সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ

0
1536
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার এসএম ছায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির নানাবিধ অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও তার চিহিৃত সহযোগী কালিগঞ্জ আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য সহযোগীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ ও বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার এসএম ছায়দুর রহমান জন্মসূত্রে এই জেলার বাসিন্দা। সকল সরকারি বিধি-বিধান লংঘন করে তিনি নিজ জেলায়ই কর্মরত থেকে নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছেন। শিক্ষকদের অনলাইন এমপিও করতে তিনি কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা উৎকোচ নেন। তবে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক বা মাদ্রাসার সুপার পদে এমপিও করাতে তাকে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়। প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি নবায়নের সময় তাকে উৎকোচ দিতে হয় ৩০ হাজার টাকা। বেসরকারি স্কুল ও মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের জন্য ডিজি’র প্রতিনিধি মনোনয়ন নিতেও কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা লাগে। ডিজির প্রতিনিধি মনোনয়ের জন্য গেলে  তিনি তার পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়ার জন্য উক্ত প্রতিষ্ঠান প্রধান ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে চাপ প্রয়োগ করেন, নতুবা ডিজি’র প্রতিনধি মনোনয়ন না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে কালক্ষেপন করেন। এভাবে প্রভাব খাটিয়ে একজন শিক্ষক নিয়োগ করিয়ে দিয়ে তার নিকট থেকে ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকা আর্থিক সুবিধা পান। তার বিরুদ্ধে ছাত্রজীবন থেকে অদ্যাবধি জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে। তিনি নিজ জেলায় কর্মরত থাকায় তার মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাচ্ছেন অনেক জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী। আর এই সুযোগে তিনিও চালিয়ে যাচ্ছেন নিয়োগ বাণিজ্য।

তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে গেলে খানাপিনার আয়োজনের পাশাপাশি তাকে গাড়ির তেলের টাকা ও আলাদা পরিদর্শন সম্মানী প্রদান করতে হয়। পরিদর্শন তার একটা ব্যবসা। জাতীয়  শিক্ষা সপ্তাহ প্রতিযোগিতায় জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান, শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে তাকে বড় আকারের উৎকোচ দিতে হয় বলে অভিযোগ। সৃজণশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত হতে গেলে তাকে মোটা অংকের টাকা দিতে হয়। জেএসসি, জেডিসি ও এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে তাকে সম্মানি পাঠাতে হয়। এনসিটিবি কর্তৃক প্রনীত, অনুমোদিত ও প্রকাশিত পাঠ্যপুস্তকের বাইরে অন্য পাঠ্যপুস্তক ও সহ-পাঠ্যপুস্তক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্তির জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বাধ্য করেন। এক্ষেত্রে প্রকাশক থেকে নিয়ে নেন মোটা অংকের অর্থ। সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন উপজেলার স্কুল ও মাদ্রাসায় তদন্ত করলে এসব তথ্য প্রমাণিত হবে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে SESIP প্রকল্পের আওতায় ২০১৮ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ের মাধ্যমিক শিক্ষাক্রম নির্দেশিকা বিষয়ক (০৬) ছয় দিন ব্যাপি (০৬-১১-জানু), (১২-১৭ জানু). (১৮-২৩-জানু.) (২৪-২৯-জানু.) প্রশিক্ষণের সমন্বয়ক ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার এসএম ছায়দুর রহমান। প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে আপ্যায়ন বাবদ শিক্ষকদের জন্য জনপ্রতি ১ শ’ টাকা বরাদ্ধ থাকলেও ঘুষ-দুর্নীতির অন্যতম সহযোগী কালিগঞ্জ আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুলের মাধ্যমে মাত্র ২০ টাকার নাস্তা দিয়ে বাকী টাকা দু’জন আত্মসাত করেছেন।
এছাড়াও জেলা শিক্ষা অফিসার নিজের সংবর্ধনার আয়োজনের জন্য শফিকুলের মাধ্যমে সরাসরি চাঁদাবাজি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি শফিকুল, অলক বাবু, অফিস সহকারী দিদার এবং তার স্ত্রী সাতক্ষীরা গার্লস স্কুলের শিক্ষিকার মাধ্যমে ঘুষের টাকা লেনদেন করে থাকেন। কেউ তাকে ঘুষ প্রদানে অস্বীকার করলে তখন তিনি নিজেই শফিকুলের মাধ্যমে নামে শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসক বা তার নিজের বরাবর অভিযোগ দাখিল করিয়ে নেন। আর এসব তদন্ত করার নামে হাতিয়ে নেন লক্ষ লক্ষ টাকা। এদিকে এসএম ছায়দুর রহমানের দুর্নীতির অন্যতম সহযোগী শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। শফিকুল ইসলাম তার স্ত্রী কালিগঞ্জ রোকেয়া মনসুর মহিলা কলেজের বিএম শাখার ডেমোনেস্টেটর রেহেনা পারভীনকে ভুয়া সার্টিফিকেট ও জাল সইয়ের মাধ্যমে এমপিও ভুক্ত করিয়েছিলেন যা পরবর্তীতে ধরা পড়েছে। এজন্য শফিকুলের স্ত্রীকে কারিগরী অধিদপ্তরের ষ্মারক নং ৩৭.০৩.০০০০.০৯১.২০.০০৭.১৫.৮৭৬ তারিখ ৪/১০/২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ. এমপিও স্থগিত করা হয়েছে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা অফিসার এসএম ছায়দুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি  সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি সততা ও নিষ্ঠার সাথে আমার দায়িক্ত পালন করছি।