সাতক্ষীরার প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যানের দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

0
146

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেনের ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদ করায় বাড়ি ফিরতে পারছেন না একজন আ’লীগ নেতা। সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ওই ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি চিংড়ী ব্যবসায়ী সোহরাব হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগে জাকির হোসেন মাত্র তিন বিঘা জমি ও ২ রুম বিশিষ্ট একতলা একটি বাড়ির মালিক ছিলেন। কিন্তু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর জোরপূর্বক  অন্যের জমি ও ঘের দখল, সরকারি জমি দখল করে বিক্রি এবং বিভিন্ন ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ করে কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরায় ২০ বিঘা জমি, খুলনায় জমিসহ বাড়ি এবং নাকনা নিজ গ্রামে বিশাল দোতালা বাড়ির মালিক। তার দখলকৃত সরকারি সম্পত্তির মধ্যে ৩৭ একর জমির কুড়িকাউনিয়া গড়িমহল জলমহল, সুভদ্রাকাটি ১১৬/৯৩০ দাগে ৩০ একর জমি সরকারকে ফাঁকি দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের নাম করে খন্ড খন্ড করে বিক্রির মাধ্যমে বছর ২০/২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে। এছাড়া ২০১১ সালে গৃহায়ন প্রকল্প কর্তৃক বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ইউনিয়নের ২/৩’শ লোকের কাছ থেকে ২০/৫২ হাজার করে টাকা আদায় করেন। কিন্তু ঘর পেয়েছে মাত্র ৫০/৬০ জন ব্যক্তি। কোন কাজ না করে শ্রীপুর ও কুড়িকাউনিয়া, হাড়খানা খাল খননের জন্য বরাদ্দকৃত ৭০ লাখ টাকা চেয়ারম্যান আত্মসাৎ করেছেন। কর্মসৃজন কর্মসূচির শ্রমকিদের দিয়ে তিনি ইউনিয়নের টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের কাজ করে সমূদয় টাকা আত্মাসাৎ করেছেন। ৪০ দিনের কর্মসূচির কাজ করিয়ে বিল দিয়েছেন মাত্র ২৯ দিনের। প্রতিটি শ্রমিকের কাছ থেকে ১৯’শ টাকা হারে ৩৬০ জনের কাছ থেকে ৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন চেয়ারম্যান জাকির হোসেন। নাকনা গ্রামের আশ্রয়ন প্রকল্পের মাঠ ভরাটের জন্য ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ করে খরচ করেছেন মাত্র ১০/১৫ লাখ টাকা। ইউনিয়নের ১ ও ২ নং ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নামে ৫’শ পরিবারের কাছ থেকে ৫’শ টাকা করে গ্রহণ করে আত্মসাৎ করেছেন। তিনি সুভদ্রাকাটি ১১৬/৯৩০ দাগে ২জন মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয় ভূমিহীনদের নামে ইজারা দেয়া খাসজমি নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা স্বত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন জাকির হোসেন। উক্ত তিনটি প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেয়ার নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। চেয়ারম্যান জাকির তার এসব অপকর্ম ঢাকতে জামায়াত-বিএনপি’র ক্যাডারদের নিয়ে এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছেন। তার এই বাহিনীর কাছে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তার নামে মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। চেয়ারম্যান জাকিরের এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করায় সে ও তার বাহিনীর সদস্যরা তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। ফলে তাদের ভয়ে তিনি গ্রামে ফিরতে পারছেন না। তিনি দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান জাকির ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হাত থেকে এলকারা সাধারণ মানুষকে রক্ষার জন্য পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্থক্ষেপ কামনা করেন।

LEAVE A REPLY