সাতক্ষীরা খাদ্য বিভাগের বিরুদ্ধে দুস্থদের মাঝে পোকা ধরা ও খাওয়ার অনুপযোগী গম বিতরণের অভিযোগ

0
347

ইয়ারব হোসেন:

পোকা ধরা ও খাওয়ার অনুপযোগী নিন্মমানের গম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গম খেতে না পেরে দুস্থরা হাঁস মুরগীকে খাইয়েছে। বেশির ভাগ মানুষ গম কম দামে বিক্রি করে দিয়েছে। ঈদ উপলক্ষে দুস্থ মানুষের মধ্যে সদর ও কলারোয়া উপজেলার খাদ্য বিভাগ এ গম বিতরণ করেছেন। সদর উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানাগেছে, ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ানে ২০ টন,ধুলিহার ২৩ টন, ঝাউডাঙ্গা ৩১ টন,বাঁশদাহ ১৯ টন, শিবপুর ১৭ টন,ফিংড়ী ৩২ টন,আঁগরদাড়ি ৩৫ টন, বৈকারি ১৭টন, ঘোনা ১৪ টন,কুশখালি ২০টন,আলিপুর ২৭ টন ,ভোমরা ২৪ টন,বল্লী ১৪ টন ,লাবসা ৩০টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প অফিস সূত্রে জানাগেছে, ব্রহ্মরাজপুর ১৫৬৩, ফিংড়ী ২২৩৯ ঝাউডাঙ্গা২৩৮৫, ঘোনা ১১১৯,ধুলিহার১৭৫৬,বল্লী ১১২৯, লাবসা২২৯৬, বৈকারি১৩১৮, আলিপুর ২০৬৩, শিবপুর১৩৩২ বাঁশদাহ ১৪৫৬,কুশখালি১৫৭৩ ভোমরা ১৮৫৫ ,আঁগরদাড়ি ২৬৮২ সহ ২৪ হাজার ৭৬৬জন দুস্থদের জন্য তালিকা প্রস্তুত করা হয়। কার্ডধারীদের ১০ কেজি করে গম দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে সদর ও কলারোয়া উপজেলা থেকে ঈদ উপলক্ষে দুস্থদের মধ্যে যে গম বিতরণ করা হয়েছে তা পুরাটায় পোকা ধরা। ডলা দিলে ধুলা হয়ে যাচ্ছে। অর্ধেক পাউডারের মত গুড়া বের হয়েছে। যে গম দেওয়া হয়েছে তা মুখে দেওয়া মত নয়ে। একবারে নিন্মমানের গম দেওয়া হয়েছে। অনেকে গম নিয়ে বাজারে বিক্রি করে দিয়েছে। যে সকল দূস্থরা গম নিয়ে এসেছে তারা খেত না পেরে হাঁস মুরগীকে খাইয়েছে। সদর উপজেলার হাছিমপুর গ্রামের রাশিদা খাতুন,মাজেদা খাতুন,আলেয়া হাছিনা,রাজবাড়ির গ্রামের মাছুরা অমিনুর রহমান জানান,ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ার পরিষদ থেকে যে গম দেওয়া হয়েছে তা মুখে দেওয়া যাচেছ না। গমের ভিতর থেকে এক ধররে পাউডারের মত গুড়া বের হচ্ছে। গমে পোকা ধরা ও খুবই নিন্মমানের। এর আগে এমন নিন্মমানের গম ও চাল দেওয়া হয়নি। দুস্থদের মধ্যে খারাপ গম দেওয়া উচিত হয়নি খাদ্য বিভাগের। ঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ফজলুর রহমান জানান, সদর উপজেলার খাদ্য অফিস থেকে যে গম দেওয়া হয়েছে তা মুখে দেওয়ার মত নয়। তার মধ্যে অর্ধেক গম আর বাকিটা পাউডার। দুস্থদের গম নিয়ে তারা খেতে পারবে না। পোকা ধরা। গমে কোন দানা নেই। গত কয়েক বছরের মধ্যে এত নিন্মমানের গম বিতরণ করা হয়নি। বাঁশদাহ ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন জানান, তার কিছু গম ভাল দিয়েছে। বাকিটা খুবই নিন্মমানের। পোকাধরা। তাতে গমের গুড়া। পাউডারের মতো। কলারোয়া উপজেলার গোডাউন কর্মকর্তা হাছান মাহমুদ জানান,গম গোডাউনে মজুত না থাকায় সবকটি ইউনিয়ানে গম বরাদ্দ দেওয়া যায়নি। পৌরসভা, কেঁড়াগাছি ও যুগিখালি ইউনিয়নে দুস্থদের মধৌ ৬৬ টনের মত গম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি গম নিন্মমানের কথা স্বীকার করে বলেন খুলনা থেকে তাদের কাছে দ্রত গম পাঠানো হয়েছে। ওই গম বিদেশ থেকে আমদানি করে নিয়ে আসা। যে গম হাতে পেয়েছেন সেটি তারা বরাদ্দ দিয়েছেন।সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা সুজিত কুমার মুখার্জী জানান,বিদেশ থেকে গম দ্রত এসেছে। খুলনা থেকে নিয়ে এসে আমরা সেই গম বিতরণ করা হয়েছে। গমে কিছুটা পোকা ছিল। তারা সময় না পাওয়ায় গমে কোন প্রকার ওষুধ দিতে পারনি। এ ছাড়া অনেক উপজেলায় গম সংকটরে কারণে দুস্থদের মধ্যে ঈদের আগে গম বিতরণ করা হয়নি।