সীমান্ত দিয়ে আসছে না গরু : হতাশ ব্যবসায়ীরা

6
305

স্টাফ রিপোর্টার :
‘আগে সাতক্ষীরা থেকে হাজার হাজার গরু নিয়ে গেছি। কিন্তু এখন একটিও নেই। আর যা আছে তার দাম তিনগুণ। ব্যবসা শেষ।’ সুদূর লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে সাতক্ষীরায় গরু কিনতে আসা ব্যবসায়ী আফসার আলী এভাবেই হতাশার কথা ব্যক্ত করেন।
তিনি জানান, দশ বছর ধরে তিনি সাতক্ষীরা থেকে গরু নিয়ে যান। কিন্তু গত দেড়-দুই বছর সাতক্ষীরায় গুরু নিতে এসে তাকে শুধু হতাশই হতে হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সাতক্ষীরার বৈকারী, কুশখালী, তলুইগাছা, কাকডাঙ্গা, ঘোনা, গাজীপুর, ভোমরা, মাদরা, হিজলদী, চান্দুড়িয়া, সোনাবাড়িয়া, ভাতশালাসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে আগে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ হাজার ভারতীয় সিন্ধি, ফ্রিজিয়ান, জার্সি, হরিয়ানা, নেপালি, সম্বলপুরিসহ বিভিন্ন জাতের গরু বাংলাদেশে আসতো।
অবৈধভাবে আসা এসব গরু বিজিবির সাতক্ষীরা ৩৮ ব্যাটালিয়নের অধীনে থাকা ১৩টি ও নীলডুমুর ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধীনে থাকা ৪টি খাটালে রেখে শুল্ক করিডোরের মাধ্যমে ৫০০ টাকা হারে রাজস্ব নিয়ে বৈধতা দেওয়া হতো।
কিন্তু ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞা ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে বিজিবির অনুৎসাহে ভারতীয় গরু আসা এখন প্রায় শূন্যের কোটায়।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, জেলার অধিকাংশ সীমান্ত দিয়ে গরু আসা বন্ধ হয়ে গেছে। এসব এলাকার খাটালগুলো অসল পড়ে আছে।
তবে, ভাতশালা, তলুইগাছা ও সোনাবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে খুবই অল্প সংখ্যক গরু আসছে বলে জানা গেছে।
DSC08383 copy
দেবহাটার ভাতশালা এলাকার গরু ব্যবসায়ী বজলুর রহমান বলেন, গরু কখনোই বৈধভাবে আসে না। রাখালরা জীবনবাজি রেখে ওপার থেকে গরু নিয়ে আসে। পরে করিডোরের মাধ্যমে রাজস্ব দিয়ে ওই গরু বৈধ করা হয়। কিন্তু এখন তাও হচ্ছে না। সীমান্তে বিএসএফ অত্যন্ত কড়াকড়ি আরোপ করেছে। পাহারা বাড়িয়েছে। এজন্য গরু আসছে না বললেই চলে।
সাতক্ষীরা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ জানায়, জেলার চারটি করিডোরের আওতায় ২০১৪-১৫ অর্থ-বছরে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে গরু এসেছে ৭ লাখ ৫০ হাজার ৯৯৪টি। এ থেকে ৩৭ কোটি ৫৩ লাখ ৩৫ হাজার ১০০ টাকা রাজস্ব আদায় হয়।
কিন্তু ২০১৫-১৬ অর্থ-বছরে গরু আসার সংখ্যা কমে দাড়ায় ৭৬ হাজার ৬৭০টিতে। এ থেকে ৩ কোটি ৬১লাখ ২০ হাজার ৪৩০ টাকা আদায় হয়। আর ২০১৬-১৭ অর্থ-বছরের গত জুলাই মাসে মাত্র ৩ হাজার ৮২০টি গরু আসে।
এভাবে চলতে থাকলে গত অর্থ-বছরের তুলনায় চলতি অর্থ-বছরে গরু আসার সংখ্যা অর্ধেকে নেম আসবে।
এ ব্যাপারে বিজিবির সাতক্ষীরা ৩৮ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর লোকমান হামিদ বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধে ভারতীয় গরু আনতে না যাওয়ার জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে রাখালদের অনুৎসাহিত করা হচ্ছে। এজন্য ভারতীয় গরু আসার সংখ্যা ক্রমেই শূন্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
এদিকে, ভারত থেকে গরু আসা কমে যাওয়ায় জেলার বাজারগুলোতে গরুর মাংসের দাম বেড়ে ২২০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকায় দাড়িয়েছে।
তবে, ভারত থেকে গরুর না আসার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন দেশীয় জাতের গরু পালনকারী বা খামারীরা।
সেক্ষেত্রে পবিত্র ঈদুল আযহায় দেশীয় গরু দিয়ে কোরবানির চাহিদা পূরণ হলেও সার্বিকভাবে গো মাংসের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। একই সাথে কোরবানির পশুর দামও বৃদ্ধি পাবে কয়েকগুণ।
শহরের সুলতানপুর বড় বাজারের মাংস ব্যবসায়ী ওলিউর রহমান জানান, ভারত থেকে আসা গরু দিয়ে সাধারণ মানুষের গো মাংসের চাহিদা পূরণ হয়। কিন্তু এখন গরু না আসায় দেশীয় গরু দিয়েই মাংসের বাজার চাহিদা পূরণ করতে হচ্ছে। এতে কোরবানির পশুর সংকট দেখা দিতে পারে।
আবার, দেশীয় গরু দিয়ে কোরবানির চাহিদা মেটালে বাজারে গো মাংসের সংকট দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে দাম আরও বাড়বে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সমরেশ চন্দ্র দাশ বলেন, ভারত থেকে গরু না আসায় দেশীয় খামারীরা লাভবান হবেন। এছাড়া সাতক্ষীরায় পারিবারিক পর্যায়সহ খামারীরা যে পরিমান গরু পালন করছেন তাতে ঈদে গরুর চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

6 COMMENTS

  1. Unquestionably believe that which you said. Your favorite justification appeared to be on the web the simplest thing to be aware of. I say to you, I definitely get annoyed while people think about worries that they just do not know about. You managed to hit the nail upon the top and also defined out the whole thing without having side effect , people could take a signal. Will probably be back to get more. Thanks

  2. The root of your writing while sounding reasonable initially, did not work very well with me after some time. Somewhere within the paragraphs you actually managed to make me a believer but just for a short while. I nevertheless have got a problem with your jumps in assumptions and you would do well to fill in those gaps. When you can accomplish that, I would surely be impressed.