সেনা সদস্য কর্তৃক এনজিওকর্মীর জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ

0
72

স্টাফ রিপোর্টার :
সাতক্ষীরায় প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে এক সেনা সদস্য ও তার পরিবারের সদস্যরা একজন এনজিও কর্মীর জমি দখলের পায়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কলারোয়া বাজারের মৃত শেখ আশরাফ আলীর ছেলে এনজিও কর্মী শেখ হাফিজুর রহমান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, কলারোয়া উপজেলা সদরের তরকারি বাজারের শেখ আব্দুল মালেক জীবিত অবস্থায় ঝিকরা মৌজার ২৮ দাগে মোট ২৪ শতক জমির মধ্যে থেকে ৪ শতক তার স্ত্রী মোছা রোকেয়া খাতুনের নামে ও ২ শতক জমি মেয়ে মোছাঃ আয়শা খাতুনের নামে এবং ৬ শতক জমি তার ছেলে মৃত আবু জাফরের দুই ছেলে শেখ সাদ্দাম হোসেন জনি ও শেখ আসাদুজ্জামান রনির নামে ১৯৯১ সালে দান পত্র করে দেন। আমি ২০০৫ সালে আমার মাতা রোকেয়া খাতুনের কাছ থেকে ৪ শতক  ও বোন  আয়শা খাতুনের কাছ থেকে ২ শতক জমি রেজিঃ কোবলা দালিল মূলে ক্রয় করি। আমার ক্রয় সূত্রে প্রাপ্ত ৬ শতক ও আমার সৎ ভাইপো শেখ সাদ্দাম হোসেন জনি ও শেখ আসাদুজ্জামান রনির দানপত্র সূত্রে প্রাপ্ত ৬ শতক মিলে মোট ১২ শতক জমির মধ্যে থেকে প্রায় ৫ শতকের মত জমিতে বাজারের গলি ও ফুট পথ নির্মাণ হয়েছে। বাকী ৭ শতক জমিতে আমরা উভয় পরিবার বসত ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছি। কিন্তু আমার দুই ভাইপো জনি ও রনি এবং তার মা হোসনেয়ারা খাতুন কৌশলে আমার অংশের জমি দখলের পায়তারা শুরু করে দেয়। সাদ্দাম হোসেন জনি একজন সেনা সদস্য হওয়ায় প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে আমাদেরকে ভিটা থেকে উচ্ছেদ করতে মরিয়া হয়ে উঠে। জমি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য সে নানাভাবে আমাকে হুমকি-ধামকি দিতে থাকে। এনিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েকবার শালিসও হয়েছে। কিন্তু জনি সেনা সদস্য হওয়ায় তারা কোন শালিসের রায় মানতে নারাজ। জনির ভাই শেখ আসাদুজ্জামান রনি জেএমবি’র প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত একজন সক্রিয় সদস্য।
তিনি আরো বলেন, জনি-রনি’র মাতা হোসনেয়ারা খাতুন গত ১৯ মে শুক্রবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আমার ও আমার সৎ ভাই (জনি’র চাচা) শেখ বদিউজ্জামান  ও স্থানীয় শেখ আমজাদ হোসেনের নামে যে বক্তব্য প্রদান করেছেন তা সম্পূর্ন মিথ্যে, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। নিজেদের অপরাধ ঢাকতে তিনি এমন বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করেছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করার পর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রনি  ও তার মা হোসনেয়ারা খাতুন ১০/১২ জন সন্ত্রাসী নিয়ে আমার বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এসময় তারা আমার বোন রুমির কানের দুলসহ ৪/৫ ভরি ওজনের স্বর্ণের গহনা ও নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এঘটনার পরও তারা আমাদের ক্ষয়ক্ষতি ও মিথ্যে মামলা করার হুমকি অব্যহত রেখেছে। তিনি জনি-রনি ও মাতা হোসনেয়ারা খাতুনের অন্যায় অতাচার থেকে রক্ষা পেতে পুলিশ সুপার ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।