সার্কের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে

0
64

বরুণ ব্যানার্জীঃ

অসাধারণ প্রাকৃতিক সম্পদে ধন্য দক্ষিণ এশিয়া, যেখানে রয়েছে ১৭০ কোটি জনসংখ্যার বিশাল অব্যবহৃত বাজার। বিশ্বের সবচেয়ে তরুণ জনসংখ্যার বসবাস এই অঞ্চলে। বিশ্ব ব্যাংকের তথ্যমতে, দক্ষিণ এশিয়ার এক পঞ্চমাংশ জনসংখ্যার বয়স ২৫ থেকে ২০ এর কোটায়। এ অঞ্চলটি বিশ্বের সবচেয়ে যুবক অধ্যুষিত অঞ্চল। বিশ্বের গোটা তরুণ জনসংখ্যার ২৬ ভাগই বসাবস করে এই অঞ্চলে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৫২ ভাগ জনসংখ্যা কর্মক্ষম বয়সের, যাদের বয়স ১৫ এবং এর উপরে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে সার্ক অঞ্চল কয়েকটি উজ্জ্বল স্পটের মধ্যে অন্যতম। এই অঞ্চলটি নিজেদের চীনের মন্দার সঙ্গে সমন্বয় করে চলেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বাৎসরিক গড় প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৩ শতাংশ।  যা একই সময়ে এশিয়ার উন্নয়নে গড় প্রবৃদ্ধি হারের সমান ছিল। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অভিক্ষেপ অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি ২০১৫ সালে বৃদ্ধি পেয়ে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে এবং ২০১৬ সালে হয়েছে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থাৎ এশিয়ার উন্নয়নের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে যে পূর্বাভাস করা হয়েছে তা ছাড়িয়ে গেছে। ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ইউরোপের শিল্প অর্থনীতির চেয়ে দক্ষিণ এশিয়া ও উন্নয়নশীল এশিয়া উভয় অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি দ্রুত বেড়েছে। যদিও এই অঞ্চলে এখনও ব্যাপক অশিক্ষিত, অনগায়রন, পুষ্টিহীনতার সমস্যা রয়েছে এবং বিশ্বের দারিদ্র্য সম্প্রদায়ের এক তৃতীয়াংশের বসাবস এখানে। এই বাস্তবতা সত্ত্বেও এই অঞ্চলে রয়েছে ব্যাপক অর্থনৈতিক সম্পদ, রয়েছে বিশ্ব জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ বাজার। আমরা বৈশ্বিক জিডিপিতে প্রায় তিন শতাংশ যোগ করছি। অঞ্চলজুড়েই প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য ছড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও আমরা এই অঞ্চলে দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাসরত ৪০ কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে ব্যর্থ হয়েছি। সবচেয়ে ঘন ভৌগলিক নৈকট্য থাকার পরও আমরা বিশ্বে সবচেয়ে কম সমন্বিত অঞ্চল হিসেবে পরিগণিত হয়েছি। সার্কের সকল সদস্য দেশেই রয়েছে এমন ধরনের অসংখ্য সম্ভাবনা। তবুও আমরা মানব উন্নয়ন সূচকে নিচে পড়ে রয়েছি। এই ধরনের অসংখ্য জনসংখ্যাতাত্ত্বিক সম্পদ থেকে উপকার হাসিল করতে হলে সার্কের সদস্য দেশগুলোকে তিনটি ‘ই’ সমস্যার সমাধান করতে হবে। এই তিন ‘ই’ হলো-  এডুকেইশন, এমপ্লয়মেন্ট ও এনগেজমেন্ট। অর্থাৎ অন্তর্ভুক্ত, ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমে সূচকীয় প্রবৃদ্ধি ও উপযুক্ত অবস্থান অর্জন করতে হলে যুবকদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও কর্মসম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। দুর্ভাগ্যবশত, এইসব খাতে আমাদের অর্জন দীর্ঘকাল ধরেই নিম্ন পর্যায়ে। যেমন দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় নিবন্ধন হার মাত্র ৪৩ শতাংশ। যা অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় অনেক কম। এছাড়া শিক্ষায় সমদর্শিতা অন্যতম মূল ইস্যু। তুলনামূলক মেয়ে ও সংখ্যালঘু এবং দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীর ছেলে-মেয়েদের কম সংখ্যক প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করতে পারে। যেমন বাংলাদেশে  নিম্ন আয়ের পরিবারে ২০ ভাগেরও কম শিশু নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। যুবকদের জন্য সুযোগ-সুবিধা উম্মুক্ত করতে এবং কর্মক্ষেত্রে বর্তমান দক্ষতার সরবরাহে শিল্পের চাহিদায় পুনরায় সমতা আনতে প্রচলিত প্রবণতাকে উল্টিয়ে দেয়া গুরুতর হবে। অবকাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধার অব্যাহত অভাবের কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুবকদের ভূমিকা সীমিত হয়েছে। তবুও আগ্রহী যুবকেরা নতুন মাধ্যমের ব্যবহার, তথ্য ও নেটওয়ার্কিং সরঞ্জামে প্রবেশের মাধ্যদিয়ে নিজেদের জায়গা খুঁজে নিচ্ছে। আর যার পরিমাণ দিনদিনই বাড়ছে। সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক জরিপে দেখা গেছে, অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে এশিয়ার যুবকদের কম সংখ্যক বিশ্বাস করেন যে, তারা চাইলে ভিন্ন কিছু করতে পারেন। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে এই ধরনের যুবকের হার ৬২ শতাংশ। যুব সমাজের নেতৃত্বাধীন অথনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত ব্যবসায়িক উদ্যোগের জন্য একটি সহায়তা পদ্ধতি তৈরি করা প্রয়োজন এবং দেশের সকল পর্যায়ে, দ্বিপাক্ষিক ও বহুমাত্রিক নীতি নির্ধারণী ফোরামে যুবকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। আর এসব নীতিতে দৃঢ়তা প্রয়োজন যা তাদের সহায়তা করবে। সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ব্যবসায়িক চিত্রকে পোক্ত করতে ‘বিজনেস অ্যাঙ্গেল’র অভিনব ধারণাকে পরিচয় করিয়েছে। যা তরুণ উদ্যোক্তাদের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করবে।

LEAVE A REPLY