সিটিং সার্ভিস এ খেলায় ইঁদুর-বিড়ালের কোনো ক্ষতি নেই

0
55

বরুণ ব্যানার্জী:

প্রশ্নটি মোটেও জটিল নয়। তবে কেউ যদি বিষয়টিকে জটিল করে তুলতে চান, তার জন্য সুযোগ আছে। প্রয়োজনে সেই সুযোগ-সন্ধানীকেও ডাকা যেতে পারে। আপাতত সেই প্রয়োজন নেই বিধায় প্রাথমিক পর্বের কাজ নিজেরাই শুরু করি। আমাদের মাঝ থেকে একজন বললেন, বাস-মালিকদের কাছে সরকার জিম্মি হয়ে আছে। দ্বিতীয়জন বললেন, না, বাস-মালিক-শ্রমিকদের কাছে হেরে গেছে রাষ্ট্র। নিজের তৈরি করা আইন কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সেই নৈরাজ্যেই ফিরে যাচ্ছে দেশ। ইতোপূর্বে আরো একবার পরাজিত হয়েছে সরকার। রাস্তায় বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অধিকার চেয়েছিল চালকরা। সরকার বলেছে, সম্ভব নয়। চালকরা বলেছে, ভালো কথা। ওটা না দিলে এটা দাও। ওটাতো বোঝা গেল, কিন্তু এটা আবার কী? চালকদের নেতা বিষয়টি পরিষ্কার করলেন। তিনি বললেন, ‘রাস্তায় গাড়িচাপা পড়ে কেউ মারা গেলে আমাদের ওপর দোষ চাপানো হয়। এ ধরনের অভিযোগ আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি।’ কিছুদিন আগে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে তারা দেখিয়ে দিয়েছে, তারা পারে না এমন কোনো কাজ এখানে নেই। তারা প্রমাণ করেছে, এদেশে যার যা ইচ্ছা তাই করা যায়-যদি সরকার সমাপিকা নয় অসমাপিকা ক্রিয়া হয়েও কিছুটা সহযোগিতা করে। বাসচালক ও মালিকদের কাছে সরকারের বারবার পরাজিত হওয়ার ঘটনা দেখে বারবার মনে প্রশ্ন জাগে, এ ক্ষেত্রে ‘সরকার জিম্মি না জিম্মি সরকার’! তৃতীয় পক্ষ থেকে একজন বললেন, মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। আমরা ব্যাখ্যা চাইলাম। তিনি বললেন, এটা হচ্ছে ইঁদুর-বিড়ালের খেলা। এ খেলায় ইঁদুর-বিড়ালের কোনো ক্ষতি নেই। ক্ষতি যা হবে, সবটুকুই পাবলিকের। এবার চতুর্থজন বেশ একটু আহত এবং রাগ মিশ্রিত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানালেন, দেশের পরিবহন খাতে প্ল্যানিং থেকে পরিচালনার প্রতিটি অলিতেগলিতে অনিয়ম। সিটিং সার্ভিস বন্ধের যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছিল, তা ছিল অপরিকল্পিত এবং বিজ্ঞানসম্মত নয়। পঞ্চমজন পেছন থেকে কিছুটা উচ্চকণ্ঠে অপর বাক্যটি ছুড়ে দিলেন, ‘বাস মালিক ও শ্রমিক নেতারা সরকারকে ফাঁদে ফেলে সিটিং বাসকে বৈধ করে নিল।’ এবার সেতারের শেষ তারটিও বেজে উঠল। শোনা গেল শেষ বাণী, ‘এখানে সরকার জিম্মিও নয়-জিম্মি সরকারও নয়। জিম্মি হচ্ছে এমন একটি ব্যবস্থা, যে ব্যবস্থায় সরকারি সহযোগিতায় প্রকাশ্যে আমজনতার ওপর লুটতরাজ চালানো যায়। সমাজের প্রতিটি শাখা-প্রশাখায় যা এখন চলছে। প্রকৃত অর্থে যা সাধারণ মানুষের কাম্য নয়।’ আমরাও সেই সাধারণের একজন।

LEAVE A REPLY