সিডরের তান্ডব তালার ৭ পরিবারকে আজও কাঁদায়

0
171
শেখ ইমরান,তালা:
২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে গিয়েছিল প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডর। লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল দেশের দক্ষিণ উপকূলীয় জনপদ। ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে নিশ্চিহ্ন হয়েছিল গ্রামের পর গ্রাম। গৃহহারা হয়েছেছিল খেটে খাওয়া হাজার হাজার মানুষ। সমুদ্রে মাছধরতে যেয়ে স্বজনদের কাছে আর ফেরা হয়নি বহু জেলের । ১০ বছর আগে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সিডরের তান্ডবলীলা আজও ভুলতে পারেনি সাতক্ষীরাবাসী।
সিডরের তান্ডবে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ৭ জন লোক নিহত হয়, আহত হয় শতাধিক লোক। দুবলারচর ও আলোরকোল নামক স্থানে মাছ ধরতে গিয়ে নিহত হয় তালা উপজেলার মালোপাড়ার গৌর হালদার(৪৮), অজিত হালদার(৪৩), বাউখোলা গ্রামের গোবিন্দ বিশ্বাস(৫৮)। এছাড়া জাতপুর গ্রামের নূর বেগম(৬০), জালালপুরের ফেলি বিবি(৫৮), টিকারামপুর গ্রামের হাসান গাজী(৫০) এবং মাগুরা বাজারে অজ্ঞাত ব্যক্তি(২৫) নিহত হয় সিডরের রাতে। নিহত পরিবারগুলোর অনেকেই না খেয়ে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে কোন মতে দিন কাটাচ্ছে। তাদের খোঁজ এখন কেউ রাখে না।
সিডরে নিহত তালা সদরের মালোপাড়া অজিত হালদারের স্ত্রী রিতা হালদার বলেন, ‘দানব সিডর আমার সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে কেড়ে নেয়। ওই সময় সরকারি ও বেসরকারিভাবে নগদ টাকা এবং সাহায্য পেলেও এখন আমাদের  খোঁজ-খবর কেউ নেয় না। দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তিন বেলা দুমুঠো ভাতও জোটেনা। বর্তমানে আমি অন্যের বাসায় ঝিয়ের কাজ করে কোন মতে সংসার চালাচ্ছি। আমার বৃদ্ধা মা উর্মিলা অসুস্থ হয়ে বিনা চিকিৎসায় বাড়িতে পড়ে আছে। ছোট ছেলেটি বর্তমানে প্রাইমারী স্কুলে লেখা পড়া করে। আমার স্বামীর রেখে যাওয়া ২০ হাজার টাকা ঋণের বোঝা এখনও শোধ করতে পারিনি।’
এদিকে সিডরে নিহত একই গ্রামের গৌর হালদারের স্ত্রী আরতি হালদার বলেন, ‘তিন ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে আমাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাবার প্রায় ২ লক্ষ টাকা ধার-দেনা শোধ করার জন্য আমার তিন ছেলে আবারও সাগরে মাছ ধরতে গেছে। বর্তমানে আমাদের সংসার চালানো খুবই দুরুহ হয়ে পড়েছে।’
সিডরে নিহত উপজেলার বাউখোলা গ্রামের গোবিন্দ বিশ্বাসের স্ত্রী আরতি বিশ্বাস বলেন, ‘ছেলে-মেয়ে নিয়ে সংসার চালাতে খুবই হিমশিম খেতে হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় সিডর আমার স্বামীকে কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি আমার সংসার তছনছ করে দিয়েছে। আমরা এখন সবকিছু হারিয়ে পথে বসেছি।’
তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফরিদ হোসেন বলেন, সিডরের পর ক্ষতিগ্রস্থদের বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগীতা করা হয়েছিল। সেই ধারা এখনও অব্যাহত আছে। ক্ষতিগ্রস্থদের সরকার ভিজিডি কার্ড, বিধবা ভাতার কার্ড দিয়েছে। অন্যান্য সরকারী সাহায্য সহযোগীতা তারা পাচ্ছে এবং পাবে।
দৈনিক সাতক্ষীরা/জেড এইচ