সুবিধাবঞ্চিত পথশিশু ও আমাদের করণীয়

0
77

বরুণ ব্যানার্জীঃ

পথশিশুদের একটি বড় অংশ তাদের পরিবার ছাড়াই দিনে–রাতে রাস্তায় অবস্থান করে। কিছু শিশু সারাদিন ভিক্ষা করে রাতে পরিবারে ফিরে আসে। আবার কিছু শিশু রাস্তাতেই রাতযাপন করে। দেশের নগর,বন্দর ও শহরে দিনে দিনে প্রসারিত হচ্ছে ছিন্নমূল শিশুদের মিছিল। এদের একটি অংশ প্রতিদিন রাত কাটায় রাস্তা ও ফুটপাতে। চোরাচালান ও মাদক বিক্রিসহ সমাজবিরোধী বিভিন্ন কার্যকলাপে এসব পথশিশুরা ব্যবহার হচ্ছে আশঙ্কাজনকহারে। বিক্ষিপ্তভাবে বেড়ে ওঠা এসব শিশুরা যেমন বঞ্চিত হচ্ছে তাদের ন্যূন্যতম অধিকার থেকে; ঠিক তেমনি বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার আলো থেকে। দরিদ্র পরিবারগুলো যেমন তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারে। না দরিদ্রতার কারণে, ঠিক তেমনি হাজার হাজার যৌনকর্মী তাদের শিশু সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারে না সামাজিক অবস্থার কারণে। যার ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু সমাজবিরোধী চক্রের সাথে অন্তর্ভূূক্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আর মেয়ে শিশুরা তার মায়ের হাত ধরেই হচ্ছে যৌনকর্মী। অপরদিকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে দেশের লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবী শিশু। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দারিদ্রতার কারণে এসব শ্রমজীবী শিশুর পরিবারগুলো তাদের সন্তানকে শ্রমে নিয়োজিত হতে বাধ্য করে। আবার অনেক সময় সামাজিক অবস্থার কারণে শিশুরা নিয়োজিত হয় বিভিন্ন ধরণের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে। আর এসব পথশিশু, শ্রমজীবী শিশু, যৌনকর্মী শিশুসহ অনেক শিশুই বাদ পড়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের নাগরিকত্ব তালিকা থেকে। জন্মনিবন্ধনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি এসব পথশিশু, শ্রমজীবী শিশু, যৌনকর্মী শিশুসহ অন্যান্য শিশুদের। সারাদেশে বর্তমানে সুবিধাবঞ্চিত, কর্মজীবী ও পথশিশুর সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ। বিনামূল্যে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও এসব সুবিধাবঞ্চিত, কর্মজীবী ও মধ্যবিত্ত ও উচ্চতর পরিবারের অনেক শিশুই এখনো রয়ে গেছে জন্ম–নিবন্ধন কার্যক্রমের বাইরে। উন্নত দেশগুলোতে শিশু জম্মেও সাথে সাথে শিশুর জন্ম–নিবন্ধন করা হলেও আমাদের দেশে এখনো লাগেনি সেই আধুনিকতার ছোঁয়া। সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো শিশুসনদের যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছে তার প্রায় সব থেকেই বঞ্চিত হবে পথশিশুরা। শহরের অলিগলি ও ভিআইপি সড়কগুলোয় যে ক্ষণস্থায়ী শিশু বিক্রেতাদের দেখা যায় ওদের কথা পড়ালেখার ইচ্ছা থাকলেও সুযোগ–সুবিধা না পাওয়ার ফলে ওরা শিক্ষা বঞ্চিত। আবার অনেকে বলে যেখানে নুন আনতে পান্তা ফুরায়, একবেলা খাবার খেলে ওবেলার কথা চিন্তা করতে হয় সেখানে পড়ালেখা করব কী দিয়ে। কেউ কেউ এনজিও পরিচালিত পথস্কুলগুলোয় পড়াশোনার সুযোগ পেলেও সে শিক্ষা তাদের জীবন মনোন্নয়নে তেমন কোনো ভূমিকাই রাখতে পারে না। পরিবেশের অভাবে, দারিদ্রতা, অভিভাবকদের অসচেতনতা ইত্যাদি কারণে শিশুরা শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ছে। এই কারণেই ওদের অনেকে শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট এনজিও কার্যকর পদক্ষপেই পারে এসব সুবিধাবঞ্চিত শিশু, পথশিশু, শ্রমজীবী শিশু ও যৌনকর্মী শিশুদের জীবনচিত্র পাল্টে দিতে।