সাতক্ষীরা স্বাস্থ্য বিভাগে ৩৭৮টি পদে শূন্য, সদরে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকা মূল্যের চিকিৎসা সরঞ্জাম

0
1660

স্টাফ রিপোর্টার:
জেলার প্রত্যেকটি সরকারি চিকিৎসালয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ জনবল সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সাতক্ষীরায় স্বাস্থ্য বিভাগে ৩৭৮ টি পদে জনবল শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন। দীর্ঘদিন জনবল না থাকায় জেলায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ প্রকৃত স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে গিয়ে হচ্ছে প্রতারিত। এদিকে লোকবল ও ব্যাবহার না করায় কোটি কোটি টাকার মেশিন নষ্ট হচ্ছে সদর হাসপাতালে। যার কারণে বাহিরে বিভিন্ন ডায়গনিষ্টিক সেন্টার থেকে রুগিদের উচ্চ মুল্যে দিয়ে পরীক্ষা করতে হচ্ছে।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ প্রথম শ্রেণির ১০৮টি, দ্বিতীয় শ্রেণির ৪৫টি, তৃতীয় শ্রেণির ১৮৮টি ও চতুর্থ শ্রেণির ৩৭টিসহ সর্বমোট ৩৭৮টি পদ শূন্য রয়েছে।

সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের ২৭টি পদের মধ্যে ১১টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে সিনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), সিনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), সিনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু), সিনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেসিয়া), সিনিয়র কনসালটেন্ট (বিষয়বিহীন), জুনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানেসথেসিয়া), রেডিওলজিস্ট, প্যাথোলজিস্ট, মেডিকেল অফিসারের (হোমিও/ইউনানী/আয়ুর্বেদী) একটি করে ও মেডিকেল অফিসারের দুইটি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়াও নার্সিং সুপার ভাইজার, স্টাফ নার্স, সহকারী নার্স ও স্টোর কিপারের একটি করে ও সিনিয়র স্টাফ নার্সের পাঁচটি পদ শূন্য রয়েছে।

জেলার কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ১৭টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (ইএনটি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিও), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু), জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌন), আবাসিক মেডিকেল অফিসার, মেডিকেল অফিসার, ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার, ইনডোর মেডিকেল অফিসার, এমও (হোমিও/ইউনানী/আয়ুর্বেদী), প্যাথোলজিস্ট, এ্যানেসথেটিস্টের (নবসৃষ্ট) একটি করে ও সহকারী সার্জনের (ইউনিয়ন) চারটি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া সিনিয়র স্টাফ নার্সের তিনটি, মিডওয়াইফের দুইটি, প্রধান সহকারী, হিসাব রক্ষক পরিসংখ্যানবিদ, ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ফিজিও), সহকারী নার্স, ড্রাইভার, কম্পাউন্ডার, টিকিট ক্লার্ক, জুনিয়র ম্যাকানিকের একটি করে, অফিস সহকারী কাম-মুদ্রাক্ষরিকের দুইটি, চিকিৎসা সহকারীর পাঁচটি, মেডিকেল টেকনোলজিস্টের (ল্যাব) দুইটি, স্বাস্থ্য সহকারীর সাতটি, সিএইচসিপির ১৩টি, মালী, সুইপার, নিরাপত্তা প্রহরী (নবসৃষ্ট), এমএলএসএস (নব সৃষ্ট) ও কুক/মশালচীর একটি করে পদ শূন্য রয়েছে।

তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ২০টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু), জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু), জুনিয়র কনসালটেন্ট (ইএনটি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিও), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌন), জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেসিয়া), জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি), আবাসিক মেডিকেল অফিসার, ইনডোর মেডিকেল অফিসার, এমও (হোমিও/ইউনানী/আয়ুর্বেদী), প্যাথোলজিস্ট, এ্যানেসথেটিস্টের (নবসৃষ্ট) একটি করে ও মেডিকেল অফিসারের দুইটি, সহকারী সার্জনের (ইউনিয়ন) পাঁচটি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া সিনিয়র স্টাফ নার্সের চারটি, মিডওয়াইফের চারটি, পরিসংখ্যানবিদ, ফার্মাসিস্টের দুইটি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) দুইটি, স্বাস্থ্য সহকারীর ১৫টি, ওয়ার্ড বয়ের ২, সুইপার ৩ ও কুকের দুইটি এবং অফিস সহকারী কাম-মুদ্রাক্ষরিক, ক্যাশিয়ার, চিকিৎসা সহকারী, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ফিজিও), সহকারী নার্স, নিরাপত্তা প্রহরী (নবসৃষ্ট), এমএলএসএস (নব সৃষ্ট), ইমার্জেন্সি এ্যাটেনডেন্ট, মালী, এলসিএ, টিকিট ক্লার্ক, এমএলএসএস ও স্টোর কিপারের একটি করে পদ শূন্য রয়েছে।

কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের আটটি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেসিয়া), জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), আবাসিক মেডিকেল অফিসারের একটি করে ও সহকারী সার্জনের (ইউনিয়ন) তিনটি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া নার্সিয় সুপারভাইজারের একটি, সিনিয়র স্টাফ নার্সের পাঁচটি, মিডওয়াইফের তিনটি, ফার্মাসিস্টের দুইটি, স্বাস্থ্য সহকারীর নয়টি, চিকিৎসা সহকারী, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল), সহকারী নার্স, আয়া, নিরাপত্তা প্রহরী, মালী ও জুনিয়র ম্যাকানিকের একটি করে ও সিএইচসিপির তিনটি পদ শূন্য রয়েছে।

দেবহটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের পাঁচটি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেসিয়া), ডেন্টাল সার্জন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও সহকারী সার্জনের (ইউনিয়ন) একটি করে পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া সিনিয়র স্টাফ নার্সের তিনটি, ফার্মাসিস্টের দুইটি, স্বাস্থ্য সহকারীর দুইটি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, সহকারী নার্স, ড্রাইভার, নিরাপত্তা প্রহরী, মালী ও সুইপারের একটি করে পদ শূন্য রয়েছে।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ২৪টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থো.), জুনিয়র কনসালটেন্ট (ইএনটি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিও), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু), ডেন্টাল সার্জন, ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার, ইনডোর মেডিকেল অফিসার, এমও (হোমিও/ইউনানী/আয়ুর্বেদী), মেডিকেল অফিসার (নবসৃষ্ট), প্যাথোলজিস্টের একটি করে ও সহকারী সার্জনের (ইউনিয়ন) ১২টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়াও নার্সিং সুপার ভাইজার ও মিডওয়াফের একটি করে, সিনিয়র স্টাফ নার্সের পাঁচটি, চিকিৎসা সহকারীর পাঁচটি, স্বাস্থ্য সহকারীর ১৯টি, সিএইচসিপির দুইটি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) দুইটি, নিরাপত্তা প্রহরীর দুইটি এবং প্রধান সহকারী, হিসাব রক্ষক, অফিস সহকারী কাম-মুদ্রাক্ষরিক, স্টোর কিপার, ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল), মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ফিজিও), কার্ডিও গ্্রাফার, এলসিএ, কম্পাউন্ডার, টিকিট ক্লার্ক, জুনিয়র ম্যাকানিক, ওয়ার্ড বয়, মালী, এমএলএসএস (নব সৃষ্ট) ও কুক/মশালচীর (নব সৃষ্ট) একটি করে পদ শূন্য রয়েছে।

আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ১১টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), ডেন্টাল সার্জন, আসাবিক মেডিকেল অফিসার, মেডিকেল অফিসারের একটি করে ও সহকারী সার্জনের (ইউনিয়ন) পাঁচটি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়াও সিনিয়র স্টাফ নার্সের তিনটি ও মিডওয়াফের চারটি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব), চিকিৎসা সহকারী ও ফার্মাসিস্টের দুইটি করে, স্বাস্থ্য সহকারীর ২০টি, ওয়ার্ড বয়ের তিনটি, অফিস সহকারী কাম-মুদ্রাক্ষরিক, স্টোর কিপার, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও আয়ার একটি করে পদ শূন্য রয়েছে।

সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের দুইটি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেসিয়া) ও সহকারী সার্জনের (ইউনিয়ন) একটি করে পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য সহকারীর ১৫টি, চিকিৎসা সহকারী ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টের (ল্যাব) একটি করে পদ শূন্য রয়েছে।
সাতক্ষীরা সরকারি বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে জুনিয়র কনসালটেন্টের (বক্ষ) পদটি শূন্য রয়েছে। এছাড়াও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব), মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিও), সহকারী নার্স ও আয়ার একটি করে পদ শূন্য রয়েছে। ঠিক একইভাবে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে ১১টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার, জেলা পরিসংখ্যানবিদ, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব), স্টেনো টাইপিস্ট, পরিসংখ্যান সহকারী, অডিওভিজ্যুয়াল হেলপার, মালী, সহকারী স্টোর কিপারের একটি করে ও অফিস সহকারী কাম-মুদ্রাক্ষরিকের তিনটি পদ শূন্য রয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর ধরে নষ্ট হয়ে রয়েছে এই হাসপাতালের ইটিটি মেশিন দুইটি। প্রায় একই সময় ধরে নষ্ট ইকো কার্ডিওগ্রাম দুটিও।
এছাড়া চারটি আল্ট্রাসনো মেশিনের মধ্যে তিনটি, ১৮টি সাকার মেশিনের মধ্যে ১৩টি, ছয়টি ইসিজির মধ্যে তিনটি, পাঁচটি আনেসথেশিয়া মেশিনের মধ্যে চারটি, চারটি কার্ডিয়াক মনিটরের মধ্যে দুইটি, ছয়টি এক্স-রে মেশিনের মধ্যে চারটি, তিনটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি, সিসিইউ’র চারটি এসির মধ্যে দুইটি ও বিদ্যমান একটি বায়ো কেমিস্ট অ্যানালাইজার দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।
আর এভাবেই দীর্ঘদিন মেরামতের অভাবে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকা মূল্যের চিকিৎসা সরঞ্জাম।
এতে বাইরে থেকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে একদিকে যেমন সাধারণ রোগীদের দুই থেকে তিনগুণ বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, তেমনি সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পদ।
সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. তহিদুর রহমান বলেন, আমি সম্প্রতি সাতক্ষীরায় যোগদান করেছি। এসেই জানার চেষ্টা করেছি- কোথায় কি সমস্যা রয়েছে। চলতি মাসেই বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

LEAVE A REPLY