সাতক্ষীরায় মাথা কেটে যাওয়া নবজাতকের মৃত্যু

0
246

অনলাইন রিপোর্টঃ

সাতক্ষীরায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে এক প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশনের সময় মাথা কেটে যাওয়া সেই নবজাতকটি মারা গেছে। তার মৃত্যুর জন্য চিকিৎসকদের অবহেলাকেই দায়ী করেছেন নবজাতকের পরিবার । সোমবার (২০ আগস্ট) সকালে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে শিশুটির মৃত্যু হয়। শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, গত রবিবার রাত ৯টার দিকে শিশুটির অক্সিজেন মাস্ক খুলে দিয়ে তাকে খুলনায় পাঠানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশের কারণে সংগ্রাম প্রাইভেট ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে  শিশুটির মা সোমা খাতুনকে সোমবার জোর করে রিলিজ করে দেয়। তবে ক্লিনিকের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তা অস্বীকার করেন। প্রসূতি সোমা খাতুনের মামা আইয়ুব আলী অভিযোগ করে বলেন, ‘সোমা খাতুনকে সংগ্রাম হাসপাতালে রেখে ডাক্তারের পরামর্শে তার বাচ্চাটিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সদর হাসপাতালের চিকিৎসকদের অবহেলায় শিশুটি মারা গেছে। ’ তিনি বলেন,  ‘ নবজাতকের মাথা কেটে যাওয়া এবং সদর হাসপাতালে তার চিকিৎসায় অবহেলার বিষয়টি সাংবাদিকরা জেনে যান। এ কারণে ক্ষুব্ধ হন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক। সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার শামসুর রহমান রবিবার (২০ আগস্ট) রাতে রেগে গিয়ে শিশুটির মুখের অক্সিজেন মাস্ক খুলে দিয়ে খুলনায় নিয়ে যেতে বলেন। আমরা ডাক্তারকে বারবার অনুরোধ করার পরও তিনি আমাদের কথা না শুনে চলে যান। এরপর সোমবার সকালে বাচ্চাটি মরা যায়।’ সোমা খাতুনের স্বামী আবুল হোসেন বলেন, ‘সদর হাসপাতালের চিকিৎসকের অবহেলায় আমার বাচ্চাটি মারা গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংগ্রাম ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বলেছে- তোমরা এখনই হাসপাতাল থেকে চলে যাও। তোমাদেরকে আর এ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হবে না। তারা জোর করে  আমার স্ত্রীকে বের করে দেয়।’  তবে সংগ্রাম প্রাইভেট ক্লিনিকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাবের রেজা এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. শামসুর রহমান জানান, চিকিৎসকের অবহেলায় শিশুটি মারা যায়নি।’ শিশুটির অক্সিজেন মাস্ক কেন খুলে দেওয়া হয়েছিল জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘শিশুটি প্রায় দুই মাস আগে জন্ম নেয়। তার মাথায় সামান্য কাটা আছে। তবে তা গুরুতর নয়। পুষ্টিহীনতাই তার মূল সমস্যা। আমাদের এখানে এ ধরনের শিশুর চিকিৎসার সুব্যবস্থা নেই। সেজন্য  গতকাল (সোমবার) রাতেই শিশুটিকে ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেছি। কিন্তু শিশুটির পরিবার নিয়ে যায়নি।’ সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. তওহিদুর রহমান  বলেন,  ‘শিশুটি প্রি-ম্যাচিউরড ছিল।’ এ ধরনের শিশুকে কেন ইনকিউবেটরে রাখা হয়নি? এমন প্রশ্নের উত্তরে সিভিল সার্জন বলেন, ‘এটি সংশ্লিষ্ট ডাক্তাররাই  বলতে পারেন ।’ তিনি আরও বলেন, ‘অক্সিজেন মাস্ক খুলে শিশুটিকে এক বেড থেকে  অন্য বেডে স্থানান্তর করা হয়েছিল। শিশুর পরিবার  এটিকেই  ভেবেছে অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেওয়া হয়েছে।’ এ ব্যাপারে ডাক্তার সুদেষ্ণা বলেন, ‘ বাচ্চাটি মারা গেছে আমি শুনেছি। তবে অপুষ্টিজনিত কারণে মারা যেতে পারে।’