সাতক্ষীরায় সনাতন ধর্মলম্বীরা পালন করছে বিশ্বকর্মা পূজা

68
1309

সচ্চিদানন্দদেসদয়:

আজ রবিবার সাতক্ষীরা জেলার সনাতন ধর্মালম্বীদের অনেকেই বিশ্বকর্মা পূজা পালন করছে। আর বিশ্বকর্মা পূজার মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে ভাদ্র মাস। বিশ্বকর্মা পূজো এলেই বাঙ্গালির মনে হয় দরজায় কড়া নাড়ছে দুর্গাপূজোৎসব। শুরু হয়েছে দুর্গা পূজার আনন্দ। পঞ্জিকা মতে বাংলা ভাদ্র মাসের শেষ দিন এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। ভোর থেকেই শুরু দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার আরাধনা। এক দিনের এই পুজাকে ঘিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের ঘরে ঘরে আনন্দের বন্যা বয়ে চলে। অস্ত্র ও নির্মাণের দেবতা বিশ্বকর্মা। কলকারখানা থেকে কারিগরি প্রতিষ্ঠানে আজ বিশ্বকর্মা পূজোর আনন্দ সর্বত্রই। একই সঙ্গে পাড়া-মহল্লার মোড়েও চলছে বিশ্বকর্মার আরাধনা। খাওয়া-দাওয়া, গান বাজনা তো আছেই। সবমিলিয়ে নিখাদ অবসর যাপন। হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী মতে- বিশ্বকর্মা ছিলেন দেবশিল্পী। বিষ্ণু পুরাণের মতে প্রভাসের ঔরসে বৃহস্পতির ভগিনীর গর্ভে বিশ্বকর্মার জন্ম হয়। বেদে পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বকর্মা বলা হয়েছে। বিশ্বকর্মা মূলত সৃষ্টিশক্তির রূপক নাম। সেই অর্থে ইনি পিতা, সর্বজ্ঞ দেবতাদের নামদাতা। ইনি সর্বমেধ-যজ্ঞে নিজেকে নিজের কাছে বলি দেন। ইনি বাচস্পতি, মনোজব, বদান্য, কল্যাণকর্মা, বিধাতা। ঋগবেদের মতে ইনি সর্বদর্শী ভগবান। এঁর চক্ষু, মুখমন্ডল, বাহু ও পা সর্বদিক বিদ্যমান। বাহু ও পায়ের সাহায্যে ইনি স্বর্গ ও মর্ত্য নির্মাণ করেন। ইনি শিল্পসমূহের প্রকাশক ও অলঙ্কারের চেষ্টা, দেবতাদের বিমান-নির্মাতা। এঁর কৃপায় মানুষ শিল্পপকলায় পারদর্শিতা লাভ করে। উপবেদ, স্থাপত্য-বেদেও ইনি প্রাসাদ, ভবন ইত্যাদির শিল্পী। ইনি দেবতাদের জন্য অস্ত্র তৈরি করেন। মহাভারতের মতে ইনি শিল্পের শ্রেষ্ঠ কর্তা, সহস্র শিল্পের আবিস্কারক, সর্বপ্রকার কারুকার্য-নির্মাতা। স্বর্গ ও লঙ্কাপুরী ইনিই নির্মাণ করেছিলেন। বিশ্বকর্মার কন্যার নাম ছিল সংজ্ঞা। ইনি এঁর সাথে সুর্যের বিবাহ দেন। সংজ্ঞা সুর্যের প্রখর তাপ সহ্য করতে না পারায়, ইনি সুর্যকে শানচক্রে স্থাপন করে তাঁর উজ্জলতার অষ্টমাংশ কেটে ফেলেন। এই কর্তিত অংশ পৃথিবীর উপর পতিত হলে, উক্ত অংশের দ্বারা বিশ্বকর্মা বিষ্ণুর সুদর্শনচক্র, শিবের ত্রিশূল, কুবেরের অস্ত্র, কার্তিকেয়ের শক্তি ও অন্যান্য দেবতাদের অস্ত্রশস্ত্রাদি নির্মাণ করেন। বলা হয়ে থাকে, শ্রীক্ষেত্রের প্রসিদ্ধ জগন্নাথমূর্তি বিশ্বকর্মা প্রস্তুত করেন। ভাদ্রমাসের সংক্রান্তিতে কলকারখানায় বেশ আড়ম্বরের সঙ্গে বিশ্বকর্মার পূজা অনুষ্ঠিত হয়। অন্যান্য দেব-দেবীর মতোই মূর্তি গড়ে অথবা ঘটে-পটে বিশ্বকর্মার পূজা করা হয়। বিশ্বকর্মা মূলত স্বর্ণকার, কর্মকার এবং দারুশিল্প, স্থাপত্যশিল্প, মৃৎশিল্প প্রভৃতি শিল্পকর্মে নিযুক্ত ব্যক্তিগণও নিজ নিজ কর্মে দক্ষতা অর্জনের জন্য বিশ্বকর্মার পূজা করে থাকেন। এ সময় প্রত্যেকের ঘরে বিশেষ খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা হয় এবং কোথাও কোথাও পূজার পরে ঘুড়ি ওড়ানো হয়।

68 COMMENTS