সাতক্ষীরায় চলছে গণহারে গ্রেফতার বানিজ্য : ওসির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

36
37507

স্টাফ রিপোর্টার :
সাতক্ষীরায় পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান। চলমান এ অভিযানে প্রতিদিনই গ্রেফতার হচ্ছে নাশকতাসহ বিভিন্ন মামলার আসামী। জুলাই, আগষ্ট ও সেপ্টেম্বর এই তিন মাসে গ্রেফতার হয়েছে ৩ হাজার ৪শ ৬৬জন।
জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, জেলাব্যাপী অভিযান চালিয়ে গত জুলাই মাসে ১ হাজার ২শ ৫৯জন, আগষ্ট মাসে ১ হাজার ১শ ৭১ জন ও সেম্পেম্বর মাসে ১ হাজার ৩৬ জন মোট ৩ হাজার ৪শ ৬৬ জন নাশকতাসহ বিভিন্ন মামলার আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের গ্রেফতারের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া এসব আসামীরা কারাগারে যায় কিনা বা কত আসামী থানা থেকে আদালতে প্রেরিত হয়েছে এ বিষয়টি জানার জন্য কোর্ট ইন্সপেক্টর মামুনুর রশিদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সঠিক সংখ্যা জানাতে পারেননি। তবে জর্জ কোর্টের এটিআই রাজেন্দ্র জানান, কত আসামী থানা থেকে এসেছে তার সঠিক সংখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়।
তবে সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের জেলার তুহিন কান্তি খান জানান, সোমবার পর্যন্ত কারাগারে বন্দির সংখ্যা ৯৭১ জন। এরা বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও আদালতে চলমান মামলার আসামি।
তিনি জানান, চার মাস আগেই কারাগারে বন্দির সংখ্যা ছিল ১৭শ থেকে ১৮শ। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে এসেছে।
তিনি আরো জানান, জেলা কারাগারের ধারণক্ষমতা মাত্র চারশ। এর মধ্যে পুরুষ ৩৬০। নারী ৪০। তবে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি থাকলেও কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলে তিনি জানান।
জেলাব্যাপী ৮টি থানার গ্রেফতার হওয়া আসামীদের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিলেন সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জর্জ আদালতের পিপি ওসমান গণি। তিনি জানান, পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার হওয়া এসব আসামীদের বিরুদ্ধে সুনিদৃষ্ট কোন অভিযোগ আনতে পারে না পুলিশ। যার ফলে এসব আসামীরা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে যায়। অধিকাংশ আসামীর মামলার কোন উপাদানই থাকে না। তাছাড়া নিরীহ মানুষকে গ্রেফতার করে পুলিশ টাকা নিচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, মামলার উপাদান না থাকার জন্য আসামীরা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে যায়। অনেককে কারাগারেই যেতে হয় না। এসব কারণে গ্রেফতার হওয়া আসামী আর জেলখানায় থাকা আসামীর সংখ্যা মিল থাকার কথা নয়।

satkhira-pic-3

একদিকে গণহারে গ্রেফতার আর গ্রেফতার হওয়া মানুষের বিরুদ্ধে সুনিদৃষ্ট অভিযোগ না থাকায় আদালত থেকে জামিন অন্যদিকে পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি জেলা আ.লীগ প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জেলা পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধে আহব্বান জানিয়েছে। সাতক্ষীরার কলারোয়া থানার থানার ওসি ইমদাদুল হক শেখের পর এবার চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরার আশাশুনি থানার ওসি গোলাম রহমানের বিরুদ্ধে। চাঁদার টাকা না পাওয়া মিথ্যে মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে এমন অভিযোগে সোমবার বেলা ২টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন আশাশুনি উপজেলার শাহনগর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শাহ গোলাম ইদ্রিসের ছেলে ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক মিজানুর রহমান মন্টু।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, নানার বাড়ির সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রহমান তার কাছে দুই দফায় এক লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে তিনি ওই জমিতে যেতে দিবেন না বলে হুমকি দেন। পরবর্তীতে দাবি টাকা না দেওয়ায় ২০ সেম্পেম্বও সকালে ওসি গোলাম রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে আমার বাড়িতে যায়। সেখানে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মা ও স্ত্রীকে গলা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। ওই সময় এএসআই রিয়াজ আহমেদ আমার বড় ছেলে মাহিম শাহকে মারধর করে। কনস্টেবল জাহাঙ্গীর ও মিজান ছোট ছেলে ফাহিম শাহকে লাথি মেরে খাটের ওপর থেকে ফেলে দেয়। এই ওসির নেতৃত্বে পুলিশের সদস্যরা ঘরের ভিতরে তোশকের নিচে থাকা ৭৬ হাজার টাকা, মটর সাইকেল, দুটি স্বর্ণের কানের দুল, তিনটি স্বর্ণের চেইন ও দুটি হাতের রুলি লুট করে নিয়ে যায়। এরপরও ক্ষ্যান্ত হয়নি ওসি গোলাম রহমান। অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করছেন। তিনি তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও ওসিকে অপসারণের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী জামায়াত নেতা মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষনার পর সাতক্ষীরায় শুরু হয় জামায়াত-শিবিরের তান্ডব। রক্তের খেলায় মেতে উঠা জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা কখনো প্রকাশ্য দিবালোকে আবার কখনো রাতের আধারে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে ১৬ আ.লীগ নেতাকমীকে। ২০১৩ সালের বছর জুড়ে চলা এ তান্ডবে শতাধিক মানুষের ঘরবাড়ি, দোকানপাট জ¦ালিয়ে দেয় তান্ডবে অংশগ্রহনকারীরা। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ব্যর্থতার দায়ে তৎকালীন পুলিশ সুপার মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেনকে পুলিশ হেড কোয়াটারে ক্লোজড করা হয়। বছরের শেষের দিকে ডিসেম্বরের ১৪ তারিখ নতুন পুলিশ হিসেবে চৌধুরী মজ্ঞুরুল কবির যোগদান করেন। পরদিন ১৫ ডিসেম্বর থেকে নতুন পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে শুরু হয় সহিংসতাকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান। বর্তমানে পুলিশ সুপার মোঃ আলতাফ হোসেনের নেতৃত্ব চলছে জেলা পুলিশের বিশেষ এ অভিযান।

36 COMMENTS

  1. It’s in fact very complex in this full of activity
    life to listen news on TV, thus I simply use world wide web for
    that purpose, and get the newest information.

  2. I will immediately grab your rss feed as I can not to find your email subscription hyperlink or e-newsletter service. Do you’ve any? Please permit me know in order that I may just subscribe. Thanks.

  3. Hello, i read your blog occasionally and i own a similar one and i was just curious if you get a lot of spam feedback? If so how do you protect against it, any plugin or anything you can recommend? I get so much lately it’s driving me crazy so any support is very much appreciated.

LEAVE A REPLY