সাতক্ষীরা কালিগঞ্জের নলতা মাদ্রাসা ভ্যেনুতে কক্ষ পরিদর্শক ও কর্মকর্তাদের হুমকি

0
119
নিজস্ব প্রতিনিধি :

সারাদেশে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার নানামুখী উন্নয়নের পাশাপাশি নকল ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে ২০১৮ সালের উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা গ্রহণের জন্য যখন চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করেছেন। ঠিক তখনি যশোর শিক্ষা বোর্ড প্রকাশিত সাতক্ষীরা জেলার মধ্যে নকলসহ দুর্নীতির দিক থেকে ১নং হওয়া কালিগঞ্জ উপজেলাধীন নলতা আহ্ছানিয়া মিশন রেসিডেন্সিয়াল কলেজ কেন্দ্র তথা তাদের শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেওয়া নলতা দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসা ভ্যেনুটিতে নানাভাবে দুর্নীতি অব্যাহত আছে।

আর পরীক্ষার হলে কক্ষ পরিদর্শক, যশোর বোর্ডের ভিজিলেন্স টিমের সদস্যরা বা উপজেলার ইউএনও প্রতিনিধিরা যেই থাকুক না কেন যারা নিয়মমাফিক দায়িত্ব পালন করেন তাদেরকে নলতা কলেজ কর্তৃপক্ষের সেট করা লোকজন বা কিছু দুর্নীতিবাজ অভিভাবকের হুমকি-ধামকি বা লাঞ্চনার শিকার হতে হচ্ছে। যেমনটি ঘটেছে ৭ এপ্রিল শনিবার সকালে ইংরেজি ২য় পত্র পরীক্ষায়। যশোর শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের নজরদারিতে থাকা নলতা কলেজ কেন্দ্র বিশেষ করে নলতা কলেজের শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেওয়া নলতা মাদ্রাসা ভ্যেনুটিতে চলমান উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় কক্ষ পরিদর্শক ও ভিজিলেন্স টিমের সদস্যদের তৎপর ভূমিকায় অবৈধ সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করে কিছুটা হলেও ব্যর্থ হওয়ায় পরীক্ষা শেষে নলতা মাদ্রাসার ১নং রুমে কাজী আলাউদ্দিন কলেজের সহকারী অধ্যাপক জয়দেব কুমার ঘোষের সাথে কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করা কাজী আলাউদ্দিন কলেজের অন্যতম শিক্ষক শংকর বিশ্বাসের উপর চড়াও হয় কিছু দুর্নীতিবাজ অভিভাবক কলেজ কর্তৃপক্ষের আশীর্বাদপুষ্ট কিছু উশৃঙ্খল ছেলে।

এ ব্যাপরে জানতে চাইলে শংকর বিশ্বাস জানান, নলতা মাদ্রাসা ভ্যেনুতে ১নং কক্ষে এইচএসসি ইংরেজি ২য় পত্র পরীক্ষায় আমার কলেজের সিনিয়র শিক্ষক জয়দেব কুমার ঘোষের সাথে কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করি। পরীক্ষা চলাকালীন আমার কক্ষের পরীক্ষার্থীরা হঠাৎ হঠাৎ এক অপরের খাতা দেখার জন্য হৈচৈ করতে থাকলে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে মাঝে মাঝে কয়েকজনের খাতা কয়েক মিনিটের জন্য রেখে আবার দিয়ে দেই। ভিজিলেন্স টিমের ২জন কর্মকর্তাও তৎপর ভূমিকায় ছিলেন। পরীক্ষা শেষ হওয়া মাত্রই খাতা কেন্দ্রে  থাকা অবস্থায় প্রথম দফায় আমার উপর তারা চড়াও হলে আমি বিষয়টি হল সুপার আব্দুল্লাহ স্যারকে জনালে তিনি সান্ত¦না জানালেও পরীক্ষার আহবায়ক নলতা কলেজের গনিত বিষয়ের এস এম মহসিন আলী স্যার আমাকে বলে আপনি ছেলে-মেয়েদের খাতা নিয়েছিলেন কেন? তাতে উচ্ছৃঙ্খল ছেলেরা ও অভিভাবকরা উৎসাহিত হয়ে ভিজিলেন্স টিমের সদস্য সখিপুর কলেজের একজন স্যারকে নিজ মোটরসাইকেলে নিয়ে নলতা কলেজ কেন্দ্রে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মাদ্রাসা ভ্যেনু থেকে প্রাচীরের বাইরে  যাওয়া মাত্রই একদল উচ্ছৃঙ্খল ছেলে ও কিছু অভিভাবক আমাদের গতি রোধ করে বলে আপনি ছেলেমেয়েদের খাতা কাড়ছিলেন কেন? এবং রুমের ফ্যান বন্ধ করছিলেন কেন? তখন আমি বলি রুমে আমরা ফ্যান বন্ধ করছিলাম এমন কেউ প্রমাণ দিতে পারবেন বললে কেউ প্রমাণ দিতে পারেনি। তবে কক্ষে ছেলেমেয়েদের হৈচৈয়ের কারণে ভিজিলেন্স টিমের সদস্যদের উপস্থিতিতে কয়েকজনের খাতা কয়েক মিনিট করে রেখে আবার দিয়েছিলাম। প্রয়োজনে ঐ রুমের দায়িত্বে থাকা আমার সিনিয়রের কাছে শুনতে পারেন বলে কৌশলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করি। ফলে বড় ধরণের ন্যাক্কারজনক ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাই।

