সেপ্টেম্বরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কাজ শুরু

0
55
অনলাইন ডেস্ক:

সারাদেশে বন্যার কারণে যেসব ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের বাড়িঘর, মৎস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আবাদী জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে তাদের পুর্নবাসন করবে সরকার। আর এই পুর্নবাসন কার্যক্রম সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি শুরু হতে পারে। ইতোমধ্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পরিসংখ্যান ও আর্থিক ক্ষতির পরিমাপ সংগ্রহ করছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়। আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা, কী পরিমাণ সহায়তা লাগবে তার ‘ইস্টিমেট’ তৈরির কাজ শেষ হবে। এরপর শুরু হবে আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্বাসনের কাজ।এ বিষয়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সত্যব্রত সাহা আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, সারাদেশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের হিসাব নিরীক্ষায় বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় জড়িত। এরমধ্যে রয়েছে, কৃষি, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল, এলজিআরডি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়। এসব মন্ত্রণালয় আলাদা আলাদাভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করবে। এরপর সম্মিলিতভাবে বৈঠক করে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করবে। এসব কার্যক্রমের সমন্বয় করবে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের পুনর্বাসনে জন্য ৯০ লাখ ৮৬ হাজার টাকা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এ জন্য ইতোমধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসক ও কৃষি বাস্তবায়ন পুনর্বাসন কমিটির সভাপতির নামে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সেই বরাদ্দপত্র থেকে জানা গেছে, কলার ভেলায় ভাসমান বীজতলা তৈরিতে ৭ লাখ ৫৮ হাজার ১৬০ টাকা, নাবী জাতের রোপা আমন ধানের বীজ বিতরণে ৩ লাখ ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং নাবী জাতের রোপা আমন ধানের বীজতলা তৈরি, চারা উত্তোলন ও বিতরণে ৮০ লাখ ২৬ হাজার ২০০ টাকা লাগবে। আর মৎস্য অধিদপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষিদের সহায়তার জন্য ৪৫৯ কোটি টাকার সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ে।কৃষকদের ক্ষতির বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও উপকরণ) মো. সিরাজুল হায়দার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত একজন কৃষক এক বিঘা আমন ধানের জমিতে রোপনের জন্য শুধু ধানের চারা বিনামূল্যে পাবেন। আমন ধানের বীজ বিতরণের ক্ষেত্রে একজন কৃষক এক বিঘা জমির জন্য ৫ কেজি ধানের বীজ বিনামূল্যে পাবেন।পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় প্রত্যেকটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে তিনবান্ডিল টিন এবং ৫ হাজার টাকা দেবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত সচিব সত্যব্রত সাহা।ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় মাছ ও গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তৈরি করবে। এরপর এসব খাতে পুনর্বাসনের প্যাকেজ ঘোষণা করবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বন্যা পরবর্তী বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে মেডিকেল টিম গঠন করেছে। তারা ইতোমধ্যে কাজ করছে বন্যা কবলিত এলাকায়।সত্যব্রত সাহা আরও বলেন, দেশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুর্নবাসনের উদ্যোগ আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে শুরু হবে। বন্যায় সারাদেশে কী পরিমাণ রেল, কৃষি, মৎস্য ও সড়কের ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এবারের বন্যায় বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি মোকাবিলায় আমরা পরিকল্পনা করে এগুচ্ছি। আমাদের মন্ত্রণালয় ছুটিরিদিন সহ ২৪ ঘণ্টা বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করছে।ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জাকির হোসেন আকন্দ  বলেন, দেশের উত্তর অ লের পানি নেমে যাচ্ছে। নতুন করে দক্ষিণ অ ল প্লাবিত হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী ৩৩টি জেলায় ১৭ লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।শিক্ষা মন্ত্রণালয় সারাদেশের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানরে ইস্টিমেট দেবে। এসব প্রতিষ্ঠান সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এছাড়া রাস্তাঘাট মেরামতের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।