সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন-শ্যামনগরের রহিমের মামলা থানায় উল্টে গেছে

0
102

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হাতে মার খেলাম। এ নিয়ে থানায় মামলা দিলাম। অথচ সে মামলা উল্টে গেল কিভাবে। আমার মামলার সাক্ষিরা আসামি হয়ে গেল। সোমবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন  শ্যামনগর উপজেলার জয়াখালি গ্রামের সোমশের আলির ছেলে আবদুর রহিম।
তিনি বলেন যৌথ ব্যবসার লক্ষ্যে নিজ গ্রামের আবদুল মজিদের হাতে তিন লাখ টাকা দেন ট্রলার নির্মানের জন্য। ট্রলারটি নির্মানের শেষ পর্যায়ে  মজিদ  জানান তিনি তাকে ( রহিম)  শেয়ার রাখতে রাজী নন। এর প্রতিবাদ করলে  মারধর করার হুমকি দিতে থাকেন তিনি। গত ২৭.০২.১৭ তারিখ সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ভেটখালি বাজার ব্রীজের উত্তর মাথায় রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে রহিম কৈখালি ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলির মধ্যস্থতায় আবদুল মজিদের সাথে শোনা বোঝা করছিলেন। এক পর্যায়ে আবদুল মজিদের সাথে থাকা তার লোকজনসহ তার ওপর দা লাঠি লোহার রড ও শাবল নিয়ে হামলা করে।  হামলাকারীরা হচ্ছে জয়াখালির আবদুল মজিদ, আবুল হোসেন মোল্লা, ইসমাইল হোসেন ও এসহাক, কৈখালির আবদুল লতিফ, বোসখালির আলমগীর হোসেন ও  মিজান মোল্লা, পশ্চিম কৈখালির আমিনুর রহমান ও  জহুর আলি ও তারানিপুরের আবদুল হালিম। তাদের হামলায় রহিমের  বাম হাতের কবজির ওপর মারাত্মক হাড়ভাঙ্গা জখম হয়। তাকে  উদ্ধার করতে গেলে ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলিকে কিল চড় ঘুষি মারে তারা। এতে তিনি জখম হন। এ সময় আমার কাছে থাকা ৩০ হাজার টাকা ও ইউপি সদস্যের কাছে থাকা ৯৫ হাজার ৫০০ টাকা হামলাকারীরা কেড়ে নেয়। এই ঘটনার সাক্ষীরা হচ্ছেন বোসখালি গ্রামের মোসলেম গাজি, মুনসুর আলি ও কামরুজ্জামান কান্দু। জখম হবার পর আমাকে সপ্রথমে শ্যামনগর হাসপাতাল পরে সাতক্ষীরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন এ বিষয়ে শ্যামনগর থানায় একটি এজাহার দেই। এই এজাহারে আমি আবদুল মজিদসহ উপরোক্ত দশজনকে আসামিভূক্ত করা হয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় আমার দেওয়া মামলা সম্পূর্ন উল্টে গেছে। আমি যে মামলা দেইনি সেই মামলাই থানায় রেকর্ড হয়েছে ( মামলা নম্বর ২ তারিখ (০১.০৩.১৭)। অর্থাৎ আমার মামলার সাক্ষিরা আসামি হয়ে গেছেন। সেই সাথে আরও কয়েকজনকে মনগড়াভাবে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া এজাহারে যে স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে তা আমার নয়। এতে যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন আমার আসল মামলার দুই সাক্ষি মোসলেম গাজি ও কামরুজ্জামান কান্দু। আরও যাদের আসামি দেখানো হয়েছে তাদের মধ্যে মজিদ , আবুল হোসেন, আলমগীর হোসেন, মিজানমোল্লা ও আবদুল হালিম ছাড়া অন্যরা যেমন সালাউদ্দিন বাবু, ইশারত হোসেন, হাবিবুর রহমান, মাহফুজুর রহমান গাজি, ও আবদুল হামিদ গাজি আমার দেওয়া মামলার আসামি নন। পরিবর্তিত মামলায় যাদের সাক্ষি করা হয়েছে তারা তিনজন যথা মাহবুব আজাদ  খোকন, মোজাহারুল ইসলাম, ও নজরুল ইসলাম নজু  এফিডেভিট করে জানিয়েছেন যে তারা ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না।
আমার দেওয়া মামলা কিভাবে পরিবর্তিত হলো, কিভাবে আমার সাক্ষর জাল করা হলো এবং কিছু নিরীহ লোকসহ আমার সাক্ষিরা কিভাবে আসামি হলেন তা জানতে চেয়েছিলাম শ্যামনগর থানার ওসির কাছে। তিনি শুনে বুঝে বলেন মামলার চার্জশীট থেকে সেগুলি নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হবে। রহিম বলেন কবে চার্জশীট হবে তার জন্য সাধারন মানুষগুলি ভুগবেন কেনো। তিনি  এই জাল মামলা প্রত্যাহার করে তার দেওয়া মামলাটি রেকর্ড করে  জালজালিয়াতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

এস এম পলাশ

LEAVE A REPLY