সুন্দরবনে নজরদারি বাড়াতে কোস্টগার্ডের নতুন বেইস

0
183

বাগেরহাট অফিস :

সুন্দরবনে জলদস্যু ও বনদস্যু দমনসহ জলসীমায় নজরদারি বাড়াতে কোস্টগার্ডের জোন ও বেইস স্থাপন করা হচ্ছে। এ জন্য পদ সৃষ্টি করে জনবল নিয়োগের অনুমোদন দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এস এম মুনীর উদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠির সঙ্গে সুন্দরবন জোন ও বেইসের জন্য সামরিক ও বেসামরিক জনবলের সার-সংক্ষেপও পাঠানো হয়। গত ৭ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে দেখা যায়, সামরিক বাহিনীর ৩৮৩জনসহ ৪১০জন নিয়োগের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়।
সুন্দরবন জোন ও বেইসের জন্য প্রাথমিকভাবে ১২টি বোট চাওয়া হয়। ১২টি বোটের জন্য সামরিক জনবল চাওয়া হয়েছে ৭০ জন। তাদের মধ্যে সিপিও পদের জন্য চিফ বোসনমেট ২জন, পোস্ট অফিসার পদের জন্য সহকারি চিফ বোসনমেট, বোর্ডিং পিও, সহকারী ইঞ্জিনরুম ইনচার্জ ৭জন, লিডিং পদের জন্য বোট অপারেটর, সিনিয়র কমিউিনিকেটর, পিওএল ইনচার্জ, মেডিক্যাল সহকারী, ইলেক্ট্রিক্যাল ও রেডিও ইলেক্ট্রিক্যাল ১২ জন, এবি ও সমপর্যায়ের পদের জন্য বোর্ডিং সেকশন, ইঞ্জিন অপারেটর, ইলেক্ট্রিক্যাল অপারেটর ও রেডিও ইলেক্ট্রিক্যাল অপারেটর ৪৯ জন রয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে মংলা জোনের অধীনে কোস্টগার্ড সুন্দরবন ও ওই এলাকার জলসীমান্ত নজরদারি করছে। সুন্দরবন এলাকায় বর্তমানে কোস্টগার্ডের ১০টি স্টেশন রয়েছে। গত আগস্টের প্রথম সপ্তাহে জলদস্যু ও বনদস্যু দমনে সুন্দরবনে ‘পাইরেটস হান্ট’ নামে বিশেষ অপারেশন চালানো হয়। নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে এ অভিযান চালায়। রাসমেলায় কোনভাবেই যেন হরিণ শিকার ও বনজ সম্পদের ক্ষতি না হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় সব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এছাড়া ক্যাপ্টেন ১জন, কমান্ডার ৩জন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ১৩জন, লেফটেন্যান্ট ১৪ জন, এমসিপিও ১জন, সিপিও ১৪জন, পোস্ট অফিসার ৩০জন, লিডিং ৬৫জন ও এবি ১৭২জন। বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির ১জন ও দ্বিতীয় শ্রেণির ১জন কর্মকর্তা ছাড়াও তৃতীয় শ্রেণির ২০জন এবং তুর্থ শ্রেণির ৫জন কর্মচারী নিয়োগের জন্য অনুমোদন দিতে চিঠি দেওয়া হয়।
সুন্দরবন জোন ও বেইস স্থাপন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জি এম মনসুর রহমান  বলেন, ‘কোস্টগার্ডের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নিয়মিত কাজ চলছে। সুন্দরবন জোন ও বেইসের জন্য জনবল নিয়োগ দিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি।’  তিনি বলেন, ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পেলে সেটি অর্থমন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অনুমোদন দেওয়ার পর সচিব কমিটিতে যাবে। সচিব কমিটির অনুমোদন পেলেই সুন্দরবনে জোন ও বেইস স্থাপন করা হবে।’