়ে বালি। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দুরন্ত শুরুর পরও সেমিফাইনালে এসে আচমকা পাকিস্তানের কাছে হার। পুরো ইংল্যান্ডকেই বলতে গেলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি বিমুখ করে দিয়েছে। চার দিকে কেমন যেন আতঙ্ক। এরই মধ্যে দক্ষিণ লন্ডনের কেনিংটন ওভালে এমন দুটি দেশ ফাইনালে মুখোমুখি, যাদেরকে ফাইনালে পাওয়াটাই যেন স্বপ্নের ব্যাপার। সবাই চায়, কিন্তু হয় না। এর আগে হয়েছিল একবার, ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে। সেবার সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলো এক ম্যাচেই যেন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গিয়েছিল। এক দশক পর কোনো আইসিসি ইভেন্টে দ্বিতীয়বারেরমত ফাইনালে মুখোমুখি ভারত এবং পাকিস্তান। যেদিন বাংলাদেশকে হারিয়ে ভারত ফাইনালে নাম লিখিয়ে ফেললো, সঙ্গে সঙ্গেই বিশাল এক ঢেউয়ের ধাক্কা লাগলো করপোরট দুনিয়ায়। আইসিসি সম্প্রচার সঙ্গী স্টারস্পোর্টস তো পৃথিবীর সবচেয়ে সুখি প্রতিষ্ঠান এখন। তাদের বিজ্ঞাপনের দর এখন প্রতি স্লট (৩০ সেকেন্ড) ১ কোটি রুপি। অথ্যাৎ বাংলাদেশি টাকায় ১ কোটি ২৫ লাখ। আইসিসি ট্রফিতে ভারত বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। চার বছর আগে এই ইংল্যান্ড থেকেই তারা শিরোপা জিতে নিয়ে গিয়েছিল। সেবার অধিনায়ক ছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। এবার বিরাট কোহলি। কিন্তু মন-মানসিকতা, আগ্রাসী মনোভাবের কোনো পরিবর্তন হয়নি ভারতীয় দলটির। বরং, ব্যাট হাতে ভারতের এক একজন যেন এক একটি দল। একাই একশো। রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান থেকে শুরু করে প্রতিপক্ষের বোলিংয়ে ধ্বস নামানোর সব ধরনের রসদই মজুত রয়েছে ভারতীয় দলে। যুবরাজ, ধোনি, পান্ডিয়া, কেদার যাদব থেকে শুরু করে জসপ্রিত বুমরাহ পর্যন্ত ব্যাটিং করতে পারেন। ফাইনালে এবার যে পাকিস্তানের মুখোমুখি ভারত, সেই পাকিস্তানকে গ্রুপ পর্বের ম্যাচেই একবার বিধ্বস্ত করেছে তারা। তার ওপর আইসিসি ইভেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের যে রেকর্ড, তাতে চোখ বন্ধ করে যে কেউ বিরাট কোহলিদের পক্ষে বাজি ধরতে পারেন। আইসিসি ইভেন্টে ১৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে ভারত। বিশ্বকাপে ৬ বার, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৫ বার পাকিস্তানকে হারিয়েছে ভারত। তবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ২বার জিতেছে পাকিস্তান। ২বার জিতেছে ভারত। ইতিমধ্যে জুয়ার বাজারে যে ঢেউ উঠেছে, সেখানেও দেখা যাচ্ছে ভারতীয়দের জয়জয়কার। কারণ, সবাই ভারতের পক্ষেই বাজি ধরছে। এ কারণে ভারতের বিপক্ষে বাজির হার কমছে জ্যামিতিক হারে। আর পাকিস্তানের পক্ষে বাজির দর বেড়ে যাচ্ছে হু হু করে। কিন্তু পাকিস্তান যে পুরোপুরি আনপ্রেডিক্টেবল। গ্রুপ পর্বে ১২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হোঁচট খাওয়ার পর ঘুরে দাঁড়ানো এবং সেখান থেকে ফাইনালে উঠে আসা, কে বাতিলের খাতায় রাখতে সাহস পাবে পাকিস্তানকে! দলটির বোলাররা যে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে, তাতে করে ভারতীয় ব্যাটিংকে তারাই একমাত্র চ্যালেঞ্জ জানানোর ক্ষমতা রাখে। পাকিস্তান কোচ মিকি আর্থার তো তার বোলারদের ওপর আস্থা রেখে জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতীয় ব্যাটিংকে থামানোর কৌশল জানা হয়ে গেছে তার। সুতরাং, স্বপ্নের ফাইনালে কার হাতে উঠবে শিরোপা, কে জিতবে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মুকুট, সেটাই এখন হাজার হাজার কোটি টাকার প্রশ্ন। রোববার বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৩টায় শুরু হওয়ার পরই বোঝা যাবে সেটা।

মামুন হোসেন মিলন

LEAVE A REPLY