কাজী আলাউদ্দিন কলেজের অনেক নীতিবান শিক্ষক আক্ষেপ করে বলেন, বিভিন্ন খারাপ সঙ্গে থেকে অনেক শিক্ষার্থী লেখাপড়া না করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে নকল করে পাস করতে চায়। তাদের কোনো শিক্ষকের খুব বেশি প্রয়োজন পড়ে না। তাই পরীক্ষার হলে ভালভাবে ডিউটি করলে খারাপদের সমস্যা হয়। আর এক ধরনের শিক্ষক তাদের সমর্থন করে। তাই আমরা বিবেকের তাড়নার এখন আর পরীক্ষায় ডিউটি করিনা। নলতা কেন্দ্রে পরীক্ষার পরিবেশ ভাল হলে তখন দেখবো।

যেহেতু নিয়ম আছে, যে কলেজের পরীক্ষার্থী সে কলেজে বসতে পারবে না বা যে কলেজের পরীক্ষার্থী সে কলেজের শিক্ষকরা তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। কিন্তু অনেকখানি নিয়ম বহির্ভুতভাবে আলাদা আলাদা কেন্দ্রের পরিবর্তে ভ্যেনুযুক্ত কেন্দ্র করে নলতা কলেজ বিগত কয়েকবছর পরীক্ষার হলে ইংরেজি ২টি পত্র, আইসিটি, সকল বহুনির্বাচনী অভিক্ষায় কলেজের পক্ষ থেকে উত্তর বলে দেয়া, প্রয়োজনবোধে পরীক্ষা শেষে মূল কেন্দ্রে খাতা নিয়ে বিশেষ বিশেষ খাতাগুলোর খালি বহুনির্বাচনী দাগের উত্তরপূরণ করে দেয়া, গ্রামার ঠিক করে দেয়াসহ নানা অভিযোগের কারণে যশোর শিক্ষাবোর্ড এবছর নলতা কলেজ কেন্দ্রটি (কেন্দ্র কোড নং ৪০৮) সাতক্ষীরা জেলার মধ্যে ১নং দুর্নীতিগ্রস্থ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারিতে রেখে সরকারের নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্নের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে দুর্নীতিবাজদের প্রতি। তারপরও বিভিন্ন কৌশল চালিয়ে যাচ্ছেন অত্র নলতা কেন্দ্রের কর্তা ব্যক্তিরা। যেমন- চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় নলতা কলেজের মূল কেন্দ্রে কাজী আলাউদ্দিন কলেজের পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছে। সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন নলতা কলেজের কর্মকর্তারা। আর নলতা আহ্ছানিয়া মিশন রেসিডেন্সিয়াল কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে নলতা দারুল-উলুম আলিম মাদ্রাসা ভ্যেনুতে। সেখানে কাজী আলউদ্দিন কলেজের আইসিটি বিষয়ের ইসরাফিল স্যার দায়িত্ব পালন করলেও বে-আইনিভাবে মূল ভূমিকায় আছেন নলতা কলেজের শিক্ষকরা। যাদের মধ্যে একজন হলেন নলতা কলেজের গণিত বিষয়ের প্রভাষক এস এম মহসিন আলী। যিনি পরীক্ষা কমিটির আহবায়ক। আর একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের সহকারি অধ্যাপক মো. আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী। যিনি আছেন হল সুপারের ভূমিকায়। যার কলেজের পরীক্ষার্থীদের নিকট সে কলেজের শিক্ষকদের যাওয়ার বিধান না থাকলেও নলতা কলেজের এস এম মহসিন আলী ও মো. আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী কিন্তু পিঁছিয়ে নেই। তারা বিভিন্ন অজুহাতে বে-আইনিভাবে নলতা মাদ্রাসা ভ্যেনুতে সার্বক্ষণিক অবস্থান করে কক্ষ পরিদর্শক তথা বাইরে থেকে আগত কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার কাজে ব্যস্ত থাকেন। নলতা কলেজের পিওনরাও কম যাচ্ছেন না। তাদের দায়িত্বের বাইরে বিভিন্ন অজুহাতে পরীক্ষা চলাকালীন হলের সামনে দিয়ে বা ক্ষেত্রবিশেষ ভিতরে অবাধে ঘুরে বেড়ান। আর যখন তারা নিজেদের পরীক্ষার্থীদের জন্য অবৈধ সুযোগ-সুবিধা আদায় করতে ব্যর্থ হন তখন সে সব সংবাদ বাইরে ছড়িয়ে পড়লে সৃষ্টি হয় নেক্কারজনক পরিস্থিতি।

আর নেক্কারজনক ঘটনা বা পরীক্ষা কেন্দ্রের নানা অনিয়মের কথা নিয়ে নলতা আহ্ছানিয়া মিশন রেসিডেন্সিয়াল কলেজ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অত্র কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তোফায়েল আহমেদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, নেক্কারজনক ঘটনা বা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আণীত সব অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত।

এদিকে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় নলতা কলেজ কেন্দ্র বিশেষ করে নলতা মাদ্রাসা ভ্যেনুতে দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য বাইরে থেকে আগত কোনো কর্মকর্তা যাতে হুমকি-ধামকির শিকার না হয়ে নকল ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের মাধ্যমে সরকারের মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে পারে তার জন্য অবশিষ্ট পরীক্ষাগুলোতে অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টিতে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী মহল।