সিনহাকে জোর করে পদত‌্যাগ করানো হয়েছে: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন

0
20
ডি এস ডেস্ক:
সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে জোর করে পদত‌্যাগ করানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থায়ী কমিটির সদস‌্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।  এ বিষয়টিকে বিচার বিভাগের জন‌্য ‘অশনি সংকেত’ হিসেবে দেখছেন বিএনপির এই নেতা।
মঙ্গলবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে দলটির এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতিকে নজিরবিহীন ন্যক্কারজনকভাবে জোর করে পদত্যাগ করিয়ে আজকে বলা হচ্ছে যে, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।’ ‘আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই, তিনি (সিনহা) ইচ্ছাকৃতভাবে এই পদত্যাগপত্র দেন নাই, জোর করে তাকে দিয়ে পদত্যাগ করানো হয়েছে।’
জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল।প্রধান বিচারপতির পদত‌্যাগের প্রক্রিয়াটিকে বিচারবিভাগের জন‌্য অশনিসংকেত মন্তব‌্য করে ড. খন্দকার মোশাররফ  বলেন, ‘এটা অশনি সংকেত, এটা জাতির জন্য কলঙ্কজনক। উচ্চতর আদালতে যে নজিরবিহীন, খারাপ, হীন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হল-তা বাংলাদেশের মানুষ কখনও গ্রহণ করবে না।’
খন্দকার মোশাররফ বলেন, গত নির্বাচনে ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের বিষয়ে একটি রিটের শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি ফিরে তাদের অবৈধ ঘোষণা করতে পারেন-এই ধরনের একটি সম্ভাবনা ছিল। সেজন‌্য তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। এজন্যই সরকার প্রধান বিচারপতি (সুরেন্দ্র কুমার সিনহা) ওপরে কী ন্যক্কারজনকভাবে, নজিরবিহীনভাবে প্রথমে সুস্থ মানুষকে অসুস্থ বানিয়ে ছুটির দরখাস্ত করিয়ে নিল। পরে তাকে গায়ের জোরে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিল।
তিনি বলেন, ‘মানুষের শেষ আশা-ভরসার স্থল বিচারালয়। এই প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন এই সরকার নিম্নস্তরের সকল আদালতকে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছে, আর উচ্চ আদালতকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে। আমরা ফলাফল দেখলাম। এভাবে রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভকে ধবংস করে আওয়ামী লীগ অলিখিত বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে একটা জঙ্গল আইন করতে চায়।’
কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে ও দপ্তর সম্পাদক এসকে সাদীর পরিচালনায় সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী, সৈয়দ মেহেদি আহমেদ রুমী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
দৈনিক সাতক্ষীরা/জেড এইচ