সীমান্ত অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে হবে

0
56

বরুণ ব্যানার্জীঃ

বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় আসা দরকার। জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের মোবাইল ফোন অপারেটরের নেটওয়ার্ক এদেশের সীমান্ত এলাকা পেরিয়ে গিয়ে পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী দেশগুলোর ভেতরের বেশ কয়েক মাইলব্যাপী বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সময়ের পত্রিকান্তরের সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। এই বিষয়টি আমাদের দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নিরাপত্তার জন্য শুভ নয়। এই সমস্যাটি বেশ পুরাতন।১৯৯৬-২০০৩ পর্যন্ত দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ‘বেইস ট্রান্সসিভার স্টেশন’ (বিটিএস) বা মোবাইল টাওয়ার স্থাপনের সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা বা নির্দেশিকা না থাকায় দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নকারী এই সমস্যার উদ্ভব হয়েছিলো।দু’ দেশের সীমান্ত এলাকার উভয় অংশের বেশ কয়েক মাইল পর্যন্ত মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় আসায় উভয় দেশের ভেতরে অনুপ্রবেশ, মানবপাচার, মাদকদ্রব্য পাচার, পণ্য চোরাচালান, জঙ্গি-যোগাযোগ ও অন্যান্য দুষ্কর্মের হোতাগণ কর্তৃক বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকন্ডে নিয়োজিত থাকার সুবিধা ভোগ করার সুযোগ লাভ করছে। সৃষ্টি করতে সক্ষম হচ্ছে প্রত্যেকটি দেশের জন্য নিরাপত্তা সঙ্কট অপরাধীর দল।
আমাদের বাংলাদেশের নিকট-প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমার। এ দু’ দেশেরই সীমান্ত এলাকায় মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের অপব্যবহার নিয়ে তৈরি হওয়া সঙ্কট নিরসনের উদ্যোগ নিয়েও দীর্ঘদিন যাবৎ তা সমাধান করা যায় নি। রাজশাহী, সাতক্ষীরা, চাপাইনবাবগঞ্জ, জাফলং, আখাউড়া, হিলি-এসব এলাকায় সীমানা পার হয়ে আসতে থাকে ভারতের ভোডাফোন, রিলায়েন্স, এয়ারটেল ইত্যাদির নেটওয়ার্কের বিস্তার। ২০০৫ সালেই আমাদের বিটিআরসিও সীমান্ত পেরিয়ে যাওয়া মোবাইল নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয়েছে।
মোবাইল অপারেটরদের বক্তব্য ছিলো, সীমান্ত এলাকায় নেটওয়ার্ক কমিয়ে আনলে দেশের অনেক সীমান্তবর্তী গ্রাহকসমাজ ফোনসেবা থেকে বঞ্চিত হবে। এছাড়াও, প্রয়োজন হবে ভারতেরও সহযোগিতা সমস্যার ন্যায্য সমাধানের ব্যাপারে। ২০০৮ সালের ৪ মে সশস্ত্র বাহিনী এবং ডাক টেলি-যোগাযোগ বিভাগের সম্মতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার পৌরসভা এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে, বলা হয়, ভারত ও মায়ানমার সীমান্তের ১০ কিলোমিটার ভেতরে যেনো মোবাইল নেটওয়ার্কের বিস্তার না ঘটে, তার জন্য ব্যবস্থা নিতে। পরবর্তীকালে, ক্রমান্বয়ে কিছু শর্ত পূরণ করেই বাংলাদেশে যে কোনো সীমান্তে জিরো লাইন পর্যন্ত ‘বিটিএস’ স্থাপনের সুপারিশ মেলে নিরাপত্তা ছাড় ছাড়াই।
মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের উপর সেদেশের সেনাবাহিনীর নির্যাতন ও বাংলাদেশের অনুপ্রবেশের রোহিঙ্গা ঢল নামার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আবারও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এই অনাকাক্সিক্ষত বিশেষ পরিস্থিতিতে চোরাচালান ও মাদক পাচারের পাশাপাশি উদ্বাস্তু অনুপ্রবেশ ও বাংলাদেশের স্বার্থহানিকর কর্মকান্ডে বাংলাদেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাতে, তৈরি করছে এদেশের জন্য নিরাপত্তা সঙ্কট।দেশের নানা পর্যায়ের নিরাপত্তার দিকটিকে বিবেচনার আওতায় এনে, দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় বিটিএস স্থাপনের বিষয়ে বিটিআরসি প্রণীত খসড়া নির্দেশিকা নিয়ে দ্রুত সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে আসা প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY